হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে ফ্লোটিলার কর্মীদের ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ

আমার দেশ অনলাইন

ছবি: রয়টার্স

গাজায় সহায়তা নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে ইসরাইলি বাহিনীর হাতে আটক হওয়া এবং পরবর্তীতে মুক্তি পাওয়া বহরের (ফ্লোটিলা) কর্মীরা গুরুতর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে আয়োজকরা অভিযোগ করেছেন। নির্যাতনের কারণে বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং অন্তত ১৫ জন ধর্ষণসহ যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছেন।

ইসরাইলের কারা কর্তৃপক্ষ অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং রয়টার্স স্বাধীনভাবে এ তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।

জার্মানি জানিয়েছে, তাদের কিছু নাগরিক আহত হয়েছেন এবং কিছু অভিযোগ বেশ গুরুতর, তবে তারা বিস্তারিত আর কিছু জানায়নি।

ইতালির একটি আইনি সূত্র জানিয়েছে, দেশটির কৌঁসুলিরা অপহরণ ও যৌন নিপীড়নসহ সম্ভাব্য অপরাধের বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছেন।

ইসরাইলি কারা কর্তৃপক্ষের একজন মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘উত্থাপিত অভিযোগগুলো মিথ্যা এবং সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’

তিনি আরো বলেন, ‘সমস্ত বন্দী ও আটককৃতদের আইন অনুযায়ী, তাদের মৌলিক অধিকারের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখে এবং পেশাদার ও প্রশিক্ষিত কারা কর্মীদের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকা এবং পেশাদার চিকিৎসা মূল্যায়ন অনুযায়ী চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে।’

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী এই সংক্রান্ত প্রশ্নগুলো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠালে, তারা আবার তা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেয়।

গত মঙ্গলবার গাজা উপত্যকায় সহায়তা সামগ্রী নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকারী স্বেচ্ছাসেবকদের বহরটিকে থামাতে আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় ৫০টি জাহাজ থেকে ৪৩০ জনকে গ্রেপ্তার করে ইসরাইলি বাহিনী।

কারাগারে আটক কয়েকজন কর্মীকে নিয়ে ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রীর উপহাস করার ভিডিও ফুটেজ আন্তর্জাতিকভাবে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেওয়ার পর, এই নির্যাতনের অভিযোগ বন্দীদের প্রতি আচরণ নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ আরো বাড়াবে।

ইতালি জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্যরা ওই মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে আলোচনা করছেন।

'গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা'র আয়োজকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে একটি পোস্টে লিখেছেন, ‘ধর্ষণসহ অন্তত ১৫টি যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে। কাছ থেকে রবার বুলেট ছুড়ে মারা হয়েছে। অসংখ্য মানুষের হাড় ভেঙে দেওয়া হয়েছে।’

তারা আরো বলেনে, ‘বিশ্বের নজর যখন আমাদের অংশগ্রহণকারীদের দুর্ভোগের দিকে, তখন আমরা জোর দিয়ে বলতে চাই যে এটি ফিলিস্তিনি জিম্মিদের ওপর ইসরাইলের প্রতিদিনকার বর্বরতার একটি সামান্য ঝলক মাত্র।’

সহায়তা বহর থেকে আটক হওয়া ইতালীয় অর্থনীতিবিদ লুকা পোগি রোমে পৌঁছানোর পর রয়টার্সকে বলেন, ‘আমাদের নগ্ন করা হয়েছিল, মাটিতে ফেলে লাথি মারা হয়েছিল। আমাদের অনেকের ওপর টেজার গান ব্যবহার করা হয়েছে, কেউ কেউ যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন এবং কাউকে কাউকে আইনজীবীর সাথে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হয়নি।’

ইতালির আইনি সূত্রটি জানিয়েছে, রোমের কৌঁসুলিরা অপহরণ, নির্যাতন এবং যৌন নিপীড়নের মতো সম্ভাব্য অপরাধের তদন্ত করছেন এবং ইতালি ফিরে আসা কর্মীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করবেন।

জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘ইস্তাম্বুলে পৌঁছানোর পর জার্মান কর্মীদের সাথে সাক্ষাৎকারী কনস্যুলার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং তাদের চিকিৎসা পরীক্ষা চলছে।’

জার্মান নাগরিকদের প্রতি মানবিক আচরণ একটি ‘পরম অগ্রাধিকার’ উল্লেখ করে মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা স্বাভাবিকভাবেই সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা আশা করি, কারণ উত্থাপিত কিছু অভিযোগ খুবই গুরুতর।’

সহায়তা বহর থেকে ৩৭ জন ফরাসি নাগরিকের প্রত্যাবর্তনের সমন্বয়কারী সাব্রিনা চারিক রয়টার্সকে জানিয়েছেন, পাঁচজন ফরাসি অংশগ্রহণকারীকে তুরস্কে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের কারো কারো পাঁজরের হাড় বা মেরুদণ্ড ভেঙে গেছে। কেউ কেউ ধর্ষণসহ যৌন সহিংসতার বিশদ অভিযোগ করেছেন বলেও তিনি জানান।

অ্যাক্টিভিস্ট গ্রুপের একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে আদ্রিয়েন জুয়ান নামের এক ফরাসি নাগরিক তার পিঠ এবং বাহুতে থাকা আঘাতের দাগ দেখিয়েছেন। পোস্টটি রয়টার্স দ্বারা যাচাইকৃত।

কর্মীরা জানান, কিছু নির্যাতন সমুদ্রে ইসরাইলি নৌবাহিনী কর্তৃক তাদের পথরোধ করার পর ঘটেছিল এবং কিছু ঘটেছে ইসরাইলে গ্রেপ্তার ও কারাবাসের পর।

গত বৃহস্পতিবার ইসরাইল থেকে বহিষ্কার করার পর বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের কর্মীরা তুরস্ক থেকে ফ্লাইটে নিজ দেশে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘৪৪ জন স্প্যানিশ কর্মী শুক্রবার ইস্তাম্বুল থেকে মাদ্রিদ ও বার্সেলোনাগামী ফ্লাইটে পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে চারজন আঘাতের জন্য চিকিৎসা নিয়েছেন বলে তিনি জানান।

গত বৃহস্পতিবার বেন-গভির কারাগারে বন্দিদের মাটিতে চেপে ধরে রাখার বিষয়টিকে উপহাস করে একটি ভিডিও পোস্ট করার পর পশ্চিমা সরকারগুলো ক্ষোভ প্রকাশ করে।

সুইডেনে ন্যাটোর বৈঠকের ফাঁকে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি বলেন, ‘তিনি তার সমস্ত ইইউ সমকক্ষদের সাথে যোগাযোগ রাখছেন, যাতে বেন-গভিরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য একটি দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।’

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

এএম

‘সান ডিয়েগোর মসজিদটি সব সময় নিরাপদ মনে হতো’

আরাগচির সঙ্গে পাকিস্তান সেনাপ্রধানের বৈঠক

লেবাননে ইসরাইলি বিমান হামলায় নিহত ১০

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি রক্ষায় মরিয়া মধ্যস্থতাকারীরা

কাতারের মধ্যস্থতায় খুলছে হরমুজ প্রণালি

সংবেদনশীল অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনীতি

ফের ইরান যুদ্ধ শুরু না করতে ট্রাম্পকে অনুরোধ তিন মুসলিম দেশের

গবেষণা কেন্দ্রে হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলল ইরান

ইরানে ধ্বংসস্তূপ থেকে ৭ হাজার ২০০ জনকে জীবিত উদ্ধার

মধ্যপ্রাচ্যে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে মার্কিন বাহিনী