ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধের যেকোনো চুক্তির শর্ত হিসেবে দেশটি যেন সব ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করে— এমন দাবি তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার ঘোষণা করেছেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না এবং এই লক্ষ্যেই দেশটিতে হামলা চালানো হয়েছে।
তবে ইরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, ইরানের এই কর্মসূচি সম্পূর্ণ বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সাধারণত ৩ থেকে ৫ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য ৯০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম প্রয়োজন।
জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্যমতে, ইরানের কাছে বর্তমানে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ প্রায় ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে। তাত্ত্বিকভাবে, এটিকে আরো পরিশোধিত করা হলে অন্তত ১০ থেকে ১১টি পারমাণবিক বোমা তৈরি করা সম্ভব।
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধে ইরানের অস্বীকৃতির মূলে রয়েছে ‘অপ্রসারণ চুক্তি’ (এনপিটি)। ইরানের দাবি, এই চুক্তি অনুযায়ী যেকোনো স্বাক্ষরকারী দেশ কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার অধীনে বিদ্যুৎ, চিকিৎসা ও শিল্পের মতো শান্তিপূর্ণ কাজে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার রাখে।
২০১৫ সালে ওবামা প্রশাসনের আমলে ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে এক চুক্তিতে ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখতে রাজি হয়েছিল। তবে ২০১৮ সালে ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ওই চুক্তিটিকে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে তা থেকে বেরিয়ে যান।
ট্রাম্পের দাবি ছিল, ওই চুক্তি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা আঞ্চলিক প্রভাব রুখতে ব্যর্থ হয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা
এএম