হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌ ও বিমান শক্তি জোরদার, বাড়ছে উত্তেজনা

গাজী শাহনেওয়াজ ও সাইদুর রহমান রুমী

ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে পারস্য উপসাগর অঞ্চলে নৌ ও বিমানবাহিনীর শক্তি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে একটি বড় নৌবহর পাঠানো হচ্ছে।

মার্কিন সামরিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, একটি বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সম্পদ আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাবে। এর অংশ হিসেবে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরী দক্ষিণ চীন সাগর থেকে দিক পরিবর্তন করে উপসাগরীয় অঞ্চলের পথে যাত্রা শুরু করেছে।

এই স্ট্রাইক গ্রুপে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রবাহী আর্লি বার্ক শ্রেণির ডেস্ট্রয়ার রয়েছে, যা দূরপাল্লার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। নৌযানগুলোতে ব্যবহৃত এজিস কমব্যাট সিস্টেম আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিরোধে অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত।

কেন যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?

বৃহস্পতিবার এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, “আমরা ইরানের ওপর নজর রাখছি। একটি বিশাল বাহিনী সেখানে যাচ্ছে। হয়তো সেটি ব্যবহার করতে নাও হতে পারে।” তাঁর এই মন্তব্যের পরই নতুন করে উত্তেজনার আশঙ্কা জোরালো হয়।

এর আগে গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র বড় পরিসরে সামরিক সমাবেশ ঘটিয়েছিল, যার কিছুদিন পর ইসরাইলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতের সময় ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটে।

এরই মধ্যে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন দক্ষিণ চীন সাগর থেকে দিক পরিবর্তন করে মধ্যপ্রাচ্যের পথে যাত্রা শুরু করেছে। এই স্ট্রাইক গ্রুপে রয়েছে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রবাহী আর্লি বার্ক শ্রেণির ডেস্ট্রয়ার, যা ইরানের ভেতরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

এই নৌযানগুলোতে রয়েছে অত্যাধুনিক এজিস কমব্যাট সিস্টেম, যা ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রসহ আকাশপথের হুমকি প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়।

যুক্তরাষ্ট্র কি আবার ইরানে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে?

সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভে ট্রাম্প প্রকাশ্যে সমর্থন দিলেও পরে সামরিক হুমকির ভাষা কিছুটা নরম করেন। তবে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরান থেকে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ক্ষমতা ছাড়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, “আমি সে বিষয়ে যেতে চাই না, তবে তারা জানে আমরা কী চাই।”

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কতটা বিস্তৃত?

দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। বর্তমানে সেখানে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র অন্তত ১৯টি স্থায়ী ও অস্থায়ী সামরিক ঘাঁটি পরিচালনা করছে, যার মধ্যে বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত উল্লেখযোগ্য।

এদিকে ইরানও কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। দেশটির সামরিক ও বিপ্লবী গার্ডের শীর্ষ কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত সব মার্কিন ঘাঁটি বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও পাল্টা জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।

উত্তেজনার প্রভাবে আকাশপথেও সীমিত প্রভাব পড়েছে। কয়েকটি ইউরোপীয় এয়ারলাইন্স সাময়িকভাবে দুবাই ও তেল আবিবগামী কিছু ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করেছে।

এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। অবৈধভাবে ইরানি তেল পরিবহনের অভিযোগে নয়টি জাহাজ ও তাদের মালিকদের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানে বিক্ষোভ দমনের ঘটনায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ নিন্দা প্রস্তাব পাস করেছে।

আল জাজিরার বিশ্লেষণ

এসআর

তুরস্কের আকাশসীমায় চতুর্থ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, প্রতিহত করল ন্যাটো

ইরান যুদ্ধে সামরিক লক্ষ্য অর্জনই প্রধান উদ্দেশ্য: রুবিও

ইরানি রাষ্ট্রদূত লেবানন ছাড়বেন না: তেহরান

লেবাননে মানবিক সংকট: তিন সপ্তাহে ২০ শতাংশ মানুষ বাস্তুচ্যুত

২৪ ঘণ্টায় ১১ ক্ষেপণাস্ত্র ও ২৭ ড্রোন প্রতিহত করেছে আমিরাত

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপ এগিয়ে নিতে চীন যাচ্ছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

হরমুজে জাহাজ চলাচলে নিয়ন্ত্রণ ও টোল আদায়ে নতুন ব্যবস্থা আনছে ইরান

কুয়েতের পানি শোধনাগারে হামলার জন্য ইসরাইলকে দায়ী করল ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইসরাইলি কর্মকর্তাদের বাসভবনকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ ঘোষণা ইরানের

আরব লীগের পরবর্তী মহাসচিব হচ্ছেন নাবিল ফাহমি