ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনার মধ্যে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নেতানিয়াহুকে আসন্ন নির্বাচনে জিততে সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকিও দিয়েছেন তিনি। এমন এক সময়ে ট্রাম্পের এই অবস্থান সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে নতুন করে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার খবর প্রকাশিত হয়েছে।
রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে ‘মহান যোদ্ধা প্রধানমন্ত্রী এবং শান্তির জন্য আরো বড় অংশীদার’ বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ইরানকে সামরিক ও আর্থিকভাবে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। ইরান তার আচরণ পরিবর্তন না করলে যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই বাকি কাজ শেষ করবে।
ট্রাম্প লেখেন, ‘ইসরাইলের নেতা যদি ভুল ব্যক্তি হন, অর্থাৎ বিবি (নেতানিয়াহু) ছাড়া অন্য কেউ হন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেরাই এই কাজ করতে হবে। আর আমি তা করতে আগ্রহী নই।’
নেতানিয়াহুর প্রশংসা করে ট্রাম্প আরো বলেন, ইসরাইলের ভেতর থেকেও বিরোধিতাসহ নানা প্রতিকূলতার মুখে নেতানিয়াহু শক্ত, সাহসী ও বিচক্ষণ নেতৃত্ব দিয়েছেন। এত কিছুর পরও তিনি টিকে আছেন এবং বরং আরো শক্তিশালী হয়েছেন।
ট্রাম্পের ভাষায়, নেতানিয়াহু যে চাপের মধ্যে ছিলেন, তাতে সাধারণ মানুষ ভেঙে পড়তেন। কিন্তু তিনি আরো শক্তিশালী হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের কাছ থেকে এমন অংশীদারত্বই প্রত্যাশা করে, যে দেশটির জন্য ওয়াশিংটন অনেক কিছু করেছে।
পোস্টের শেষ দিকে ট্রাম্প বলেন, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী পদে আসন্ন নির্বাচনে নেতানিয়াহুর প্রতি তার ‘সম্পূর্ণ ও নিঃশর্ত সমর্থন’ রয়েছে।
তিনি আরো লেখেন, ‘বিবি নেতানিয়াহু কখনো আপনাদের হতাশ করবেন না।’
ইসরাইলে আগামী ২৭ অক্টোবর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের আসন পূর্বাভাস অনুযায়ী, রোববার পর্যন্ত গাদি আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টির নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট সবচেয়ে বেশি আসন পেতে পারে। তাদের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ৫২। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট পেতে পারে ৫১টি আসন। ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটের মোট আসন ১২০টি। এখন পর্যন্ত কোনো দল বা জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে বলে পূর্বাভাস নেই।
ট্রাম্পের এই সমর্থন বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এর আগে তিনি নেতানিয়াহুর নির্বাচনি প্রচারে সরাসরি সমর্থন দিতে অনীহা দেখিয়েছিলেন। চলতি মাসের শুরুর দিকে টাইম সাময়িকী তাকে দুবার প্রশ্ন করেছিল, নেতানিয়াহুকে আরেক মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া উচিত কি না। দুইবারই ট্রাম্প সরাসরি উত্তর না দিয়ে ইসরাইল ও ওয়াশিংটনে নিজের জনপ্রিয়তা এবং ইসরাইলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের প্রসঙ্গ তোলেন।
বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থি সংবাদমাধ্যম নিউজম্যাক্স তাকে ইসরাইলের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের পরিকল্পনা আছে কি না, জানতে চায়। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা চায় আমি এতে জড়িত হই। হ্যাঁ, তারা তা-ই চায়।’
নেতানিয়াহুকে বিশ্বাস করেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমি কাউকেই বিশ্বাস করি না।’
যুক্তরাজ্যের গবেষণাপ্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা কর্মসূচির পরিচালক সানাম ভাকিল মনে করেন, ট্রাম্পের এই সমর্থন রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, দুই নেতার মধ্যে কয়েক মাস ধরে টানাপোড়েন চলার পর তিনি এ ঘোষণা দিলেন।
আলজাজিরাকে ভাকিল বলেন, এর মাধ্যমে নেতানিয়াহু ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজেকে অপরিহার্য হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ পাবেন। তবে নির্বাচনে এই সমর্থনের প্রভাব অতিরঞ্জিত করে দেখার সুযোগ নেই। নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব এবং ইরান যুদ্ধের পরিণতি নিয়ে ইসরাইলের ভোটারদের মধ্যে বিভক্তি রয়েছে। ট্রাম্পের সমর্থন নেতানিয়াহুর বিদ্যমান সমর্থকদের আরও সংহত করতে পারে। কিন্তু তাঁর নেতৃত্বের অতীত রেকর্ড নিয়ে বড় প্রশ্নগুলোর সমাধান করবে না।
লন্ডনের কিংস কলেজের স্কুল অব সিকিউরিটি স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ ট্রাম্পের ঘোষণাকে নেতানিয়াহুর জন্য ‘রাজনৈতিক উপহার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, নির্বাচনী প্রচারে নেতানিয়াহু যখন চাপে রয়েছেন, তখন এই সমর্থন তাঁর কাজে আসতে পারে।
তবে ক্রিগও মনে করেন, ট্রাম্পের সমর্থন নির্বাচনের ফল পুরোপুরি বদলে দেবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। তার ভাষায়, নেতানিয়াহুর সমস্যাগুলো কাঠামোগত। ডানপন্থি দলগুলোর বিভক্তি, অতি-রক্ষণশীল ইহুদি ভোটারদের হতাশা এবং ৭ অক্টোবরের ঘটনার উত্তরাধিকার তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ট্রাম্পের সমর্থন লিকুদ পার্টির অনাগ্রহী ভোটারদের ভোট দিতে উৎসাহিত করতে পারে। কাছাকাছি প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচনে এতে এক বা দুটি আসন বাড়তে পারে। কিন্তু যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেতানিয়াহুর নেই, ট্রাম্প তা তৈরি করে দিতে পারবেন না।
ইরান যুদ্ধ ঘিরে নতুন হামলার জল্পনা
নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের সমর্থনের বড় অংশজুড়েই রয়েছে ইরান যুদ্ধের প্রসঙ্গ। এমন সময় এই সমর্থন এল, যখন বেশ কয়েকজন বিশ্লেষক মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নভেম্বরের শুরুর দিকের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অথবা পরে ইরানে আবার হামলা চালানোর কথা বিবেচনা করতে পারেন।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মধ্য দিয়ে এই সংঘাত শুরু হয়। বর্তমানে যুদ্ধ কার্যত স্থবির অবস্থায় রয়েছে। তবে সামরিক উত্তেজনা কমেনি।
যুদ্ধ শুরুর পর ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়। একসময় বিশ্বের মোট অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করে। দুই পক্ষই নিজেদের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে এই নৌপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলা চালায়।
গত মাসে মার্কিন নৌবাহিনী ক্রমবর্ধমানসংখ্যক তেলবাহী ট্যাংকারকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাওয়ায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন যুদ্ধ শুরুর আগের পর্যায়ে ফিরে গিয়েছিল। কিন্তু চলতি মাসের শুরুতে জাহাজে ইরানের ধারাবাহিক হামলার কারণে এই প্রণালি দিয়ে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি আবার কমে যায়।
সোমবার সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের ভবিষ্যৎ সরবরাহের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৭ ডলার ৫৭ সেন্টে দাঁড়ায়। শুক্রবার দাম সাময়িকভাবে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারে উঠেছিল, যা গত ১৯ মে-র পর সর্বোচ্চ। সোমবার দাম কিছুটা কমে আসে।
গত মাসে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ওয়াশিংটনের কাছে একটি প্রস্তাব দিয়েছিল তেহরান। সাত দিনের মধ্যে প্রণালিটি চালু করার প্রস্তাবের সঙ্গে ইরান সাতটি শর্ত দিয়েছিল। এর মধ্যে ছিল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া। কিন্তু তেহরানের শর্তগুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো সমাধানে না আসায় আলোচনা ব্যর্থ হয়।
রোববার ইরানের সংবাদমাধ্যমকে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, প্রস্তাবটি এখনো কার্যকর রয়েছে। ওয়াশিংটন তেহরানের শর্ত মেনে নিলে ছয় দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব। এর পরদিন থেকেই আলোচনা আবার শুরু হতে পারে।
তবে একই দিন রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি অভিযোগ করেন, কারাগারে যাওয়া এড়াতে নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রকে সঙ্গে নিয়ে ইরানে আবার হামলা চালাতে চান।
আরাগচি লেখেন, ‘গতবার যখন আপনারা কাজ শেষ করতে চেয়েছিলেন, তখন ইরান আরও শক্তিশালী হয়ে বেরিয়ে এসেছিল। আবার ভাগ্য পরীক্ষা করতে চান? স্বাগতম। তবে সাবধান, আমাদেরও কিছু অসমাপ্ত কাজ রয়েছে।’
তিনি আরো অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহু নিজের কারাবাস এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রকে আরেকটি যুদ্ধে ঠেলে দিচ্ছেন। এর পরিণতি ইসরাইলের জন্য কী হবে, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের জন্য কী হবে, তা নিয়েও তিনি ভাবছেন না।
সামরিক চাপ দিয়ে সমঝোতায় রাজি করাতে চান ট্রাম্প?
কিংস কলেজের গবেষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগের মতে, নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানিয়ে ট্রাম্প মূলত ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগের কৌশলকে শক্তিশালী করতে চাইছেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে তিনি কূটনীতির বদলে যুদ্ধকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
ক্রিগ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ইরানকে যথেষ্ট চাপে ফেলছে। ওয়াশিংটন মনে করছে, সময় তাদের পক্ষেই রয়েছে। ট্রাম্পের হিসাব হলো, যুক্তরাষ্ট্রকে আগে বড় কোনো ছাড় দিতে না হলেও একপর্যায়ে ইরান পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ছাড় দিতে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে রাজি হবে।
ক্রিগের মতে, নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের সমর্থন এই কৌশলের পেছনে থাকা সামরিক হুমকিকে আরও জোরালো করেছে। তবে কূটনীতির পথ এখনো বন্ধ হয়নি। ট্রাম্প এখনো এমন একটি চুক্তি চান, যেটিকে তিনি নিজের বিজয় হিসেবে তুলে ধরতে পারবেন।
তবে ঝুঁকিও রয়েছে। তেহরান ক্রমেই মনে করতে পারে, আলোচনায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে হলে তাদের সংঘাত আরও বাড়াতে হবে।
চ্যাথাম হাউসের সানাম ভাকিলের মতে, ট্রাম্পের ঘোষণায় ইসরাইলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা আবারও স্পষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দুই দেশের যৌথ সামরিক অভিযানের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে এই অবস্থান ট্রাম্পের জন্য যুদ্ধ থেকে দূরত্ব বজায় রাখা কিংবা যুক্তরাষ্ট্রকে অনিচ্ছাসত্ত্বেও যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া পক্ষ হিসেবে তুলে ধরা কঠিন করে তুলবে।
ভাকিল বলেন, ট্রাম্প প্রকাশ্যেই ইসরাইলের সঙ্গে অংশীদারত্ব এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের দায় নিজের কাঁধে নিচ্ছেন। তবে এই সমর্থনের অর্থ এই নয় যে দুই নেতা ইরানে আরেকটি অভিযান চালানোর বিষয়ে একমত হয়েছেন। যুদ্ধ শুরুর জন্য প্রথমে কে সবচেয়ে বেশি চাপ দিয়েছিলেন, সেই প্রশ্নেরও মীমাংসা হয়নি।
তেহরানের দৃষ্টিতে ট্রাম্পের বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের লক্ষ্যগুলোর মধ্যে কার্যকর কোনো পার্থক্য নেই—এমন ধারণাকে আরো জোরদার করবে বলে মনে করেন ভাকিল। তবে নেতানিয়াহু ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যেতে ট্রাম্পের অনাগ্রহের ইঙ্গিতকে ওয়াশিংটনের আরেকটি যুদ্ধ শুরুর সীমিত আগ্রহের প্রমাণ হিসেবেও ব্যাখ্যা করতে পারে ইরান।
মার্কিন নির্বাচনের পর বাড়তে পারে ঝুঁকি
ট্রাম্প বলেছেন, নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তিনি ইরানে হামলা চালাবেন না। তবে দেশটির কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটের আগেই ইরানে নতুন করে হামলা শুরুর পরিকল্পনা তৈরি করেছে পেন্টাগন।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস মার্কিন ও ইসরাইলি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানায়, দুই দেশের নির্বাচনের আগে ইরানে বড় ধরনের নতুন সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
তবে ইরান এমন কোনো হামলা না চালালে, যার জবাব দিতে যুক্তরাষ্ট্র বাধ্য হয়, সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নতুন করে হামলা চালানোর সম্ভাবনা এখনো কম বলে মনে করেন ক্রিগ।
তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বিপজ্জনক সময় শুরু হতে পারে ৩ নভেম্বরের পর, যখন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের রাজনৈতিক বাধাগুলো আর থাকবে না। দুই দেশের সামরিক বাহিনীই সেই সম্ভাবনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।’
ক্রিগের মতে, তাৎক্ষণিকভাবে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো হরমুজ প্রণালিতে সংঘাত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে রাজনৈতিকভাবে প্রস্তুত হওয়ার আগেই ট্রাম্প বা নেতানিয়াহুকে সামরিক পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।
সব মিলিয়ে, নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তবে এই সমর্থন থেকেই দুই নেতা নতুন সামরিক অভিযান চালানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ এখনো নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী হিসাব এবং ইরানের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতিই সংঘাতের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এএম