হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

ইয়েমেনের মোখা শহর দখল করল ইরান সমর্থিত হুথিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইয়েমেনের রাজধানী সানায় বৃহস্পতিবার টহল দেন হুথি যোদ্ধারা

ইয়েমেনে সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। দেশটির কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগরের বন্দরনগরী মোখা দখলে নিয়েছে তারা।

মোখা দখলের ফলে ইরান সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী বাব আল-মান্দাব প্রণালির নিয়ন্ত্রণের আরো কাছে পৌঁছে গেল। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি মোখা থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। এটি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে বিবেচিত।

গত এক সপ্তাহ ধরে ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকায় হুথিদের সামরিক অভিযানে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্যানুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে তাইজ, পশ্চিম উপকূল, আল-জাওফ, মারিব ও ধালিয়া এলাকায় সংঘর্ষে অন্তত ১৯৪ জন নিহত এবং ৮৮০ জন আহত হয়েছেন। এতে দেশটির দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধ নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে হুথিরা জানিয়েছেন, তারা সৌদি আরবের দিক থেকে নতুন করে ৪০টিরও বেশি হামলার শিকার হয়েছে। এছাড়া মক্কা চুক্তিতে থাকায় সৌদিতে হামলার জবাবে জোট কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ ব্যাপারে এখনো আলোচনা শুরু হয়নি।

সানা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষণা ব্যবস্থাপক ইয়াজিদ আল-জেদ্দাউয়ি বলেন, তাইজের পাহাড়ি এলাকা ও পশ্চিম উপকূল হুথিদের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। তারা কৌশলগত উঁচু এলাকা দখলের পাশাপাশি মোখা ও তাইজের মধ্যকার রাস্তা বিচ্ছিন্ন করতে এবং পশ্চিম উপকূলের সরকারি বাহিনীকে তাইজ সামরিক অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বাধা দিতে চাইছে।

ইয়েমেনের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও লেখক ফুয়াদ মুসেদ আলজাজিরাকে বলেন, পশ্চিম উপকূল ও তাইজের যুদ্ধক্ষেত্রগুলোর কৌশলগত গুরুত্বের মূল কারণ হলো এগুলো বাব আল-মান্দেবের কাছাকাছি। বাব আল-মান্দেব একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ নৌপথ, যা লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ হিসেবে বিবেচিত।

মুসেদ বলেন, হুথিরা গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের আরো কাছে যেতে চায়, যাতে তারা সামুদ্রিক নৌ চলাচলের ওপর হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। এ ধরনের পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো, হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দেবের ওপর ইরানের প্রভাব বজায় রাখা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে এগুলোকে চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা।

এদিকে, মারিব ও আল-জাওফ ফ্রন্টেও যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। উত্তরের তেলসমৃদ্ধ মারিব সরকারের শক্ত ঘাঁটি। সেখানে হুথিদের অগ্রগতি হলে উত্তরাঞ্চলে সরকারের অবস্থান দুর্বল হতে পারে। একই ভাবে সৌদি আরবের সীমান্তবর্তী আল-জাওফে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। ধালিয়া ফ্রন্টেও সাম্প্রতিক লড়াই বেড়েছে। হুথি নিয়ন্ত্রিত উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে কৌশলগত প্রবেশপথ হওয়ায় এ এলাকার নিয়ন্ত্রণ যুদ্ধের গতিপথে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: আলজাজিরা ও বিবিসি

ইরানের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছে মক্কা জোটের প্রতিনিধিরা

নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেভাবে মিয়ানমারে পৌঁছায় ইরানের জ্বালানি

ইসরাইলের নির্বাচনে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

সৌদির তেল স্থাপনায় ফের হামলা হুথিদের

রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দরে ফের হামলা হুথিদের

হুথিদের সুড়ঙ্গ ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ধ্বংসের দাবি সৌদি জোটের

মার্কিন সহায়তায় হরমুজ দিয়ে ১৫০ কোটি ব্যারেলের বেশি তেল রপ্তানি উপসাগরীয় দেশগুলোর

নেতানিয়াহু বিদায় নিলেই কি শান্তি ফিরবে মধ্যপ্রাচ্যে

হুমকি দিয়ে ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটলেন ট্রাম্প

দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করতে অস্ত্র প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন তিন কোটি ইরানি, আছেন নারীরাও