৩০ জানুয়ারি রাত নামতেই দেশে ও বিদেশে ইরানিদের মধ্যে যুদ্ধের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে আসন্ন মার্কিন সামরিক হামলার গুজব। সেই আতঙ্ক আর উদ্বেগ এখনো কাটেনি। শুকনো খাবার, পানি এবং প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম মজুত করছেন অনেকে। খবর মিডল ইস্ট আইয়ের।
রাজধানী তেহরানের বাসন্দিা মিলাদ ৩০ জানুয়ারির রাত সম্পর্কে বলেন, ‘আমি হামলার জন্য অপেক্ষা করতে থাকি। সকাল পর্যন্ত আমি ঘুমাতে পারিনি।’
৬৮ বছর বয়সি শোহরেহ প্রতিদিন সকালে পূর্ব তেহরানে তার বাড়ির কাছে একটি পার্কে ব্যায়ামের জন্য যান। ৩১ জানুয়ারি সকালে যখন তিনি বাড়ি ফিরে আসেন তখন বলেন, ‘আজ, আমার বন্ধুরা বলছিল রাতেই হামলা হবে।’
সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় অনেক বাসিন্দা বোমাবর্ষণের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে নিজেদের বাড়ির জানালার কাচ স্কচটেপ বা বিশেষ কায়দায় সিল করে দিচ্ছেন।
বাসিন্দাদের মতে, বোমা হামলা শুরু হলে সরকার সমর্থক আর বিরোধী পক্ষের মধ্যে কোনো তফাত থাকবে না; সবাই একইভাবে বিপদে পড়বে। এই বাস্তবতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে বেঁচে থাকার উপায় এবং জরুরি প্রস্তুতির নানা পরামর্শ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
অনেকেই অন্তত ১০ দিনের শুকনো খাবার, পানি এবং প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম মজুত করছেন। এমনকি বয়স্ক ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তরা তিন মাসের অগ্রিম ওষুধ কিনে রাখছেন।
২৭ বছর বয়সি ছাত্র সোরুশ যুদ্ধের সময় ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র থেকে বাঁচতে তার পরিবারের সঙ্গে উত্তর ইরানের একটি শহরে চলে আসেন। তিনি বলেন, সেই সময়ের মতো আতঙ্ক এখন দেখা যাচ্ছে না, তবে প্রতিদিনের কথোপকথনে আরেকটি যুদ্ধের ভয়।
তিনি বলেন, “১২ দিনের যুদ্ধের সমষ্টিগত আতঙ্কের মতো পরিবেশ নেই। মনে হচ্ছে মানুষ মানসিকভাবে প্রস্তুত।”
সোরুশ মনে করেন, ইরানিদের জীবন দেশটির নেতাদের এবং পশ্চিমা শক্তির জন্য একটি খেলায় পরিণত হয়েছে। তিনি বাজি ওয়েবসাইট পলিমার্কেটের দিকে ইঙ্গিত করেন, যেখানে অনেকেই ৩১ জানুয়ারি রাতে মার্কিন হামলা নিয়ে হাজার হাজার ডলার বাজি ধরে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের জীবন এবং আমাদের মৃত্যু বিনোদনে পরিণত হয়েছে।’
আরএ