হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

ট্রাম্পের ওপর ক্ষুব্ধ ইসরাইল

আমার দেশ অনলাইন

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: আল-জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান দূরত্ব এ সপ্তাহে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্বর্তী চুক্তির পর প্রধান ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত বিভিন্ন নিবন্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইসরাইলকে তার সবচেয়ে বড় শত্রুর কাছে পরিত্যাগ করার অভিযোগ আনা হয়েছে। যৌথভাবে শুরু করা ইরান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত এই সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) শর্তাবলি নিয়ে ইসরাইলের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিশ্বাসঘাতকতার অনুভূতি তৈরি হয়েছে।

ইসরাইলের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক ‘ইসরাইল হায়োম’-এ প্রকাশিত একটি সম্পাদকীয়তে ট্রাম্পের ওপর তীব্র আক্রমণ করে শিরোনাম করা হয়েছে—‘আপনি সর্বকালের সেরা প্রেসিডেন্ট হতে পারতেন, কিন্তু আপনি ব্যর্থ হলেন’।

ট্রাম্পের অন্যতম বড় দাতা মিরিয়াম অ্যাডেলসনের মালিকানাধীন এই পত্রিকায় প্রকাশিত নিবন্ধে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একটি ‘খুনি ও নিষ্ঠুর সন্ত্রাসী সরকারের কাছে আত্মসমর্পণের চুক্তি’ সই করার অভিযোগ আনা হয়েছে। ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে লেখা চিঠির আদলের এই নিবন্ধে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার দেশের জন্য ‘অপমান’ বয়ে এনেছেন এবং একটি নতুন যুদ্ধের ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছেন।

এতে আরো বলা হয়, ‘সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মুখের চওড়া হাসি সেই ব্যক্তির প্রতি তীব্র উপহাস ধারণ করে, যিনি ওবামার চুক্তিটিকে ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ চুক্তি বলে আখ্যা দিয়েছিলেন।’

বেন গুরিয়ন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক হাগাই রাম বলেন, ট্রাম্প কিছুদিন আগেও ইসরাইলে ‘সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব’ ছিলেন, কিন্তু এখন তিনি ‘খলনায়কে’ পরিণত হয়েছেন।

মূলধারার গণমাধ্যমগুলো এই চুক্তিকে ‘ইরানি ফাঁদ’ হিসেবে অভিহিত করায় ইসরাইলিদের মধ্যে আমেরিকার প্রতি এই তীব্র ক্ষোভ ও ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ অনুভূতি তৈরি হয়েছে।

১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতন, বিশেষ করে গাজা উপত্যকায় কয়েক দশকের অবরোধ ও হামলার পরও আমেরিকা সব সময় ইসরাইলকে সমর্থন দিয়ে এসেছে। তবে এবারের মতো বড় বিরোধ আগে কখনো দেখা যায়নি। ইসরাইলের অধিকাংশ মানুষ ইরানকে তাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি মনে করে।

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ ইসরাইলি রাজনীতিবিদেরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দ্বারপ্রান্তে রয়েছে এবং হিজবুল্লাহর মতো মিত্রদের নিয়ে তারা ইসরাইল ধ্বংসের অপেক্ষায় আছে।

অথচ ইসরাইলকে সম্পূর্ণ বাইরে রেখে সম্পাদিত এই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, গত মার্চের শুরুতে লেবাননে শুরু করা আক্রমণসহ সব ধরনের লড়াই অবিলম্বে বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে।

এছাড়া উভয় পক্ষকে লেবাননের ‘আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব’ রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিতে বলা হয়েছে, যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বর্তমানে ইসরাইলের দখলে রয়েছে।

চুক্তির এই শর্তগুলো ইসরাইলের জনগণ ভালোভাবে নেয়নি। গত বৃহস্পতিবার ইসরাইলের ‘চ্যানেল ১২’ টিভির এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ১১ শতাংশ ইসরাইলি মনে করেন যে তারা এই যুদ্ধে ‘জয়ী’ হয়েছেন। অন্যদিকে, বিশাল বড় অংশ অর্থাৎ ৭১ শতাংশ ইসরাইলি জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষা করতে পারবে বলে তারা আর বিশ্বাস করেন না।

জনগণের পাশাপাশি ইসরাইলি সরকারের অভ্যন্তরেও এই নিয়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নেতানিয়াহু এখনো এই চুক্তির বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি, তবে লেবাননে ইসরাইলের অব্যাহত হামলা ইঙ্গিত করে যে তিনি এই চুক্তি মানতে বাধ্য নন। তার ক্যাবিনেটের কট্টর ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এবং জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভির প্রকাশ্যে এই চুক্তির নিন্দা করেছেন।

বেন গভির এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, ‘আমেরিকানদের প্রতি যথাযথ সম্মান রেখেই বলছি, ইসরাইলকে পুরো বিশ্বের কাছে স্পষ্ট করতে হবে যে আমাদের সন্তানদের রক্ত এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা সস্তা নয়। পুরো লেবানন পুড়িয়ে দেওয়া উচিত।’

পরবর্তীতে নীতিমালার লঙ্ঘনের কারণে এক্সে তার এই পোস্টটি সীমিত করা হয়।

ইসরাইলের এই প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন কর্মকর্তারা বেশ বিরক্ত হয়েছেন। গত বুধবার জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন নেতানিয়াহু লেবানন হামলা নিয়ে ‘একটু বেশি উত্তেজিত’ হয়ে পড়েছেন।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইসরাইলি সমালোচকদের আরো কড়া জবাব দিয়েছেন। নেতানিয়াহুর ক্ষোভের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ভ্যান্স বলেন, গাজায় ইসরাইলের হামলা নিয়ে পুরো বিশ্ব যখন তাদের নিন্দা করছে, তখন ‘বিশ্বের একমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ট্রাম্পই এই মুহূর্তে ইসরাইলের প্রতি সহানুভূতিশীল’।

তিনি আরো বলেন, ‘আমি যদি ইসরাইল সরকারের ক্যাবিনেট সদস্য হতাম, তবে বিশ্বের একমাত্র শক্তিশালী মিত্রকে এভাবে আক্রমণ করতাম না।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ওরি গোল্ডবার্গ এই পরিস্থিতিকে সাধারণ কোন্দল না বলে একটি বড় ‘ফাটল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, মার্কিন নেতাদের এই সমালোচনা সঠিক, কারণ ইসরাইলই মূলত তাদের এই যুদ্ধে টেনে এনেছে এবং নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে ব্যবহার করেছেন।

এদিকে পরিস্থিতি আরো জটিল আকার ধারণ করছে। শনিবার লেবাননে ইসরাইলের অব্যাহত হামলার কারণে ইরান আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। নিউইয়র্কে নিযুক্ত সাবেক ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত অ্যালন পিনকাস বলেন, এখানে দুটি বিষয় ঘটছে-একদিকে ট্রাম্পের অন্ধ সমর্থকরা তাদের নেতাকে এমন একটি কঠিন যুদ্ধে টেনে আনার জন্য নেতানিয়াহুকে দায়ী করার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর সমর্থকরা লেবানন যুদ্ধ থেকে বের হতে পারছেন না এবং ওবামার আমলের চেয়েও শক্তিশালী ইরানের সঙ্গে করা মার্কিন চুক্তিকে মেনে নিতে পারছেন না।

তিনি মন্তব্য করেন, ‘মূলত যুদ্ধটা ভুল ছিল বলেই চুক্তিটাও খারাপ হয়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা

এএম

‘গাজার যুদ্ধবিরতি’ ফিলিস্তিনিদের নয়, ইসরাইলের নিরাপত্তার স্বার্থে কার্যকর: বিশ্লেষণ

বৈঠকে লেবানন সংঘাতই হবে প্রধান আলোচ্য বিষয়: ইসমাইল বাঘাই

ইরানে স্থল অভিযান হবে আত্মঘাতী মিশন

লেবাননে গত তিন দিনে ৬ ইসরাইলি সেনা নিহত, আহত ২০-এর বেশি

দেড় মাস পর খারগ দ্বীপ থেকে ফের তেল রপ্তানি শুরু করল ইরান

সুইজারল্যান্ড পৌঁছেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

যুক্তরাষ্ট্রের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়েই শেষ হলো ইরান যুদ্ধ

সুইজারল্যান্ড পৌঁছালেন জেডি ভ্যান্স, হতে পারে চুক্তি

ইরান যুদ্ধে ঐক্য, ইরান যুদ্ধেই বিভক্তি

ভাইয়ের পর ইসরাইলি হামলায় নিহত আলজাজিরার ফটোসাংবাদিক