গত জুনের মাঝামাঝি সময়ে লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে তথাকথিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও এখনো শত শত বাস্তুচ্যুত মানুষ তাদের নিজেদের ঘরে ফিরতে পারছেন না। ইসরাইলি বাহিনীর ক্রমাগত দখলের কারণে দক্ষিণ লেবাননের মাজদাল জুন গ্রামের ২৫০ জনেরও বেশি বাসিন্দা টায়ার শহরের একটি পরিত্যক্ত স্কুলে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
টায়ার শহরের মেয়র ইউসেফ শিহিমি আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, তার নিজের পরিবারসহ মোট ৭৪টি পরিবার বর্তমানে ওই স্কুলে অস্থায়ীভাবে বসবাস করছে।
গত কয়েক দিনে দক্ষিণ লেবাননের লাখ লাখ মানুষ তাদের নিজ নিজ গ্রামে ফিরে যেতে পারলেও, দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কিছু অংশে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর অবৈধ উপস্থিতির কারণে এখনো বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
মাজদাল জুন গ্রামের বাসিন্দা হায়দার দারউইশ তার ক্ষোভ ও আকুতি প্রকাশ করে বলেন, "আমরা শুধু চাই এই পরিস্থিতির অবসান ঘটুক এবং আমরা আমাদের মাটিতে ফিরে যাই। আমাদের জমির পরিমাণ কতটুকু তা বড় কথা নয়, ছোট্ট এক টুকরো জমি হলেও চলবে। কিন্তু এভাবে শরণার্থী হয়ে বেঁচে থাকার কষ্ট আর সহ্য হচ্ছে না।"
অবকাঠামো ধ্বংস ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ
গত সপ্তাহে ইসরাইলি সেনাবাহিনী মাজদাল জুন গ্রামে একটি বড় ধরনের নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ঘটায়। ইসরাইলের দাবি, তারা হিজবুল্লাহর ব্যবহার করা ২০০ মিটার (৬৫৬ ফুট) দীর্ঘ একটি টানেল বা সুড়ঙ্গ ধ্বংস করেছে। তবে এই দাবির সপক্ষে তারা স্পষ্ট কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি।
এমনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের এই ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেছে। বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করার মাধ্যমে ইসরাইল সেখানে স্পষ্টত যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত করছে বলে অভিযোগ তুলেছে সংস্থাগুলো।
এসআর