ইরানের সামরিক প্রতিরোধ কৌশল যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন হামলার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষক আলেকজান্দ্রু হুদিস্তেয়ানু। তার ভাষায়, গত কয়েক মাসের সংঘাত থেকে শিক্ষা নিয়ে তেহরান এমন একটি ‘সজারু কৌশল’ গড়ে তুলেছে, যার লক্ষ্য হলো প্রতিপক্ষের জন্য হামলার মূল্য এত বেশি করে তোলা যে তারা আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ঝুঁকি বিবেচনা করতে বাধ্য হয়।
হুদিস্তেয়ানু জানান, যুক্তরাষ্ট্রের আরো একটি বিমানবাহী রণতরী মধ্যপ্রাচ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তার ধারণা, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগেই এটি ওই অঞ্চলে পৌঁছাতে পারে।
রোববার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে তিনটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী অবস্থান করলে ইরানের ওপর সামরিক চাপ বাড়ানোর সক্ষমতা ওয়াশিংটনের আরও বৃদ্ধি পাবে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে নতুন করে বেশ কিছু সামরিক বিকল্প তৈরি হবে।
তার মতে, তিনটি রণতরীর সঙ্গে থাকা বিমানবহর দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা যুদ্ধকালীন অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম। এর পাশাপাশি নতুন রণতরীটির সঙ্গে যুক্ত হতে যাচ্ছে মার্কিন মেরিন বাহিনীর একটি ‘এক্সপেডিশনারি ইউনিট’ বা বিশেষ অভিযান দল।
হুদিস্তেয়ানু বলেন, এতে ট্রাম্প প্রশাসনের হাতে সামরিক চাপ বাড়ানোর আরও সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে কোনো আলোচনা বা কূটনৈতিক সমাধানে যাওয়ার আগে সামরিক শক্তির প্রদর্শনের মাধ্যমে ইরানকে চাপ দেওয়ার কৌশল নিলে এই সক্ষমতা কাজে লাগতে পারে।
তবে গত সাত মাসের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে ইরানও নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে বলে মনে করেন তিনি। এ সময়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তেহরান ‘পর্কুপাইন স্ট্র্যাটেজি’ বা ‘সজারু কৌশল’ অনুসরণ করছে।
এই কৌশলের ধারণা হলো, সামরিকভাবে তুলনামূলক দুর্বল পক্ষ সরাসরি শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে পরাজিত করার বদলে এমন প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তুলবে, যাতে হামলা চালালে আক্রমণকারীকে অত্যন্ত বড় মূল্য দিতে হয়। অর্থাৎ প্রতিপক্ষকে পুরোপুরি পরাজিত করা নয়, বরং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি ও ঝুঁকি এতটাই বাড়িয়ে দেওয়া, যাতে হামলা থেকে বিরত থাকাই তার কাছে বেশি যুক্তিসঙ্গত মনে হয়।
ইরানের ক্ষেত্রে এই কৌশল যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে একটি প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করছে বলে মনে করছেন হুদিস্তেয়ানু।
এমএমআর