আল জাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্কের কার্যক্রম এবং দেশটিতে তাদের কার্যালয় বন্ধের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরো ৯০ দিন বাড়িয়েছে ইসরাইল। দেশটির যোগাযোগমন্ত্রী শ্লোমো কারাহির স্বাক্ষর করা এবং রোববার ঘোষণা দেয়া এই আদেশে নিষেধাজ্ঞার এই মেয়াদ বাড়ানো হয়।
২০২৪ সালের মে মাসে, গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ যখন তুঙ্গে, তখন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভা ইসরাইলে আল জাজিরার কার্যক্রম বন্ধ করার পক্ষে ভোট দেয়। এর কয়েক সপ্তাহ আগে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে একটি আইন পাস করা হয়। এতে ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ হিসেবে বিবেচিত বিদেশি সম্প্রচারমাধ্যম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়ার অনুমতি দেয়া হয়।
একই বছরের সেপ্টেম্বরে, ইসরাইলি বাহিনী অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লা শহরে আল জাজিরার অফিসেও হামলা চালায়, সরঞ্জাম ও নথিপত্র জব্দ করে এবং নেটওয়ার্কের অফিস বন্ধ করে দেয়।
গত বছরের ডিসেম্বরে ইসরাইলের পার্লামেন্ট ২০২৪ সালে পাস করা আইনটির মেয়াদ আরো দুই বছরের জন্য বাড়ানোর প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়। এটি ‘আল-জাজিরা আইন’ নামে পরিচিতি।
জেরুজালেম ও রামাল্লায় আল জাজিরা অ্যারাবিকের ব্যুরো প্রধান ওয়ালিফ আল-ওমারি বলেন, ইসরাইলি যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে বলা হয়েছে, দেশটির নিরাপত্তা পরিষেবা এবং সামরিক বাহিনী তাদের সম্প্রচারকে ‘ইসরাইলের নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর’ বলে বিশ্বাস করে।
বহু বছর ধরে আল জাজিরা ইসরাইলের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়ে আসছে। ২০১৭ সালে, নেতানিয়াহু জেরুজালেমে তাদের অফিস বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেন এবং ২০২১ সালে ইসরাইলি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে গাজায় তাদের অফিস ভবনটি ধ্বংস হয়ে যায়।
গাজায় ইসরাইলি হামলায় নিহত ২০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি সাংবাদিকের মধ্যে অনেকেই আল জাজিরার সাংবাদিক।
২০২২ সালের মে মাসে, আল জাজিরার সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনারা গুলি করে হত্যা করে।
আরএ