হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির শঙ্কায় সতর্ক অবস্থানে উপসাগরীয় দেশগুলো

দ্য গার্ডিয়ান

ইরানের জব্দ করা ৬০০ কোটি ডলারের বেশি সম্পদ ছাড়ের বিষয়ে কাতারের মধ্যস্থতায় চলছে পরোক্ষ আলোচনা। এই অর্থ ছাড়ের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরুর পথ তৈরি হতে পারে। তবে ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা উপসাগরীয় দেশগুলো সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে। আগামী মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই এ বিষয়ে সমঝোতা হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে আলোচনায় অগ্রগতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় উপসাগরীয় দেশগুলোর কর্মকর্তারা ‘সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির’ জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

রোববার কাতারের রাজধানী দোহায় এ আলোচনা অব্যাহত থাকে। এতে মধ্যস্থতা করছে কাতার। দেশটি ইরানের জব্দ করা ৬০০ কোটি ডলারের বেশি সম্পদ ছাড়ের বিষয়ে সমঝোতার চেষ্টা করছে। এই অর্থ ছাড়ের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে পুনরায় আলোচনা শুরু হতে পারে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ বলেছেন, নতুন করে উত্তেজনা বাড়ানো ইরান কিংবা তার প্রতিবেশী কোনো দেশের স্বার্থেই নয়। তবে পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে তার জন্যও প্রস্তুতি রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা আগেও যেমন দেখিয়েছি, এবারও সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছি।’

গারগাশ আরো বলেন, ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, দেশটি তাদের প্রতিবেশী। দীর্ঘস্থায়ী সংকটে ইরান জড়িয়ে পড়ুক, তা তারা চান না।

এদিকে হরমুজ প্রণালির কাছে পাকিস্তানগামী কাতারের একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী (এলএনজি) জাহাজে শুক্রবার অজ্ঞাতপরিচয় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলেও কাতারের মধ্যস্থতা অব্যাহত রয়েছে। হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই তেহরান জাহাজটিকে সরাসরি অনুমতি ও নিরাপদে চলাচলের ছাড়পত্র দিয়েছিল।

দুই পক্ষের মধ্যে আস্থার সংকট কাটাতে কাতার এমন একটি পরিকল্পনায় সমঝোতার চেষ্টা করছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া ও পরমাণু আলোচনা শুরুর প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা যায়। এ প্রক্রিয়ার সময়সীমা সাত দিন থেকে কমিয়ে দুই দিনে আনতে সম্মত হয়েছে ইরান।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যেন অন্য পথের পরিবর্তে কূটনীতিকে বেছে নেয়, সেটিই তাঁর প্রত্যাশা। ওয়াশিংটনের ‘যুক্তিবোধের’ ওপর নির্ভর করে ইরান প্রতিরক্ষা ও কূটনীতি—দুই পথের জন্যই প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও জানিয়েছেন আরাগচি।

দোহার মধ্যস্থতামূলক আলোচনায় সরাসরি অংশ নিচ্ছেন না আরাগচি। সোমবার তাঁর তুর্কমেনিস্তান যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে ইরানের অন্য কূটনীতিকেরা দোহার আলোচনায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন।

এর আগে শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতার বড় একটি অংশ ধ্বংস করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এখনো এক বা দুটি লক্ষ্যবস্তুতে ব্যবস্থা নেওয়া বাকি রয়েছে। হামলা হলে পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা ‘ভালোভাবেই চলছে’ বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরানকে খুব একটা নির্ভরযোগ্য মনে হয় না।

শনিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, কূটনৈতিক সমাধানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে। অন্যদিকে ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ি জানান, আলোচনা পুনরায় শুরুর বিষয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কাছ থেকে একটি চিঠি পেয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যের ‘সুরে’ ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ করেছেন বলেও জানান রেজায়ি। তবে চিঠির জবাব এখনো দেননি তিনি।

শনিবার আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, তেলবাহী জাহাজ চলাচলে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ তুলে নেওয়া, ইরানের সম্পদ ছাড়ের পথে বাধা বন্ধ করা এবং দেশটির তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলে দুই দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান।

তবে ইরানের পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার আলী নিকজাদ আবারও জানিয়েছেন, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসতে রাজি নয় তেহরান। তিনি বলেন, ‘আমাদের শত্রুদের বুঝতে হবে, ইরানি জনগণ যেকোনো পরিস্থিতিতে বা চাপের মুখেও পরমাণু ইস্যুতে আলোচনা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বিষয়ে আলোচনার জন্য এই মহান জাতি শত্রুদের যথেষ্ট সুযোগ দিয়েছিল। কিন্তু বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনার কিছু অংশে অবৈধ বোমা হামলার মুখে পড়তে হয়েছে।’

এদিকে ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান রেজায়ি দাবি করেছেন, ট্রাম্প এমন এক যুদ্ধের চাপে রয়েছেন, যার আন্তর্জাতিক প্রভাব ভিয়েতনাম যুদ্ধের চেয়েও বিস্তৃত। শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে তিনি বলেন, ‘আজ ট্রাম্প যেখানেই যান, তাঁকে জবাব দিতে হয়—কেন তিনি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে এমন কোনো পরিবার নেই, যারা ইরানের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট চাপের মুখে পড়েনি।’

দ্য গার্ডিয়ান-এর কূটনৈতিক সম্পাদক প্যাট্রিক উইনটুরের প্রতিবেদন অবলম্বনে।

গাজা ও লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে অনুভূতিহীন হয়ে পড়েছে বিশ্ব: ইরান

ইসরাইলের রাজনৈতিক গতিপথ বদলে দেওয়ার ঐতিহাসিক সুযোগ আরব জোটের

সৌদিতে হুথিদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, প্রতিহতের দাবি

টানা ১০ দিনের ধ্বংসযজ্ঞ শেষে হেবরন ছাড়ল ইসরাইলি বাহিনী

নতুন যুদ্ধের শঙ্কা বাড়ছেই, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার ইচ্ছা নেই ইরানের

দক্ষিণ লেবাননে নতুন সড়ক নির্মাণ করছে ইসরাইল

এক দিনে ৫০০ হুথি যোদ্ধা ও কমান্ডার হতাহতের দাবি

অনিবার্য পতনের মুখে ইসরাইল, সাবেক সেনা কমান্ডারের সতর্কবার্তা

ইরানে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে ছড়িয়ে পড়বে ইউরোপেও

ইরানের নেতাদের হত্যা করে ‘বেশি দূর’ এগিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প