সৌদি-সমর্থিত ‘ভাড়াটে বাহিনীর’ বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক সাফল্যের দাবি করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি। গোষ্ঠীটির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি বলেছেন, অভিযানে সৌদির শত শত ভাড়াটে সেনা নিহত ও আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে হুদাইদাহ ও তাইজ প্রদেশের প্রায় ৫ হাজার ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা ‘মুক্ত’ করা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
শুক্রবার বিকেলে টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে সারি এসব দাবি করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনি সেনা ও ‘পপুলার কমিটি’র মিত্র যোদ্ধারা দুই প্রদেশের ছয়টি জেলা থেকে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীকে হটিয়ে দিয়েছে।
‘আল্লাহ শক্তি ও শাস্তিদানে সর্বশ্রেষ্ঠ’ নামে পরিচালিত বড় সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে এসব সাফল্য এসেছে বলে জানান সারি।
হুথি মুখপাত্রের দাবি, তাদের সশস্ত্র বাহিনী ও মিত্ররা সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর সাতটি ডিভিশনকে পরাজিত করেছে। এসব ডিভিশনের অধীনে ছিল ৩৮টি ব্রিগেড। অভিযানে আরো অনেককে বন্দি করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর পরিচালিত বন্দিশালায় অমানবিক পরিস্থিতিতে আটক বিপুলসংখ্যক বন্দিকেও হুথি যোদ্ধারা মুক্ত করেছে বলে জানান সারি।
হুথি মুখপাত্র আরো দাবি করেন, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট ৩২টি অভিযান চালিয়েছে। এসব অভিযানে সৌদি বাহিনীর অনুপ্রবেশকারী নয়টি বিমান শনাক্ত করে ভূপাতিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সারি হুথি সশস্ত্র বাহিনীর নিহত ও দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। দেশ ও মাতৃভূমি রক্ষায় নিহত সদস্যদের ‘বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগের’ প্রশংসা করেন তিনি।
এদিকে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল নিয়েও অবস্থান স্পষ্ট করেছেন হুথি মুখপাত্র। তিনি বলেন, সৌদি আরবের জাহাজ ছাড়া সব ধরনের জাহাজের জন্য লোহিত সাগর দিয়ে চলাচল এখনো উন্মুক্ত রয়েছে। তবে সৌদি আরবের পণ্যবাহী জাহাজের ওপর নৌ অবরোধ কার্যকর রয়েছে।
ইয়েমেনের ওপর আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে এবং অবরোধ পুরোপুরি প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত ‘অবরোধের জবাবে অবরোধ’ নীতি বহাল থাকবে বলেও জানান সারি। তার হুঁশিয়ারি, এই শর্ত মানা না হলে সৌদি সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে। আগ্রাসন বাড়লে তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাল্টা হামলাও বাড়ানো হবে।
এর আগে চলতি বছরের ২০ জুলাই হুথি নিয়ন্ত্রিত সানা সরকার ইয়েমেনের ওপর ‘অন্যায় ও নিপীড়নমূলক অবরোধের’ প্রতিক্রিয়ায় সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণার কথা জানায়। এরপর থেকে লোহিত সাগরে সৌদি আরবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জাহাজ লক্ষ্য করে একাধিক সফল অভিযান চালানোর দাবি করে আসছে হুথি।
ইয়েমেনের সংঘাতে সৌদি আরবের সরাসরি সম্পৃক্ততা শুরু হয় ২০১৫ সালের মার্চে। ওই সময় সৌদি আরব ও তার মিত্ররা ইয়েমেনের ওপর অবরোধ আরোপ করে এবং দেশটিতে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ সংঘাতে হাজার হাজার ইয়েমেনি প্রাণ হারিয়েছেন।
সূত্র: প্রেস টিভি
এএম