ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার অবস্থান ও সংবেদনশীল তথ্য ‘শত্রুরাষ্ট্রের’ কাছে পাচারের অভিযোগে অন্তত ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।
রোববার (১২ এপ্রিল) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসএনএন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ‘ভাড়াটে’ হিসেবে কাজ করছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনা হয়েছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, আটককৃতরা দেশটির সেবা খাত ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থাপনার অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে সরবরাহ করে আসছিলেন।
অভিযান চলাকালীন তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিক ডিভাইস, স্যাটেলাইট সরঞ্জাম এবং অস্ত্রশস্ত্র জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এসএনএন।
উল্লেখ্য, গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ১২ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর থেকেই ইরানে গুপ্তচরবৃত্তি বিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সংঘাতের জেরে এর আগেও অনেক ব্যক্তিকে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
ইরানের সম্প্রতি সংশোধিত গুপ্তচরবৃত্তিবিরোধী আইন অনুযায়ী, এ ধরনের অপরাধে অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। নতুন এই আইনে দোষী সাব্যস্ত হলে অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ড এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার সুযোগ রয়েছে।
বিগত কয়েক বছর ধরেই আঞ্চলিক অস্থিরতার জেরে ইসরাইল ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে রয়েছে। আজকের এই গণগ্রেপ্তারের ঘটনা সেই উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করল।
সূত্র : আলজাজিরা