ইরানে যুদ্ধ বন্ধ করতে তেহরানকে সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রাশিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরানের জন্য রাশিয়া তার সাধ্যের মধ্যে সবকিছু করতে প্রস্তুত।
বৃহস্পতিবার তুর্কমেনিস্তানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকের পর এ কথা বলেন তিনি।
বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মধ্য এশিয়ার দেশ তুর্কমেনিস্তানে কমনওয়েলথ অব ইনডিপেনডেন্ট স্টেটসের (সিআইএস) সম্মেলন উপলক্ষে গেছেন পুতিন ও পেজেশকিয়ান। সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে পুতিন বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা শুরুর পর থেকে ইরান যুদ্ধ বন্ধে প্রকৃত প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে বলে তারা দেখেছেন।
পুতিন বলেন, ‘এই যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ইরানের জন্য আমাদের সাধ্যের মধ্যে যা কিছু আছে, আমরা করতে প্রস্তুত।’
বক্তব্যে রাশিয়া ও ইরানের সম্পর্কের ‘ইতিবাচক অগ্রগতির’ কথাও তুলে ধরেন পুতিন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে দেশ দুটি কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক জোরদার করেছে। সামরিক খাতের পাশাপাশি অর্থনীতি ও বাণিজ্যেও একে অপরের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। দুই দেশই যুক্তরাষ্ট্রের বহু নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে।
আজ শুক্রবার তুর্কমেনিস্তানের কাস্পিয়ান সাগরের তীরবর্তী অবকাশকেন্দ্র আভাজায় সিআইএসের সম্মেলন শুরু হচ্ছে। পুতিন ও পেজেশকিয়ান বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তুর্কমেনিস্তানে পৌঁছান। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে কিরগিজস্তানে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সম্মেলনের ফাঁকে তাদের সর্বশেষ সাক্ষাৎ হয়েছিল।
ইরান ও রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা চললেও ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে তেহরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। ইউক্রেন ও পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ইরান মস্কোকে শাহেদ ড্রোন ও স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করছে। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা ও লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য ইরানকে লক্ষ্যবস্তুর তথ্য সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে রাশিয়ার বিরুদ্ধেও।
তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা যখন অচলাবস্থার মুখে, তখন পুতিন ও পেজেশকিয়ানের এই বৈঠক হলো। চলতি সপ্তাহে পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ‘অর্থহীন’।
এএম