গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে অকস্মাৎ তেহরানে হামলা করে বসে ইসরাইল, যেখানে পূর্ণ সমর্থন ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। এমনকি পরবর্তীতে ওয়াশিংটন সরাসরি যুদ্ধে যোগ দেয়। ওই হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ আরো কয়েকজন শীর্ষ নেতা ও কর্মকর্তা নিহত হন। এর জবাবে ইরান পাল্টা হামলা চালালে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ লেগে যায় দুই পক্ষের মধ্যে। দীর্ঘ ৪০ দিনের যুদ্ধ শেষে গত ৮ এপ্রিল প্রাথমিক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় দুই পক্ষ। আর এই যুদ্ধবিরতির পেছনে অন্যান্য দেশের পাশাপাশি মূল ভূমিকায় ছিল পাকিস্তান।
প্রাথমিক যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী তথা বাস্তবে রূপ দিতে আজ শনিবার থেকে শুরু হয়েছে আলোচনা। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এই যুদ্ধবিরতি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে আলোচনায় অংশ নিতে ইসলামাবাদ পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।
পাকিস্তান ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের মধ্যকার বিধ্বংসী যুদ্ধ বন্ধ এবং তাকে স্থায়ী রূপ দিতে গুরুত্বপূর্ণ এই শান্তি আলোচনার আয়োজন করতে পেরে এক প্রকার উচ্ছ্বসিত পাকিস্তান। এমনকি রীতিমতো বিষয়টিকে উদযাপন করছে দেশটি। যদিও এই আলোচনা ব্যর্থ হলে পাকিস্তানের জন্য ঝুঁকিও আছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিবিসি বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা করে শান্তি আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় নিজেদের সাফল্য উদযাপন করছে পাকিস্তান। এর আগে তাদের উদ্যোগে দুই সপ্তাহ ধরে যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে দর কষাকষির পর এখন এই আলোচনা দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
রাজধানী শহরের রাস্তায় ‘ইসলামাবাদ টকস (সংলাপ)’ লেখা ডিজিটাল বিলবোর্ড দেখা যাচ্ছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পতাকার সঙ্গে মাঝখানে পাকিস্তানের প্রতীক প্রদর্শিত হচ্ছে। এমনকি শান্তি আলোচনায় ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ দেশটিতে দুই দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
এর আগে গতকাল শুক্রবার খোদ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি আলোচনার আয়োজন করতে পেরে গর্ভবোধ করছে পাকিস্তান।
বিশ্বের জন্য এই আলোচনার গুরুত্ব অনেক বিশেষ করে যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। তবে পাকিস্তানের জন্য এর গুরুত্ব আরো ভিন্ন মাত্রার।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে পাকিস্তান একটি ‘ভয়াবহ পরিস্থিতির’ মুখোমুখি হতে পারে, যেখানে প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গে তাদের সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির দক্ষিণ এশিয়া বিশেষজ্ঞ আব্দুল বাসিত বিবিসিকে বলেন, এটি পাকিস্তানের জন্য এক ধরনের সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ বিশ্বের আর কোনো দেশ এখন পর্যন্ত এই যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করতে পারেনি, এবং এতে একটি সম্ভাব্য বড় বিপর্যয় ঠেকানো গেছে বলে তারা মনে করছে।
পাকিস্তানের সামাজিক মাধ্যমে এখন আনন্দ ও গর্বের আবহ, নানা ধরনের মিম ভাইরাল হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞের মতে, এটি এমন এক সময়ে পাকিস্তানের জন্য বড় অর্জন যখন দেশটি দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্বল অর্থনীতির সাথে মোকাবিলা করছে। দুই বছর আগেও ঋণখেলাপির ঝুঁকির মুখে ছিল, পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে তীব্র দ্বন্দ্ব চলছে।
এর আগে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর পাকিস্তানের এই মধ্যস্থতার সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করেন। তিনি একে ‘দালালি’ বলে অভিহিত করেন। তবে তার এমন মন্তব্য যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতা প্রচেষ্টায় কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। বরং তিনি নিজেই ব্যাপক সমালোচেনার শিকার হয়েছেন।