বশীর আহমেদ

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উত্থানে রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে ভারতীয় গণমাধ্যমে। দেশটির গণমাধ্যমগুলো অব্যাহতভাবে জামায়াতের উত্থান নিয়ে তাদের বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন প্রচার করে চলেছে। এসব প্রতিবেদনে জামায়াতের উত্থানকে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য

বাংলাদেশে আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের বাকি আর মাত্র আট দিন। নির্বাচনি প্রচারে ব্যস্ত প্রধান দুই দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বিগত নির্বাচনগুলোতে নির্বাচনি প্রচারে ভারত ইস্যুটি বিশেষ গুরুত্ব পেলেও এবারের প্রচারে ভারত ইস্যুটি নেই বললেই চলে।

নির্বাচনের আগে বাংলাদেশে একটি অরাজক পরিস্থিতি তৈরির পাশাপাশি আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ঝুঁকিতে ফেলা তথা নির্বাচনকে ভন্রডুলের মতো মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে দিল্লি। দিল্লির ডিপ স্টেট ও নীতিনির্ধারকদের মূল টার্গেট এখন গণভোট। আগামী সাধারণ নির্বাচন বিতর্কিত ও অগ্রহণযোগ্য করার পাশাপাশি জুলাই সনদ বাস

জুলাই বিপ্লবে ফ্যাসিস্ট হাসিনার উৎখাত এবং পরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে থেমে নেই ভারতের বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতা। আসন্ন সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের তিন সপ্তাহও বাকি নেই। ঠিক সেই মুহূর্তে হঠাৎ নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করেছে দিল্লি।

জুলাই বিপ্লবে ফ্যাসিস্ট হাসিনার উৎখাত এবং পরে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে থেমে নেই ভারতের বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতা। আসন্ন সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের তিন সপ্তাহও বাকি নেই। ঠিক সেই মুহূর্তে হঠাৎ নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করেছে দিল্লি।

২০২৫ সালে মুসলিম ও খ্রিষ্টানদের বিরুদ্ধে ‘হেট স্পিচে’র ঘটনা ঘটেছে এক হাজার ৩০০-র বেশি, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি। এর বেশির ভাগ ঘটনা ঘটেছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) শাসিত রাজ্যগুলোতে। ওয়াশিংটনভিত্তিক সেন্টার ফর দ্যা স্টাডি অব অরগানাইজড হেটের (সিএসওএইচ)

মোস্তাফিজ ইস্যুতে ভারতের বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ। সংখ্যালঘু কার্ড ব্যবহার করে মোস্তাফিজুর রহমানকে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) থেকে বহিষ্কারে দিল্লির চরম সাম্প্রদায়িক পদক্ষেপের পর ভারতজুড়ে যখন উগ্রবাদী হিন্দুদের রীতিমতো উল্লাস চলছিল ঠিক সে মুহূর্তে ঢাকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে কড়া

খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে গত বুধবার ঢাকায় এসেছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। একই সঙ্গে তারেক রহমানের কাছে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দুদেশের সম্পর্ক উন্নয়নের বার্তাসংবলিত চিঠি হস্তান্তরের পর অনেকেই ধারণা করেছিলেন বৈরিতাকে দূরে সরিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্কের প

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে যেকোনো মূল্যে ক্ষমতায় রাখার পাশাপাশি খালেদা জিয়াকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে সম্ভব সবই করেছে ভারত। এমনকি মিথ্যা মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনকে জেলে পাঠানোর সিদ্ধান্ত দিল্লি থেকেই এসেছিল বলে কূটনৈতিক মহলের ধারণা।

ভারতের প্রভাব বলয়ের বাইরে থেকে একটি স্বাধীন এবং ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা তার পররাষ্ট্রনীতির মূল্যায়ন করে বলছেন, মুসলিম বিশ্ব ও চীনের সঙ্গে একটি বিশেষ সম্পর্ক গড়ে তোলার পাশাপাশি পশ্চিমা বিশ্ব, বিশেষ

ঢাকা-দিল্লি বিরোধ এখন চরমে। স্মরণকালে দুই দেশের মধ্যে এমন তিক্ত সম্পর্ক আর চোখে পড়েনি। ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোতে অব্যাহতভাবে হিন্দু জঙ্গিদের হামলা, অগ্নিসংযোগ ও কূটনীতিকদের হত্যার হুমকির মতো ঘটনা নজিরবিহীন।

ঢাকা-দিল্লি বিরোধ এখন চরমে। স্মরণকালে দুই দেশের মধ্যে এমন তিক্ত সম্পর্ক আর চোখে পড়েনি। ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোতে অব্যাহতভাবে হিন্দু জঙ্গিদের হামলা, অগ্নিসংযোগ ও কূটনীতিকদের হত্যার হুমকির মতো ঘটনা নজিরবিহীন।

ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোতে হিন্দু জঙ্গিদের হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগসহ কর্মরত বাংলাদেশি কূটনীতিকদের হত্যার হুমকি অব্যাহত রয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ভিসা সার্ভিস বন্ধ করে দিয়েছে।

ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোতে হিন্দু জঙ্গিদের হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগসহ কর্মরত বাংলাদেশি কূটনীতিকদের হত্যার হুমকি অব্যাহত রয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ভিসা সার্ভিস বন্ধ করে দিয়েছে।

শনিবার স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে অখণ্ড হিন্দু রাষ্ট্রসেনার ব্যানারে একদল উগ্র হিন্দু জঙ্গি নিরাপত্তা বেষ্টনী পার হয়ে বাংলাদেশ হাউসের মূল ফটকের সামনে এসে বিক্ষোভ করে। এ সময় তারা নানা ধরনের বাংলাদেশবিরোধী স্লোগানের পাশাপাশি ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে হত্যার হুমকি দেয়।

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান দিল্লি যাচ্ছেন। কলম্বো সিকিউরিটি কনক্লেভ বা কলম্বো নিরাপত্তা সম্মেলনে যোগ দিতে আগামী ১৯ নভেম্বর দুদিনের সফরে তিনি দিল্লি যাবেন বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। জুলাই বিপ্লবে শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো

এমন পরিস্থিতিতে দালাইলামা মডেলে হাসিনাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে নানা পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে দিল্লি। সবশেষ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে হাসিনার সাক্ষাৎকার এ পরিকল্পনারই অংশ।

অপরাধে অভিযুক্ত পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সাবেক সামরিক সচিব মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ দেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। গত ৯ অক্টোবর তিনি বিশেষ ব্যবস্থায় তামাবিল সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যান।

পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার একান্ত অনুগত এবং ভারতীয় ডিপ স্টেট তথা গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পদস্থ দুই কর্মকর্তা লে. জেনারেল (বরখাস্ত) মো. মুজিবুর রহমান এবং লে. জেনারেল (অব.) মো. আকবর হোসেন এখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আশ্রয়ে।

বর্তমানে তারা ভারতের ডিপ এস্টেটের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য নানামুখী পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছেন বলে নিরাপত্তা সূত্রগুলো আমার দেশকে জানিয়েছে।

জুলাইয়ের ছাত্র-জনতা গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতে পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের আস্তানা উদ্ঘাটিত হয়েছে। তারা কলকাতায় মূল আস্তানা গেড়েছেন। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (আইবি) বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে কলকাতায় অবস্থান নেওয়া এমন ৭৩৪ পলাতক আওয়ামী ফ্যাসিস্টের একটি ডেটাবেস তৈরি

জুলাইয়ের ছাত্র-জনতা গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতে পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের আস্তানা উদ্ঘাটিত হয়েছে। তারা কলকাতায় মূল আস্তানা গেড়েছেন। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (আইবি) বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে কলকাতায় অবস্থান নেওয়া এমন ৭৩৪ পলাতক আওয়ামী ফ্যাসিস্টের একটি ডেটাবেস তৈরি

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ইসলামি জঙ্গিরা বাংলাদেশে ক্ষমতা দখল করেছে। এক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য বিদেশি শক্তি। জুলাই-আগস্টের ঘটনা এবং পরবর্তী সময়ে হাজার হাজার সংখ্যালঘু হিন্দু ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে।

রাজনৈতিক এবং আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা দিল্লির এ অপতৎপরতাকে বাংলাদেশবিরোধী প্রোপাগান্ডা আখ্যা দিয়ে বলছেন, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে পতিত আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের পথ খুঁজছে ভারত। দিল্লি বারবার ঢাকাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়বে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের সব রাজনৈতিক দলের ঐক্য জরুরি।

আগামীকাল শুক্রবার লন্ডন থেকে একটি বিশেষ ফ্লাইটে ১৮ জন অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীকে ফেরত পাঠানো হবে বলে স্বরাষ্ট্র এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আমার দেশকে জানিয়েছেন।

দিল্লিতে শেখ হাসিনার জন্য একটি রাজনৈতিক কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং আগামীতে বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার লক্ষ্যকে সামনে রেখে ভারতের ডিপ স্টেট তথা গোয়েন্দা সংস্থার পরিকল্পনা এবং সরাসরি তত্ত্বাবধায়নে এই রাজনৈতিক কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে বলে ঢাকা, দিল্ল

নতুন সফরসূচি এখন চূড়ান্ত। ২৩ আগস্ট ঢাকায় আসছেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। দুদেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি রাজনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারে দুদিনের দ্বিপক্ষীয় সফরে আসছেন পাকিস্তান সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারক।

বাংলাদেশবিরোধী অপপ্রচারে নেমেছে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তা ও পরিকল্পনায় দিল্লি থেকে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি, অন্তর্বর্তী সরকার, বিশেষ করে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে জঘন্য মিথ্যাচারে লিপ্ত হয়েছে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস এবং অন্যান্য কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, চীনের তৎপরতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের কথা বাংলাদেশকে জানানোর পাশাপাশি চীনের প্রভাব বলয় থেকে ঢাকাকে বেরিয়ে আসতে নানাভাবে চাপ তৈরি করছে ওয়াশিংটন

দিল্লির নীতিনির্ধারকদের অনাগ্রহের কারণে গোপালগঞ্জে সেনাবাহিনীর কথিত নৃশংসতা ও জুলাই গণহত্যা নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের পূর্বনির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনটি শেষ পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। দিল্লির একাধিক কূটনৈতিক সূত্র বিষয়টি আমার দেশকে নিশ্চিত করেছেন।

জাতিসংঘের মনোনীত নতুন দূতকে নিয়ে তৈরি হয়েছে এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। বাংলাদেশে জাতিসংঘের পরবর্তী আবাসিক সমন্বয়ক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া কূটনীতিক একজন সমকামী।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে শুরু হয়েছে কূটনৈতিক তৎপরতা। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), জাতিসংঘ, জাপানসহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন নিয়ে সরকার, নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করছেন।

দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার মতো নিষ্পত্তি হওয়া স্পর্শকাতর ইস্যুকে আবার সামনে এনে মিথ্যা এবং বানোয়াট বয়ান তৈরি করে বাংলাদেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারকে চাপে ফেলতে তৎপর হয়েছে দিল্লি।

ঠিক যেন ২২ বছর আগের সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। মিথ্যা গোয়েন্দা তথ্য সামনে এনে যেভাবে ইরাক আক্রমণ করা হয়েছিল, একইভাবে ইরানেও হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র। ইরাক আক্রমণের আগে বলা হয়েছিল সাদ্দাম সরকারের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র রয়েছে, যা গোটা মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। আর এবার ইরান আক্রমণের

ঠিক যেন ২২ বছর আগের সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। মিথ্যা গোয়েন্দা তথ্য সামনে এনে যেভাবে ইরাক আক্রমণ করা হয়েছিল, একইভাবে ইরানেও হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র। ইরাক আক্রমণের আগে বলা হয়েছিল সাদ্দাম সরকারের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র রয়েছে, যা গোটা মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে তার ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা এবং হাতেগোনা দু-একজন জেনারেল— যারা ইসরাইলের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত, কেবল তাদের সঙ্গেই পরামর্শ করছেন।

হামলা-পাল্টা হামলার পাশাপাশি নাটকীয় মোড় নিয়েছে ইরান-ইসরাইল সংঘাত। যুদ্ধবিরতির আলোচনা যখন চলছে ঠিক সেই মুহূর্তে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানবাসীকে রাজধানী ছেড়ে যেতে বলেছেন।

সেনাপ্রধানের অফিসার্স অ্যাড্রেসে দেওয়া বক্তব্য এবং বিএনপির সাম্প্রতিক আন্দোলনের মাধ্যমে ইউনূস সরকারের ওপর অযাচিত চাপ তৈরির প্রতিক্রিয়ায় প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগের হুমকি দেন। এরপর সৃষ্টি হয় অচলাবস্থার।

ড. ইউনূসের প্রতি তাদের অকুণ্ঠ সমর্থনের কথা জানানো হয়েছে বলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা আমার দেশকে নিশ্চিত করেছেন।

বিজেপির হিন্দুত্ববাদী বয়ান তুলে ধরে কলকাতায় বাংলাদেশ মিশনে কোরবানি বন্ধের নির্দেশদাতা সেই বিতর্কিত কূটনীতিক শাবাব বিন আহমেদের কলকাতা মিশন প্রধান (ডেপুটি হাইকমিশনার) হিসেবে দেওয়া বদলি আদেশ বাতিল করে তাকে অবিলম্বে ঢাকায় ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনে ঐতিহ্যগতভাবে চলে আসা কোরবানি দেওয়ার প্রথা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন নবনিযুক্ত ডেপুটি হাইকমিশনার শাবাব বিন আহমেদ। কলকাতা মিশনে যোগদানের আগেই কোরবানি বন্ধের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছেন ডেপুটি হাইকমিশনার।

কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলার নিন্দা জানিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ভারত বাংলাদেশের এই সহানুভূতিকে গুরুত্ব দেয়নি। উল্টো বাংলাদেশ ভারত থেকে পেল পুশ ইন। গত ৭-৮ মে যখন ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে আক্রমণ পাল্টা আক্রমণ চলছে, ঠিক সেই মুহূর্তে ভারত উত্তেজনা তৈরি করে বাংলাদেশ সীমান্তে।

পরাজয়ের গ্লানি আর লজ্জা মাথায় নিয়ে মোদি তার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণের নামে যা বললেন, তা ছিল মিথ্যাচার বা বাগাড়ম্বর। অপারেশন সিঁদুরের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের পাল্টা আঘাতে সিঁদুরের রঙ যে ফ্যাকাসে হয়ে গেছে,তার স্পষ্ট ছাপ ছিল মোদির চোখে-মুখে।

চারদিনের সফরে আগামী ২৮ মে জাপানে যাওয়ার কথা রয়েছে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের। সেই সফরের প্রস্তুতিমূলক আলোচনা ও দ্বিপাক্ষিক অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য আগামী ১৫ মে টোকিওতে পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক (ফরেন অফিস কনসালটেশন বা এফওসি) নির্ধারিত ছিল।

মার্কিন মধ্যস্থতায় গত শনিবার সন্ধ্যায় ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি ঘোষণা এবং কার্যকরের পর গোটা পাকিস্তান জুড়ে শুরু হয়েছে বিজয় আর আনন্দ উৎসব। গতকাল রোববারকে পাকিস্তান সরকার ঘোষণা করেছে ‘ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা’ জানানোর দিন হিসেবে।

অপারেশন সিঁদুরের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় রাফায়েলসহ পাঁচ যুদ্ধবিমান হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়ে ভারত। এ ধরনের লজ্জাজনক পরিস্থিতিতে পড়তে হবে তা হয়তো ভারতের কল্পনায়ও ছিল না।

যে কোনো ইস্যুতেই মোদি সরকারের সামনে সংখ্যালঘু কার্ড ছাড়া যেন আর কোনো বিকল্পই নেই। হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি টিকিয়ে রাখা, প্রতিবেশী দেশকে অযাচিত চাপে রাখা, নিজের ভাবমূর্তি বাড়ানো অথবা ড্যামেজ কন্ট্রোল-সব জায়গাতেই নরেন্দ্র মোদির একমাত্র অস্ত্র সংখ্যালঘু কার্ড।

১৯৪৭ সালের ১৪ ও ১৫ আগস্ট ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীন দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে পাকিস্তান ও ভারত। যে বৈরী মনোভাবের মধ্য দিয়ে দেশ দুটি পথ চলতে শুরু করেছিল তা আজও অব্যাহত। স্বাধীনতার পর থেকে আজ অবধি সংঘাত ও যুদ্ধ পিছু ছাড়েনি পারমাণবিক ক্ষমতাধর দেশ দুটিকে।

সংঘাতময় রাখাইন রাজ্যে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে করিডোর দেওয়ার জাতিসংঘের অনুরোধে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে বাংলাদেশ।

ভারতের পক্ষ থেকে বহুরূপী নাটকীয়তা শেষে অনুষ্ঠিত ইউনূস-মোদি বৈঠকের পর শেখ হাসিনা ইস্যুতে নিশ্চিতভাবে কূটনৈতিক চাপে পড়বে দিল্লি। বহুল আলোচিত এই বৈঠকে শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়া হবে কিনা, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে ছিল নানা আলোচনা।