সড়ক নির্মাণকাজের অনিয়ম নিয়ে বিরোধ, সংঘর্ষে আহত ৬

সড়ক নির্মাণকাজের অনিয়ম নিয়ে বিরোধ, সংঘর্ষে আহত ৬

নোয়াখালীর হাতিয়ায় প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কের নির্মাণকাজের অনিয়ম নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলা সদরের আদালত ভবনসংলগ্ন প্রধান সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন, এনসিপির শ্রমিক শক্তির উপজেলা আহ্বায়ক আবির, সুখচর ইউনিয়ন এনসিপির সদস্য সচিব ইসমাইল ও এনসিপি নেতা হৃদয়। অপর পক্ষের আহতরা হলেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার শামীম এবং কর্মচারী নাহিদ ও সোহরাব।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে হাতিয়ার ১১ কিলোমিটার প্রধান সড়কের উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করছে মেসার্স জামাল ইঞ্জিনিয়ারিং নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। শুরু থেকেই কাজটি তদারকি করছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল উদ্দিন রাশেদ। উপজেলা সদরের গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের কাজের মান নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়। কয়েক দফা কাজ বন্ধ হওয়ার ঘটনাও ঘটে। এ বিষয়ে এনসিপির নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন।

শনিবার আদালত ভবনের সামনে সড়কের সীমানা প্রাচীরের ঢালাইয়ের কাজ চলাকালে শ্রমিক শক্তির উপজেলা আহ্বায়ক আবির ও সদস্য সচিব ইসমাইল নির্মাণকাজে ত্রুটির অভিযোগ তুলে আপত্তি জানান। এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা ইকবাল উদ্দিন রাশেদের ছোট ভাই রুবেলের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে ছয়জন আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল উদ্দিন রাশেদ বলেন, প্রায় তিন মাস আগে রাস্তার কাজ শুরু হয়েছে। এর আগেও কয়েকবার এনসিপির নেতারা ত্রুটির অভিযোগ তুলে কাজ বন্ধ করে দেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে বৈঠক হয়। সেখানে তারা কোনো ত্রুটি প্রমাণ করতে পারেননি। স্থানীয়রা দ্রুত কাজ শেষ করতে চান। কিন্তু বারবার বাধার কারণে কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

অন্যদিকে এনসিপির শ্রমিক শক্তির উপজেলা আহ্বায়ক আবির বলেন, এখানে অত্যন্ত নিম্নমানের কাজ করা হচ্ছিল। গাইড ওয়াল খুবই দুর্বল ছিল। দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। ফোন করলে তিনি বলেন, বিষয়টি জেলা কার্যালয়ে জানাতে। পরে উপ-সহকারী প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করেও সন্তোষজনক উত্তর পাইনি। তাই আমরা সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখতে বলি। তখন তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমাদের তিনজন আহত হয়েছেন। একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, নোয়াখালীর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মহিবুল্লাহ সুমন বলেন, যে গাইড ওয়াল নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছে, সেটি নিয়ে দুই দিন আগেও অভিযোগ উঠেছিল। আমাদের নির্দেশে ঠিকাদার পুরোনো ইট পরিবর্তন করে নতুন ইট দিয়ে কাজ শুরু করেছে। তাই একই বিষয় নিয়ে নতুন করে আপত্তি করার কারণ নেই।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবীর হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এমই

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন