চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের উড়ির চর জুনিয়র হাইস্কুলে শতভাগ অকৃতকার্যের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। বিদ্যালয়টি থেকে এবার মাত্র ১০ শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউই পাস করতে পারেনি। অথচ বিগত বছরগুলোতে বিদ্যালয়টির পাসের হার ছিল সন্তোষজনক।
বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মতে, চরম আর্থিক সংকট, শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের বকেয়া বেতন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়বিমুখতা ও অভিভাবকদের অসচেতনতার কারণে এমন ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে।
জানা গেছে, এসএসসি পরীক্ষার আগে নির্বাচনি পরীক্ষায় ১০ শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়। নিয়ম অনুযায়ী তাদের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা না থাকলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ‘বিশেষ বিবেচনায়’ সবাইকে বোর্ড পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেয়। এর প্রভাব পড়ে চূড়ান্ত ফলাফলেও। শেষ পর্যন্ত বিদ্যালয়টির পাসের হার নেমে আসে শূন্যে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উড়ির চর হাইস্কুল নামে পরিচিত প্রতিষ্ঠানটিতে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বর্তমানে শিক্ষার্থী রয়েছে মাত্র ৬০ জন। তবে নিয়মিত ১০ জন শিক্ষার্থীও ক্লাসে উপস্থিত থাকে না। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া ফি দিয়েই মূলত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হতো। কিন্তু নিয়মিত ফি পরিশোধেও অভিভাবকদের অনীহা রয়েছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের ফি পরিশোধের জন্য বলা হলে অনেকে পরবর্তী কয়েক দিন বিদ্যালয়ে আসে না। ফলে গত দুই বছর ধরে বিদ্যালয়ের আটজন শিক্ষকের কেউই বেতন পাচ্ছেন না। দীর্ঘদিন বিনা বেতনে কাজ করতে গিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।
চরম আর্থিক সংকটের কারণে আট শিক্ষকের মধ্যে ইতোমধ্যে তিনজন বিদ্যালয়ে আসা একেবারেই বন্ধ করে দিয়েছেন। বাকিরা কোনোভাবে দায়িত্ব পালন করলেও এতে পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ফলাফল বিপর্যয়ের বিষয়ে উড়ির চর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হাসান আক্ষেপ করে আমার দেশকে বলেন, খেয়ে না খেয়ে কোনোমতে স্কুলটা টিকিয়ে রেখেছি। যেখানে জীবন বাঁচানোই দায়, সেখানে লেখাপড়াতো বিলাসিতা।
উড়ির চরের স্থানীয় বাসিন্দা ওমান রাসেল আমার দেশকে বলেন, উড়ির চরে পরীক্ষা কেন্দ্র না থাকায় শিক্ষার্থীদের এক মাস সন্দ্বীপে এসে থাকতে হয়। নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর পক্ষে এই দীর্ঘ সময়ের থাকা-খাওয়া ও যাতায়াতের বাড়তি ব্যয় বহন করা প্রায় অসম্ভব। এটিও ফলাফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ইসমত আরা বেগম আমার দেশকে বলেন, প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত না হলেও, যেহেতু পাঠদানের সরকারি অনুমতি রয়েছে, সেখানে শিক্ষকদেরও ফলাফলের প্রতি কিছুটা দায়বদ্ধতা আছে। শতভাগ ফেলের বিষয়টি দুঃখজনক। আমরা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

