লক্ষ্মীপুরে রোজাহীন কান ধরিয়ে ওঠবস করানোর কারণে ক্ষমা চেয়েছেন জেলা বণিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল আজিজ। বুধবার দিবাগত রাতে সদর থানায় এলাকায় জেলা পুলিশের হস্তক্ষেপে দুজন ভুক্তভোগীদের কাছে ক্ষমা চান তিনি।
এরআগে এ দিন দুপুরে জেলা শহরের থানা রোডে রোজাহীনদের কান ধরে ওঠবসের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, হিন্দু দোকানে কয়েকজন রোজাহীন বৃদ্ধ-যুবক ছিলেন। আব্দুল আজিজ লাঠি হাতে সেই হোটেলের সামনে যান। সেখানে একজন যুবককে কানধরে ওঠবস করান। এরপর পর্দা ঠেলে হোটেলের ভেতরে যান। কয়েকজনকে বের করে নিয়ে আসেন। এক পর্যায়ে কয়েকজনকে ওঠসবস করান।
পরে এক ভিডিও বার্তায় ক্ষমা চান আব্দুল আজিজ। তিনি বলেন, কয়েকজন হোটেলে খাবার খাওয়ার জন্য ঢুকেছেন। রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় তাৎক্ষণিক উনাদেরকে বলেছি আপনারা কেন খাচ্ছেন। আপনারাতো মুসলমান। সেক্ষেত্রে তারা বলেছে রোজা রাখেননি। আমি আসলে যে কাজটি করেছি, এটি অন্যায়, অপরাধ। এটা ধর্মীয় অনুভূতি, সেজন্য এটা আমার করা ঠিক হয়নি। এজন্য আমি উনাদের কাছে ক্ষমা চাই। উনারা যেন আমাকে ক্ষমা করে দেয়। আমি এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর কখনো করবো না। এ ধরণের কাজ জড়িত হবো না।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানায়, বুধবার দুপুরে শহরের থানা রোডে পর্দা টাঙানো হিন্দুদের কয়েকটি খাবার হোটেলে লাঠি হাতে অভিযানে যান আজিজ। এসময় রোজাহীন কয়েকজন যুবক-বৃদ্ধকে হোটেল থেকে বের করে রাস্তায় প্রকাশ্যে তিনি কানে ধরে উঠবস করতে বাধ্য করেন। এ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। এতে রাতে সদর থানা পুলিশ তাকে আটক করে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ভুক্তভোগী মুনছুরুল হক ও মো. সাজু জানায়, রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় বণিক সমিতি নেতা তাদেরকে শাস্তি দিয়েছেন। এখন তিনি ক্ষমা চেয়েছেন। তারা আইনগত ব্যবস্থাও নেবেন না।
এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, ঘটনার প্রেক্ষিতে আজিজকে থানায় ডেকে আনা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের মধ্যে দুই ব্যক্তিকে আমরা থানায় এনেছি। কেউ তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ দেয়নি। এছাড়া আজিজ নিজেও ক্ষমা চেয়েছেন। এতে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

