চট্টগ্রাম নগরীর হামজারবাগ এলাকায় প্রবাসী মোহাম্মদ ইউসুফ ও তার ছেলে মোহাম্মদ শওকতের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও বাড়িতে গুলি করার ঘটনার মূল হোতা সাব্বির হোসেন সানিকে (৩৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার সানি নগরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও বিদেশে পলাতক বড় সাজ্জাদের সহযোগী।
শনিবার চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। গ্রেপ্তার সানি নগরের পাঁচলাইশ থানার হামজারবাগ এলাকার বাসিন্দা হলেও তাঁর গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার সাতবসু গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মো. মালেকের ছেলে।
জেলা পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার রাতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের বিশেষ অভিযানে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে সানিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, গত আগস্টে নগরীর হামজারবাগ এলাকার মো. ইউসুফ নামের এক প্রবাসীর ছেলে মোহাম্মদ শওকতের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন সাব্বির রহমান সানি। ইউসুফের ছেলে মোহাম্মদ শওকতও একজন প্রবাসী ব্যবসায়ী। তাদের কাছে চাঁদা দাবির একটি অডিও রেকর্ড পুলিশের হাতে পৌঁছেছে। সেখানে সানিকে বলতে শোনা যায়, একটার মধ্যে (সময়) যোগাযোগ করবে, ঠিক আছে?....একবার যদি ছেলেপুলে পাঠাতে হয়, ঘটনা ঘটাতে হয়, তবে ৫০ লাখ ১ কোটি হয়ে যাবে, কমবে না।
অডিওতে সানিকে আরো বলতে শোনা যায়, ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করো। তার সঙ্গে কথা বলো। ওনার কাতারের নম্বরটাতে যোগাযোগ করে ক্লিয়ার করে ফেলো। তোমার বাবাকে কল দিলাম না। তিনি হার্টের রোগী, আবার মরেটরে যাবে। তাই তোমারে জানালাম।
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম জানান, আসামি সাব্বির প্রকাশ্যে কম আসতেন। তার কাজ ছিল বড় সাজ্জাদ ও বোরহানের নির্দেশনা অনুসারে ফোন করে চাঁদা দাবি করা। চাঁদার জন্য যে ব্যবসায়ী বা শিল্পপতিকে ফোন করা হতো, তার বিষয়ে আগে থেকেই বিস্তারিত তথ্য নিয়ে রাখা হতো। মূলত বড় সাজ্জাদ অন্য একটি দলের মাধ্যমে সেই তথ্য সংগ্রহ করতেন। সাব্বির ফোন করে নির্দিষ্ট ওই ব্যক্তিকে চাঁদার জন্য সময়সীমা বেঁধে দিতেন। না হলে লোক পাঠিয়ে হামলা কিংবা গুলির হুমকি দিতেন তিনি। হুমকি অনুযায়ী সশস্ত্র হামলাও করাতেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ জুন নগরের চান্দগাঁও কালুরঘাট শিল্প এলাকায় অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করতে দেখা গেছে সাব্বিরকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৩৭ সেকেন্ডের একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে বিষয়টি ধরা পড়ে। এতে দেখা যায়, সড়কে দাঁড়িয়ে কারখানার দিকে তাক করে ফাঁকা গুলি ছুড়ছেন টি-শার্ট পরা সাব্বির। পরে সড়ক ধরে এগিয়ে যাওয়ার সময় পিস্তল উঁচিয়ে আবার গুলি করতে দেখা যায় তাকে।
পুলিশের দাবি, কারাগারে থাকা আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের পরিবর্তে চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার দায়িত্ব সানিকে দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি সানি জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। বড় সাজ্জাদের সন্ত্রাসী গ্রুপ থেকে তাকে মাসিক ৫০ হাজার টাকা বেতন দেওয়া হতো। প্রাথমিক অনুসন্ধানে গ্রেপ্তার সানিকে বড় সাজ্জাদের ‘ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত সহযোগী’ বলে জানা গেছে। তিনি আগে বিদেশে থাকতেন এবং বড় সাজ্জাদের নির্দেশনায় গত বছর দেশে ফিরে চট্টগ্রামে আসেন।
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

