রাঙ্গুনিয়া যুবদল নেতা মাকসুদুল হত্যা মিশনে সাত সন্ত্রাসী, শনাক্ত ৫

নুরুল আবছার চৌধুরী, রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম)

রাঙ্গুনিয়া যুবদল নেতা মাকসুদুল হত্যা
মিশনে সাত সন্ত্রাসী, শনাক্ত ৫
ইনসেটে নিহত মাকসুদুল হক চৌধুরী।

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া সাত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীর মধ্যে পাঁচজনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তদন্তের স্বার্থে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের পরিচয় প্রকাশ করেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গত শনিবার দুপুরে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের দৃশ্য বাজারের একটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সহায়তায় অস্ত্রধারী কয়েকজনের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়।

জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া অস্ত্রধারীদের মধ্যে রয়েছে মোহাম্মদ ইলিয়াছ ওরফে ধামা ইলিয়াছ, মো. ইউছুফ, দিদারুল আলম ও আবছার। এছাড়া কিলিং মিশনে একটি ব্যাকআপ টিমও সক্রিয় ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। ওই টিমে মো. পারভেজ ও মো. আইয়ুব নামের দুজন থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশের দাবি, তিনটি পিস্তল ও দুটি শটগান হাতে থাকা পাঁচ অস্ত্রধারী ছাড়াও ব্যাকআপ টিমের দুই সদস্যসহ মোট সাতজন হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। তারা সবাই বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের অনুসারী রায়হান বাহিনীর সদস্য বলে অভিযোগ রয়েছে। সূত্র জানায়, গোলাপি পোশাক পরিহিত শটগানধারী ছিলেন ধামা ইলিয়াছ, কালো টি-শার্ট পরিহিত শটগানধারী আবছার। অন্যদিকে জলপাই রঙের টি-শার্ট ও মাথায় ক্যাপ পরিহিত পিস্তলধারী ছিলেন মো. ইউছুফ এবং একই ধরনের পোশাকে থাকা আরেক পিস্তলধারী ছিলেন দিদারুল আলম।

বিজ্ঞাপন

জানা যায়, ধামা ইলিয়াছ ও আবছারের বাড়ি রাউজানের কদলপুর ইউনিয়নে, ইউছুফের বাড়ি রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে এবং দিদারুল আলমের বাড়ি চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ এলাকায়। ব্যাকআপ টিমে থাকা পারভেজের বাড়ি গশ্চি ইউনিয়নের নোয়াহাট এলাকায় এবং আইয়ুবের বাড়ি কদলপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে।

পুলিশ জানায়, ধামা ইলিয়াছের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগর ও রাউজানে একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে কদলপুর ইউনিয়নের ঈশান ভট্টেরহাট এলাকায় যুবদল কর্মী সেলিম হত্যার মামলারও তিনি আসামি। নিহত মাকসুদুল হক চৌধুরী রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হুমাম কাদের চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে স্থানীয় রাজনীতিতে পরিচিত ছিলেন। তার বাড়ি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নে। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রাঙ্গুনিয়া সার্কেল) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘অস্ত্র হাতে থাকা পাঁচজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা যাচ্ছে না। হত্যাকাণ্ডে আরো কেউ জড়িত থাকতে পারে। সবাই রায়হান বাহিনীর সদস্য বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে রায়হানকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি।’ এদিকে, ময়নাতদন্ত শেষে রোববার বিকাল সাড়ে ৫টায় জানাজা সম্পন্ন করে রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী ইউনিয়নে পারিবারিক কবরস্থানে মাকসুদুল হক চৌধুরীকে দাফন করা হয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...