গাজীপুরে ফের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ, ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

গাজীপুরে ফের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ, ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
ছবি: আমার দেশ

ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গাজীপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন শ্রমিকেরা। তাদের অবরোধের ফলে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

আজ সোমবার সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করায় ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শ্রম অসন্তোষ নিরসন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

আজ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মহাসড়কের পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিকেরা অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করেন। গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, ওই সময় এক থেকে দেড় হাজার শ্রমিক সড়কে অবস্থান নেন। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তিনি আরও জানান, চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর, কোনাবাড়ী ও মৌচাক এলাকায় বিজিবি ও শিল্প পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন। যান চলাচল স্বাভাবিক করতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা কাজ করছেন।

গাজীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া ও রিসার্চ সেল) মো. আরিফ হোসাঈন সকাল ৮টা ২৬ মিনিটে পাঠানো এক খুদে বার্তায় বিজিবি মোতায়েনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। জেলা প্রশাসন ও শিল্প পুলিশ সূত্র জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্প পুলিশ, জেলা পুলিশ, বিজিবি ও ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট একযোগে দায়িত্ব পালন করছেন।

উল্লেখ্য, ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে কয়েক দিন ধরে গাজীপুরে বিক্ষোভ করছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। এর আগে গতকাল রোববার সকালেও শ্রমিকেরা প্রথমে কালিয়াকৈরের মৌচাক, সফিপুর ও চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় অবরোধ শুরু করেন। পরে হাজার হাজার শ্রমিক মহাসড়কে অবস্থান নিলে দূরপাল্লার বাসসহ বিভিন্ন যানবাহন আটকা পড়ে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

আন্দোলনের একপর্যায়ে কালিয়াকৈরের পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় বিভিন্ন কারখানার ফটক ভাঙচুর করা হয়। এছাড়া মৌচাক এলাকায় পুলিশ বক্স ভাঙচুর এবং কোনাবাড়ী ফ্লাইওভারের নিচে একটি পুলিশ বক্স ও আনসার একাডেমির সামনে একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেন আন্দোলনরত শ্রমিকেরা। রোববার বিভিন্ন স্থানে শ্রমিক-পুলিশ দফায় দফায় সংঘর্ষ হয় এবং প্রায় ছয় ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল।

পরবর্তীতে রতনপুর, কোনাবাড়ী ও কাশিমপুরসহ আশপাশের শিল্পাঞ্চলে এ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিকদের বিক্ষোভের মুখে সেসব এলাকার প্রায় ৩০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন