ভাতিজার ইতালি যাওয়ার আনন্দে রমজানের প্রথম দিন ইফতার করে রাজৈর উপজেলার পশ্চিম রাজৈরের চাচা ওয়াদুদ ফকির ও ভাতিজা রিয়াজুল ফকির ঘুরতে বেরিয়েছিলেন। পথিমধ্যে ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার চুমুরদী খানাখন্দভরা সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তায় ছিটকে পড়ে চাচা ওয়াদুদ ফকির নিহত ও গুরুতর আহত হন ভাতিজা রিয়াজুল ফকির।
এ চিত্র প্রতিদিনের, দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশদ্বার খ্যাত ভাঙ্গা-ফরিদপুর-ভাঙ্গা-খুলনা-ভাঙ্গা-বরিশালমহাসড়কের।
স্থানীয়দের মতে, পদ্মা সেতু হওয়ার সুবাদে মহা সড়কে দূরপাল্লার যাত্রীবাহী পরিবহণ, বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাসসহ স্থানীয় পর্যায়ের ছোট ছোট যানবাহন চলাচল করে। এতে সকল যানবাহনে যাত্রীর চাপ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।
ভাঙ্গা-ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের উন্নয়ন কাজ সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে চলছে। কাজের সঠিক তত্ত্বাবধানের অভাব ও সতর্ককরণের পর্যাপ্ত সুব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে চলছে এ পথের যাত্রীরা।
ভাঙ্গা-টেকেরহাট মহাসড়কের দু’পাশের রাস্তা খননের ফলে সৃষ্ট গর্তের কারণে গত জানুয়ারি ও ফ্রেব্রয়ারি মাসে কমপক্ষে ১০টি দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত এবং আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। সংশ্লিষ্ট বিভাগের অব্যবস্থাপনার কারণে দুর্ঘটনা হচ্ছে বলে ক্ষতিগ্রস্তদের ভাষ্য।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা সূত্রমতে ভাঙ্গা-মাওয়া মহাসড়ক, ভাঙ্গা-ফরিদপুর মহাসড়ক, ভাঙ্গা-ফরিদপুর বরিশাল মহাসড়ক ও গোপালগঞ্জ মহাসড়কে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি দু’মাসে কমপক্ষে ২৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ১০ জন। মামলা দায়ের হয়েছে দু’টি। আহত হয়েছে সরকারি হিসেবে অর্ধশতাধিক। তবে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজের তথ্যমতে হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি।
স্থানীয় জনগণের ভাষ্যমতে, মহাসড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতের চিত্র নিত্যদিনের।
এ প্রসঙ্গে স্থানীয় জনগণ আরও জানান, জীবন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে ভাঙ্গা-ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের যাত্রীরা।
সরেজমিন জানা গেছে, ভাঙ্গা থেকে মুকসুদপুর উপজেলার বরইতলা সড়কের সম্প্রসারণ ও সংস্কার কাজের দেখভাল করেছে ভাঙ্গা সড়ক ও জনপদ বিভাগ। রাস্তার দু'পাশে ছয় ফুট চওড়া ও চার ফুট গভীর দু’পাশের নির্মাণ কাজ চলছে।
স্থানীয় তথ্যমতে কাজের সঠিকভাবে তদারকির অভাবে কাজের গতি ধীর। এ মহাসড়কে রাস্তার বাক বা মোড়গুলো সোজাকরণ ও প্রশস্তকরণ ও ডিভাইডার করা হলে দুর্ঘটনা অনেকটাই কমে আসবে।
ভাঙ্গায় ফরিদপুর টেকেরঘাট মহাসড়কে ১৭টি বাক মহাসড়ক সবচেয়ে বিপজ্জনক বাঁকগুলো সংস্কারেও সংশ্লিষ্ট বিভাগের অধীনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় জনগণ।
উপজেলার পূর্ব সদরদীর গ্রামের বাসিন্দা টুটুল শিকদারের অভিযোগ, নিরাপত্তা ও সতর্কীকরণ বিলবোর্ড সঠিক উপায়ে দৃশ্যমান না থাকায় রাতের আঁধারে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্ট হচ্ছে। বিভিন্ন দূরপাল্লার গাড়ি চালকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
তাদের মতে মূলত রাস্তায় সতর্ক বার্তার প্রদানকারী সরঞ্জাম পর্যাপ্ত পরিমাণ না থাকায় চালক কিছু বুঝে ওঠার আগেই গর্ত বা খানাখন্দে পড়ে দুর্ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছে।
গত বছর এ সড়কে মেরামত ও উন্নয়ন কাজ শুরুর থেকে ভাঙ্গা সড়ক ও জনপদ বিভাগের দায়িত্বরত উপ-সহকারী প্রকৌশলী আরিফ হোসেন বাবলুর দেখাশুনা করে আসছেন।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ওসি মোহাম্মদ রোকিবুজ্জামান আমার দেশকে বলেন, ভাঙ্গায় নতুন বছরের তিন মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত ও ৫০ জন আহত হয়েছে। সড়ক পথের নির্মাণ কাজের পাশাপাশি রাস্তাগুলোর বেহাল দশায় চালকের অভিজ্ঞতা না থাকায় জানমালের ক্ষয় হচ্ছে। সড়কের কাজ দ্রুত শেষ হলে দুর্ঘটনাও কমে যাবে বলে তিনি মনে করেন।
ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ আবু জাফর জানান, মহাসড়কের প্রশস্ত করণের কাজ চলছে এতে পর্যাপ্ত সতর্কবার্তা বা লাইটিং ব্যবস্থা থাকলে দুর্ঘটনার সংখ্যা কম হবে। নতুন বছরে এ সড়কে গর্তে পড়ে সাতটি দুর্ঘটনায় দু’জন নিহত ও ১৫ জন আহতের বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করেন।
ভাঙ্গা সড়ক ও জনপদ বিভাগের ভাঙ্গা সাবডিভিশনের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) আরিফ হোসেন বাবলু জানান, গত আগস্ট মাস থেকে সড়ক পথের উন্নয়ন কাজ শুরু করে দ্রুত গতিতে চলছে। রাস্তার দু’পাশে গর্ত খোঁড়ায় সাময়িক কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সতর্কতার সাথে চালকদের গাড়ি চালানোর জন্য সওজ বিভাগ থেকে সকল ধরনের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে রাস্তার সংস্কারের কাজ চলছে। সড়ক দুর্ঘটনার হাত থেকে নিরাপদ যানচলাচলের জন্য সজ্জ বিভাগ কাজের দেখভাল করে যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এমএস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

