ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ-সংঘর্ষে ১০ শিল্পপুলিশসহ অর্ধশতাধিক পোশাকশ্রমিক আহত

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ-সংঘর্ষে ১০ শিল্পপুলিশসহ অর্ধশতাধিক পোশাকশ্রমিক আহত

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ার শেল, ফাঁকা গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে শ্রমিকদের সরিয়ে দেয়।

বিজ্ঞাপন

শনিবার দুপুরে অবরোধের কারণে মহাসড়কের প্রায় সাত কিলোমিটার অংশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকায় শত শত যাত্রী ও চালক চরম দুর্ভোগে পড়েন।

শনিবার দুপুরের পর কালিয়াকৈরের পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকেরা। পল্লীবিদ্যুৎ, সফিপুর ও চন্দ্রা এলাকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিক এতে অংশ নেন। একপর্যায়ে তারা মহাসড়কে মাটিভর্তি বস্তা, কাঠ ও বাঁশ ফেলে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে সড়কের দুই পাশেই যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়।

শ্রমিকরা জানান, বেতন-ভাতা বাড়ানোর দাবিতে তারা কয়েক দিন ধরে কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনো সিদ্ধান্ত না দেওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রথমে কর্মবিরতি এবং পরে মহাসড়কে নেমে অবরোধ করেন।

শ্রমিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেতন বৃদ্ধির দাবিতে গত কয়েক দিন ধরেই গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় আন্দোলন চলছে। এ সময় মহাসড়ক অবরোধ, মিছিল ও কিছু কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের সুপার মো. আমজাদ হোসেন জানান, সকাল থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। দুপুরের পর হঠাৎ বিক্ষোভ শুরু হলে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আশপাশের ১০ থেকে ১২টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। তার ভাষ্য, কিছু উত্তেজিত শ্রমিক কারখানায় ইটপাটকেল ছুড়েছিলেন। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে শ্রমিকেরা মহাসড়কে ব্যারিকেড দিয়ে অবস্থান করেন। তাদের সহিংসতা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে ছিল।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন ছিল এবং অবরোধকারীদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু শ্রমিকেরা মহাসড়ক ছেড়ে না যাওয়ায় বিকেল পাঁচটার দিকে পুলিশ সড়ক খালি করার চেষ্টা করে। তখন শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। শ্রমিকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার শেল ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে।

পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন জানান, বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে টিয়ার শেল, ফাঁকা গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে আন্দোলনকারী শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর নিরাপত্তার জন্য মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন রাখা হয়েছে।

এদিকে গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে আন্দোলনরত পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে শিল্প পুলিশের ১০ সদস্য এবং অর্ধশতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

সকালে কোনাবাড়ী এলাকায় যমুনা ডেনিমস লিমিটেড কারখানার সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

শ্রমিকদের অভিযোগ, তাদের দাবি না মেনে কারখানা কর্তৃপক্ষ পুলিশ ডেকে দমন-পীড়ন চালিয়েছে। পুলিশের ছোড়া কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেডে অর্ধশতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শ্রমিকদের দাবির মধ্যে রয়েছে—২৫ জানুয়ারির মধ্যে বাৎসরিক ছুটির বকেয়া টাকা পরিশোধ, টিফিন বিল ৫০ টাকা ও নাইট বিল ১৫০ টাকা নির্ধারণ, সবার জন্য হাজিরা বোনাস ১ হাজার টাকা করা, প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে বেতন পরিশোধ, জরুরি প্রয়োজনে ছুটি মঞ্জুর এবং শ্রমিকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ বন্ধ করা।

এমই

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন