পড়াশোনার জন্য দেওয়া হয়েছে মোমবাতি

ইবির তিন হলে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, ২৪ ঘণ্টায়ও হয়নি সমাধান

ইবির তিন হলে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, ২৪ ঘণ্টায়ও হয়নি সমাধান
ছবি: সংগৃহীত

ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে পড়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের খালেদা জিয়া হল, উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হল এবং ছাত্রদের শাহ আজিজুর রহমান হল। দীর্ঘ ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি এসব হলে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হলগুলোর শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে শনিবার সকাল ১০টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত হল তিনটি বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। এতে তীব্র গরম, পানির সংকট, ডিভাইসে চার্জ না থাকা, খাবারের সমস্যা, ঘুমের ব্যাঘাতসহ নানা ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা।

বিজ্ঞাপন

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুক্রবার সকাল থেকেই হলগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বিকেল ৫টার দিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার কথা থাকলেও সন্ধ্যা ৭টার দিকে জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহের চেষ্টা করা হয়। কিছুক্ষণ পর সেই সংযোগও বন্ধ হয়ে যায়। পরে রাত পৌনে ৮টার দিকে আবার জেনারেটর চালু করা হলেও নির্ধারিত জায়গা ছাড়া এবং ভোল্টেজ কম থাকায় পর্যাপ্ত সুবিধা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

এদিকে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় হলে অবস্থান করা কঠিন হয়ে পড়েছে শিক্ষার্থীদের জন্য। বিশেষ করে রাতে পড়াশোনা, অনলাইন ক্লাস ও স্বাভাবিক ঘুমের ব্যাঘাত ঘটেছে শিক্ষার্থীদের। বিদ্যুৎ না থাকায় পানির পাম্পও স্বাভাবিকভাবে চালানো যাচ্ছে না। ফলে ওযু, গোসলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে এবং খাওয়াদাওয়ার ক্ষেত্রে পানির সমস্যায় পড়ছেন তারা।

এছাড়া পূর্বপ্রস্তুতি না থাকায় অনেকেই পড়ছেন মোবাইল ও ল্যাপটপের চার্জ শেষ হয়ে যাওয়া, তীব্র গরম এবং মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনার প্রতিবন্ধকতায়। আজ সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা থাকা শিক্ষার্থীরা ছিলেন অবর্ণণীয় ভোগান্তিতে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার বিষয়ে বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলীর স্বাক্ষরিত একটি নোটিসে ক্যাম্পাসের ৪ নম্বর সাবস্টেশনে (জুলাই-৩৬ হলের সামনে) বৈদ্যুতিক এইচটি ক্যাবলে ত্রুটি দেখা দিয়েছে বলে জানানো হয়েছিল। ত্রুটি নিরসনের জন্য ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শাহ আজিজুর রহমান হলের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার কথা ছিল।

কিন্তু নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ না রেখে শুক্রবার সকাল থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়। একই সঙ্গে নোটিসে বিকেল ৫টার মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার কথা বলা হলেও শুক্রবার রাত পেরিয়ে শনিবার সকাল পর্যন্ত সংযোগ স্বাভাবিক হয়নি। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

আয়েশা সিদ্দিকা হলের শিক্ষার্থী জান্নাতুন ফেরদৌস বর্ষা ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘শুক্রবার সকাল থেকে হলে বিদ্যুৎ নেই। সারা দিন এভাবেই গেছে। রাতে কিছুক্ষণ জেনারেটর দেওয়া হলেও আবার বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি জানানোর পর পড়াশোনার জন্য মোমবাতি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বিদ্যুৎ ঠিক করার কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখছি না।

প্রভোস্ট স্যারকে ফোন দিয়ে বিষয়টা জানালে ওনার উত্তরÑ হলে বিদ্যুৎ নেই আমাকে কেন বলছ? কর্তৃপক্ষকে জানাও। এই কর্তৃপক্ষটা আসলে কে, এটাই জানতে চাই।’

খালেদা জিয়া হলের শিক্ষার্থী তিশা ক্ষোভ ঝেড়ে বলেন, ‘স্টুডেন্টদের আবগত না করে সারা দিন বিদ্যুৎ নাই। তারা কী পরিস্থিতি সম্মুখীন হবে প্রশাসন কি একবারও ভেবে দেখেছে? ২৪ ঘণ্টার বেশি হয়ে গেছে এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎ আসেনি। তারা কি ভাবছে ছেলেমেয়েরা কীভাবে আছে? মেয়েদের হলে খাওয়ার পানি নেই। মেয়েরা ওয়াশরুমে যাবে, সেই পানিটুকু পর্যন্ত নেই। জাস্ট ইমাজিন করুন, এমন একটা সিচুয়েশনে যেসব মেয়ে পিরিয়ড ফেস করছে, তারা কীভাবে আছে? যাদের আজকে সেমিস্টার ফাইনাল ছিল, তারা কীভাবে কী করছে, তাদের কি বিন্দু পরিমাণ আইডিয়া আছে? এটা কি একটা পাবলিক ভার্সিটির প্রশাসনের অবস্থা?’

প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ ও প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘সেম ঘটনা যদি কোনো শিক্ষকের ডরমিটরিতে ঘটত, তারা কি তাদের পরিবার নিয়ে ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছাড়া থাকত? যদি ভিসির বাসভবনে ঘটত, তাহলেও কি ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে যাওয়ার পরে কোনো সমাধান আসত না? ধন্যবাদ ইবি প্রশাসন! নিজেরা এসি, ফ্যানের নিচে বসে থেকে শিক্ষার্থীদের ২৪ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ ছাড়া রাখার জন্য।

ইবির শিক্ষার্থীদের এটা বোঝিয়ে দেওয়ার জন্যও ধন্যবাদ যে তারা জীবনের সব থেকে বড় পাপ করেছে এখানে পড়তে এসে ‘

শাহ আজিজুর রহমান হলের ইলিয়াস বলেন, ‘২৪ ঘণ্টা ধরে হলে বিদ্যুৎ নেই—এটা কোনোভাবেই স্বাভাবিক বিষয় হতে পারে না। দিনের বেলায় প্রচণ্ড গরমে ফ্যান ছাড়া থাকা যাচ্ছে না আর রাতে গরমের পাশাপাশি মশার কারণে ঘুমানোও কঠিন হয়ে যায়। এর মধ্যে পড়াশোনা একেবারেই ব্যাহত হচ্ছে। যাদের সেমিস্টার পরীক্ষা চলছে, তাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে।

ফোন-ল্যাপটপ চার্জ দিতে না পারায় অনেকের অনলাইন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎ আসার নাম-গন্ধ নাই। হলের আবাসিক শিক্ষার্থীর ন্যূনতম স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগটুকুও যেন বিলাসিতা এখন।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল মালেক মিয়া বলেন, ‘ক্যাম্পাসের ৪নং সাবস্টেশনের সংস্কারকাজ করতে গিয়েই লাইনে একটু সমস্যা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে গতকাল রাতে বিষয়টি ঠিক করতে না পারায় আমরা জেনারেটরের লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুতের সংযোগ দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চালিয়েছিলাম, কিন্তু সেখানেও হলে বা বিভিন্ন জায়গায় লাইনে ফল্ট করেছে।

পল্লী বিদ্যুতের লোকজনকে ডেকেছি, সাথে আমরাও যাচ্ছি। প্রত্যেকটি লাইন সব জায়গায় চেক করে আসলে সমস্যাটা কোন জায়গায় তা বের করে দ্রুতই সমাধান করা হবে।’

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন