খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আজমল (৩৫) নামের এক যুবককে মারধরের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।
শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার একটি ভবনের চতুর্থ তলার ছাদে তাকে কয়েকজন মারধর করেন বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় নিচে পড়ে থাকা আজমলকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত আজমল হরিণটানা এলাকার কুতুবের ছেলে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরিচয় দেওয়া কয়েকজন যুবক গুরুতর আহত অবস্থায় আজমলকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে নেওয়ার ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে তার মৃত্যু হয়। এ সময় সঙ্গে থাকা যুবকেরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানান, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার একটি ভবনের চতুর্থ তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে আজমল আহত হয়েছেন।
তবে হাসপাতাল সূত্র বলছে, আজমলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তার মাথার চুলও এক পাশ দিয়ে কাটা ছিল। মৃত্যুর পর তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা যুবকেরা দ্রুত সেখান থেকে চলে যান।
স্থানীয় কয়েকজন বাড়ির মালিক জানান, রাত সাড়ে ১২টা থেকে ১টার দিকে পাশের একটি ভবন থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনে তারা বাইরে বেরিয়ে আসেন। এ সময় ওই ভবনের চতুর্থ তলার ছাদে কয়েকজনকে একজনকে মারধর করতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পর ওই ব্যক্তিকে নিচে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তিনি পানি চাইলে স্থানীয়রা তাকে পানি দেন।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে কয়েকজন আজমলকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন বলেন, ঘটনাটি তারা জানতে পেরেছেন। নিহত আজমলের লাশ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দেওয়া হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, আজমলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, তার শরীরে আঘাতের ধরন এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

