সাতক্ষীরার শ্যামনগরে এক নারীর ঘর থেকে আব্দুল মান্নান (৪৫) নামে যুবদলের এক নেতাকে বিবস্ত্র অবস্থায় আটক করে উত্তেজিত জনতা গণধোলাই দিয়েছে। এ ঘটনার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের হরিনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
তিনি শ্যামনগর পৌরসভার চন্ডিপুর গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে এবং পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির নেতা আবুল কাশেম, আবু হামজাসহ একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য, বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয়রা এক নারীর বাড়ি ঘেরাও করে। পরে ভেতর থেকে বন্ধ থাকা ঘরের দরজা ভেঙে আব্দুল মান্নানকে বিবস্ত্র অবস্থায় আটক করা হয়। এ সময় উত্তেজিত জনতা তাকে গণধোলাই দেয়। পরে দলীয় নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যান।
ওই নারী অভিযোগ করেন, একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় (এনজিও) কর্মসূত্রে পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে আব্দুল মান্নান দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিভিন্নভাবে বিরক্ত ও অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। তার দাবি, বৃহস্পতিবার বাজারে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে মান্নান তার বাড়িতে প্রবেশ করলে স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে তাকে আটক করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে ২০২৫ সালের ৭ জুলাই অন্যের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে চাঁদা দাবির অভিযোগে পৌর যুবদলের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। এছাড়া গত ২ মার্চ শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবে হামলার ঘটনায়ও তার জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়। ভিডিওটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
শ্যামনগর পৌর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ফরিদুজ্জামান বাবু বলেন, বিষয়টি দলের নজরে এসেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও এ বিষয়ে থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আব্দুল মান্নানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

