বাগেরহাটের মোংলায় সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন স্থানীয় এক সাংবাদিক। ৯ মে রাতে মোংলার সুন্দরবন ইউনিয়নের বাঁশতলা বাজার সংলগ্ন জাহাঙ্গীরের চায়ের দোকান এলাকায় সংঘবদ্ধভাবে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিক খাঁন আশিকুজ্জামান বর্তমানে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলাকারীদের আটক করতে পারেনি পুলিশ।
খাঁন আশিকুজ্জামান দৈনিক আমার দেশ-এর মোংলা উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। এ বিষয়ে তিনি মোংলা থানায় একটি লিখিত এজাহার দাখিল করেছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, খান আশিকুজ্জামান এলাকায় মাদক, চোরাচালান ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছিলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় তার ওপর হামলা চালায় এলাকার চিহ্নিত একদল সন্ত্রাসী।
থানায় দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সন্ত্রাসীরা সাংবাদিক খান আশিকুজ্জামানের ওপর লোহার রড, হাইড্রোলিক পাইপ, বাঁশের লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে তার হাত, পা, পাঁজরসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।
এছাড়া তার স্মার্টফোন (মূল্য ৩৮ হাজার টাকা) ছিনিয়ে নেয়ার পাশাপাশি প্যান্টের পকেট থেকে ২৪,৫২০ টাকা লুট করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা তাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে অচেতন হয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত সাংবাদিকের স্ত্রী রাবেয়া বেগম বাদী হয়ে মোংলা থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগে ৮ জনের নামসহ অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
আহত খাঁন আশিকুজ্জামান বলেন, আমি পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে হামলার শিকার হয়েছি। এর আগে একাধিকবার হুমকি পেয়েছি। এই ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
এ বিষয়ে মোংলা থানার ওসি আনিসুর রহমান বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়ে একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। আসামিদের আটক করতে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও নাগরিক সমাজ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

