এক নার্সের দায়িত্বে ৫৫ রোগী

৪৮ শয্যায় ১৬৭ শিশু, নাজেহাল খুমেক শিশু ওয়ার্ড

খুলনা ব্যুরো

৪৮ শয্যায় ১৬৭ শিশু, নাজেহাল খুমেক শিশু ওয়ার্ড
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বারান্দা, মেঝে ও সিড়ির গোড়ায় মাদুর পেতে চলছে চিকিৎসা। ছবি: আমার দেশ

তিল ধারণের ঠাঁই নেই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে। শয্যা সংখ্যার তিনগুণ বেশি রোগীকে সেবা দিতে গলদঘর্ম হতে হচ্ছে ডাক্তার, নার্স, ওয়ার্ডবয়দের। ৪৮ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি ১৬৭ রোগী। ফলে ওয়ার্ডের মেঝে, বারান্দা, সিঁড়ির গোড়া, বাথরুমের সামনের ফাঁকা জায়গা- সবখানে মাদুর পেতে স্থান সংকুলান করা হয়েছে। প্রায় রাতে একজন নার্স গড়ে ৫৫ শিশুকে সেবা দিচ্ছেন। অক্সিজেন সিলিন্ডার সংকটের কারণে একাধিক রোগীর মধ্যে ভাগাভাগি করতে হচ্ছে।

গত রোববার খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড সরেজমিনে ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বিজ্ঞাপন

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চতুর্থ তলায় শিশু ওয়ার্ডে মোট ৪৮টি শয্যা রয়েছে। সাধারণ শিশু রোগীদের জন্য রয়েছে ৩২টি শয্যা। নিউনেটাল ইউনিটের চারটি শয্যায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে ১২ শিশুকে। রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল ১৬৭ শিশু। এর আগে ৮ আগস্ট ১৪২, ৭ আগস্ট ১২৩, ৬ আগস্ট ১৫৬ এবং ৫ আগস্ট ১৪৯ জন শিশু ভর্তি ছিল। অর্থাৎ গত কয়েক দিন ধরেই গড়ে দেড় শতাধিক শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, শয্যা না পেয়ে অসুস্থ শিশুদের মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ওয়ার্ডের ভেতরের বারান্দা থেকে শুরু করে বাইরের বারান্দা পর্যন্ত কোথাও জায়গা খালি নেই। লিফট থেকে বের হলেই চোখে পড়ে রোগী ও স্বজনদের ভিড়। কোথাও শিশুকে কোলে নিয়ে স্বজন দাঁড়িয়ে আছেন, কোথাও মেঝেতে শুইয়ে চলছে চিকিৎসা। এতে রোগী, স্বজন ও চিকিৎসা সংশ্লিষ্টদের চলাচলও কঠিন হয়ে পড়েছে। শিশু ওয়ার্ডে মোট ১৯ জন নার্স দায়িত্ব পালন করেন। সকালে ছয়জন, বিকেলে চারজন ও রাতে তিনজন।

রেক্সোনা পারভীন নামে এক রোগীর মা অভিযোগ করলেন, জ্বর-কাশি সমস্যা নিয়ে তার বাচ্চাকে ভর্তি করেছেন। বাচ্চা অনেক কান্নাকাটি করে। সে সময় পরামর্শ নিতে নার্সদের কাছে গেলে কথা শোনার পরিবর্তে দুর্ব্যবহার করে। অভিন্ন অভিযোগ আরও অনেক রোগীর অভিভাবকদের।

ওয়ার্ডের ইনচার্জ সিনিয়র স্টাফ নার্স তামিমা সুলতানা বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী তিনজন রোগীর বিপরীতে একজন নার্স থাকার কথা। কিন্তু ১৬৭ রোগী থাকায় সকালে একজন নার্সকে গড়ে ৩৩ জন এবং রাতে ৫৫ জন রোগীর দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০ জন নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় নার্সদের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়। একজন রোগীর সঙ্গে একাধিক স্বজন থাকায় ওয়ার্ডে ভিড় বাড়ে। দ্রুত পৃথক আরও একটি শিশু বিভাগ চালু এবং স্বজনদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। শিশু ওয়ার্ডে রয়েছে মাত্র ১৭টি অক্সিজেন সিলিন্ডার। রোগীর চাপ বিবেচনায় প্রয়োজন অন্তত ৪০টি। ওয়ার্ডের ইনচার্জের দাবি, কখনো একটি সিলিন্ডার থেকে একাধিক শিশুকে অক্সিজেন দিতে হয়। এতে সংকটাপন্ন রোগীর চিকিৎসায় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ কারণে আরও ২০টি সিলিন্ডারের চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছে।

শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সৈয়দা রোকসানা পারভীন বলেন, ৪৮ শয্যার বিপরীতে সবসময় তিন গুণের বেশি রোগী থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হয়। প্রতিটি শিশুর সঙ্গে মা বা একাধিক স্বজন থাকায় ওয়ার্ডে মানুষের চাপ আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তাই রোগীর চাপ কমানোর পাশাপাশি স্বজনদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ জরুরি।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, ওষুধের তেমন ঘাটতি নেই। আগামী ১৮ আগস্ট ইডিসিএল থেকে আরও ওষুধ আনা হবে। এরপর ওষুধের সংকট থাকবে না। তিনি বলেন, অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওয়ার্ডে সিলিন্ডার সরবরাহ করা সম্ভব।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন