মাদকসেবী, ছিনতাইকারী ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের তৎপরতা রোধে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি পকেট গেটে তালা লাগিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শনিবার দুপুরে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা শেষে গেটটিতে তালা লাগান রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক পরিতোষ চক্রবর্তীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সভায় বক্তব্যে সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, মাদক বর্তমানে সমাজের অন্যতম প্রধান সমস্যা। মাদকের কারণে ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে মাদকসেবীদের আড্ডা এবং কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু প্রশাসন নয়, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও অভিভাবকদেরও সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে। সবাই একযোগে কাজ করলে হাসপাতাল এলাকা মাদক, ছিনতাইকারী ও কিশোর গ্যাংমুক্ত রাখা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক পরিতোষ চক্রবর্তী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ইতিপূর্বে তাদের মর্জি মাফিক এই হাসপাতালগুলো পরিচালনা করেছে। কখনো তারা কাউকে কোন কৈফিয়ত দেয়নি। কোন কাজটি করলে এই হাসপাতাল এলাকা মাদক এবং কিশোর গ্যাংদের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব সে বিষয়ে তারা কখনো পদক্ষেপ নেয়নি।
হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় আলোচনার মাধ্যমে জানা গেছে, পকেট গেটটি ব্যবহার করে রাতের বেলায় মাদক কারবারি, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য এবং ছিনতাইকারীরা হাসপাতাল এলাকায় প্রবেশ করে বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়। এ কারণে গেটটি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আপাতত তালা লাগিয়ে বন্ধ করা হলেও ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে ইটের দেয়াল তুলে গেটটি বন্ধ করে দেওয়া হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আশিকুল আরেফিন বলেন, রাত হলেই হাসপাতাল এলাকায় মাদকসেবীদের আড্ডা বসত। স্থানীয় কিছু যুবক ওই গেট দিয়ে অবাধে প্রবেশ করে আড্ডা দিত এবং হাসপাতালের আশপাশে ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটত। বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তাই হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় গেটটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করার সুপারিশ করা হয়েছে। গেট বন্ধ হওয়ার ফলে হাসপাতাল এলাকায় শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আঞ্জুমান সুলতানা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহাদত হোসেন, বদরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ হাসান জাহিদ সরকার, উপজেলা জামায়াতের আমির কামরুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুল হক মানিক, হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

