কাউনিয়ায় কোরবানির ২৫ হাজার পশু প্রস্তুত

উপজেলা প্রতিনিধি, কাউনিয়া (রংপুর)

কাউনিয়ায় কোরবানির ২৫ হাজার পশু প্রস্তুত

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় কোরবানির পশু প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারি ও গৃহস্থরা। স্থানীয় চাহিদার তুলনায় এবার উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পশু উদ্বৃত্ত থাকায় উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে পার্শ্ববর্তী উপজেলা ও জেলার হাটগুলোতেও পশু সরবরাহের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

একই সঙ্গে ঈদকে কেন্দ্র করে কাউনিয়ার বিভিন্ন পশুর হাটে ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে পশুর সরবরাহ ও ক্রেতাদের উপস্থিতি। ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের পশু নিয়ে হাটে আসছেন বিক্রেতারা। অন্যদিকে ক্রেতারাও পশুর স্বাস্থ্য, ওজন ও গঠন যাচাই-বাছাই করে দরদাম করছেন।

বিজ্ঞাপন

উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর কাউনিয়ায় মোট ৩ হাজার ২৮০ জন খামারি কোরবানির পশু হৃষ্টপুষ্টকরণ কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন। খামার ও গৃহস্থ পর্যায়ে মোট ২৫ হাজার ৮৬০টি গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে। বিপরীতে উপজেলার মোট চাহিদা রয়েছে ১৭ হাজার ৪১১টি পশু। সে হিসেবে উদ্বৃত্ত থাকছে ৮ হাজার ৪৪৯টি কোরবানির পশু।

প্রস্তুত পশুর মধ্যে রয়েছে ৬ হাজার ৬৯৭টি ষাঁড়, ২ হাজার ৩৬টি বলদ, ২ হাজার ৯২টি গাভী ও বকনা, ৯৮টি মহিষ, ১৪ হাজার ৮৪টি ছাগল, ৮৪৬টি ভেড়া এবং অন্যান্য ৭টি পশু।

বিক্রেতারা জানান, গো-খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে এবার পশু পালনে খরচ অনেক বেড়েছে। খড়, ভুসি, খৈল ও অন্যান্য খাদ্যের দাম বাড়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। ফলে গত বছরের তুলনায় এবার পশুর দাম কিছুটা বেশি রাখা হচ্ছে।

অন্যদিকে ক্রেতাদের অনেকে বলছেন, বাজারে পশুর সরবরাহ ভালো থাকলেও প্রতি পশুর দাম গত বছরের তুলনায় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বেশি চাওয়া হচ্ছে। তাই পছন্দের পশু কিনতে হিসাব-নিকাশ করেই এগোচ্ছেন তারা।

হারাগাছ খানসামা হাটের ইজারাদার তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “হাট ধীরে ধীরে জমতে শুরু করেছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকেও আমাদের সহযোগিতা করা হচ্ছে।”

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ আর এম মামুন বলেন, “পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে উপজেলার খামারিদের সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। পশুর স্বাস্থ্যসেবা, রোগ প্রতিরোধ, চিকিৎসা পরামর্শ ও হৃষ্টপুষ্টকরণ কার্যক্রমে কাউনিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ গুরুত্বসহকারে কাজ করছে।”

তিনি আরও জানান, সোমবার থেকে উপজেলার বিভিন্ন পশুর হাটে মেডিকেল টিম দায়িত্ব পালন করবে। স্থানীয় খামারিদের উৎপাদিত পশু দিয়েই উপজেলার চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে। পাশাপাশি উদ্বৃত্ত পশু বাইরের বাজারেও সরবরাহ করা যাবে।

তিনি বলেন, “পশু মোটাতাজাকরণে কেউ যাতে কোনো অসৎ পন্থা অবলম্বন করতে না পারে, সে বিষয়েও নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে।”

প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা আশা করছেন, পর্যাপ্ত পশু সরবরাহ, নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা ও সরকারি তদারকির কারণে এবার কাউনিয়ার কোরবানির পশুর বাজারে খামারিরা ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং ক্রেতারাও নিরাপদ ও মানসম্মত পশু কিনতে পারবেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন