এক্সপ্রেসওয়েতে বেপরোয়া চলালেই মামলা, তিনবার হলে নিষিদ্ধ

এক্সপ্রেসওয়েতে বেপরোয়া চলালেই মামলা, তিনবার হলে নিষিদ্ধ

আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে বেপরোয়া গতিতে চালালে ভিডিও নজরদারির মাধ্যমে গতিসীমা রেকর্ড করে মামলা করা হবে বলে জানিয়েছে ফার্স্ট ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও অ্যান্ড এম (অপারেশন ও মেইনটেনেন্স) কোম্পানি লিমিটেড। একই গাড়ি তিন বারের বেশি গতিসীমা লঙ্ঘন করলে ভবিষ্যতে ওই গাড়ি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হবে।

শনিবার রাজধানীর কুড়িলে কোম্পানির সেন্ট্রাল কন্ট্রোল বিল্ডিংয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য জানান কোম্পানির যান চলাচল, সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক হাসিব হাসান খান।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, কোনো গাড়ি ১০০ কিলোমিটারের বেশি গতিসীমা অতিক্রম করলে মামলা করতে পুলিশকে আমরা বলা হবে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা হবে।

হাসিব হাসান খান বলেন, ভিডিও ক্যামেরাগুলো কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টারে থাকায় সেখানে পুলিশ কর্মকর্তাদের সব সময় উপস্থিত থাকা সম্ভব না। সেজন্য একটা কেবলের মাধ্যমে পুলিশের দফতরে সংযোগ দেওয়া হবে, যাতে সেখানে বসে তদারকি করতে পারে।

তিনি জানান, মামলার তথ্যের উপর ভিত্তি করে একই গাড়ি তিন বারের বেশি গতিসীমা লঙ্ঘন করলে ভবিষ্যতে ওই গাড়ি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হবে।

হাসিব হাসান খান জানান, ২০২৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর ফার্স্ট ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে যাত্রা শুরু করার পর থেকে প্রধানত ৫টি সমস্যা মোকাবেলা করেছি আমরা। এগুলো হল-ওভারহিট গাড়ি, চাকা পাংচার, জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়া, বিমানবন্দরের যাত্রী সেবা, দুর্ঘটনা ঘটা।

তিনি জানান, এক্সপ্রেসওয়ে চালুর পর থেকে এ পর্যন্ত শুধু জানুয়ারি মাসে এক্সপ্রেসওয়েতে চলাচল করা অবস্থায় ৯০টি গাড়ির ইঞ্জিনের সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়া টায়ার ব্রাস্টের ঘটনা ঘটে ৫১টি, জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার ২০টি ঘটনা ঘটেছে। এর বাইরে এ পর্যন্ত বড় আকারের ১০টি দুর্ঘটনা ঘটেছে বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বেশ কিছু দুর্ঘটনা এবং উদ্ধারের ভিডিও চিত্রও প্রদর্শন করা হয়। এছাড়া এক্সেপ্রেসওয়েতে চলাচল করা গাড়িগুলোর জন্য বেশ কিছু নীতিমালা নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হল-

সুশৃঙ্খল ট্র্যাফিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সবসময় নির্ধারিত লেনের মধ্যে গাড়ি চলাচল করতে হবে।

সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া লেন পরিবর্তন করা হলে ঐ গাড়ির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এক্সপ্রেসওয়েতে গাড়ি থামানো বা পার্কিং কঠোরভাবে নিষেধ।

যান চলাচলে গাড়ি বা মেশিনারিজ ত্রুটি বা অন্য যে কোনো সমস্যা অনুভব করলে জরুরি লেনে যেতে হবে এবং দ্রুত এক্সপ্রেসওয়ের নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

টোল প্লাজা, টোল সংগ্রহের বুথ, লেন এবং এর এক্সপ্রেসওয়ের অবকাঠামোগত যে কোনো ক্ষতির জন্য যানবাহনের মালিকদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে।

উন্মুক্ত যান, অতিরিক্ত কালো ধোঁয়া নির্গত করে এমন যানবাহন, যাত্রীরা দাঁড়িয়ে যাতায়াত করে এমন খোলা যানবাহন, নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করে এমন অনুপযুক্তভাবে সুরক্ষিত পণ্যবাহী যান চলাচল কর্তৃপক্ষ নিষিদ্ধ ঘোষণা করবেন।

এক্সপ্রেসওয়েতে যাত্রী নামানো সম্পূর্ণ নিষেধ। কোনো যাত্রীবাহী বাস অথবা অন্য কোনো যানবাহন যদি এক্সপ্রেসওয়েতে যাত্রী নামান তাহলে ওই গাড়ির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিটা যানবাহন একটির সাথে আরেকটির নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

যানবাহন থেকে যে কোনো জিনিসপত্র (যেমন টোল টিকেট, টিস্যু পেপার) এক্সপ্রেসওয়েতে ছুড়ে ফেলা নিষেধ।

মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির এক্সপ্রেসওয়েতে গাড়ি চালানো সম্পূর্ণ নিষেধ এবং গাড়ী ড্রাইভিং করার সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার সম্পূর্ন নিষেধ।

অ্যালকোহল, ড্রাগ বা অন্য কোনও নেশাদ্রব্য বা ক্ষতিকারক কিছু গ্রহণ করে গাড়ি ড্রাইভিং করা কঠোরভাবে নিষেধ।

টোল প্লাজার লেনে প্রবেশের সময় পণ্যবাহী ট্রাক পিকআপ, পণ্যসমূহ যথাযথ ভাবে ঢেকে এবং বেঁধে রাখতে হবে।

নির্মাণ কাজে নিয়োজিত কোনো ধরনের ভারী ও ধীরগতির যানবাহন টোল লেন এবং এক্সপ্রেসওয়েতে প্রবেশের অনুমতি নেই।

দুই বা তিন চাকার গাড়ি এক্সপ্রেসওয়েতে প্রবেশের অনুমতি নেই।

একটি যানবাহন অন্য একটি যানবাহনকে দড়ি বা অন্য অনুপযুক্ত উপায়ে বেধে টেনে নিয়ে টোল লেনে প্রবেশের অনুমতি নেই।

এক্সপ্রেসওয়ের নিরাপত্তাজনিত কারণে কোনো ধরনের খোলা ট্রাক-পিকআপ যাতে মানুষ রয়েছে, তা টোল লেনে প্রবেশ করতে পারবে না।

টোল লেনে প্রবেশের সময় যানবাহনের গতি ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটারের নিচে থাকতে হবে। অন্যথায়, যানবাহনের কারণে লেনের দেওয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে; যার ক্ষতিপূরণ যানবাহনের মালিকের বহন করতে হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন