ফ্যাসিবাদী বিচারকদের বিচারের আওতায় আনার দাবি

ফ্যাসিবাদী বিচারকদের বিচারের আওতায় আনার দাবি

ফ্যাসিবাদের দোসর বিচারকদের অবিলম্বে অপসারণ এবং বিচারের দাবিতে সোমবার বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম। সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা খায়রুল হকসহ যেসব বিচারক ফ্যাসিস্ট হাসিনার দোসর হিসেবে কাজ করেছে তাদের দ্রুত অপসারণ এবং বিচার করার দাবি জানান।

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন বিক্ষোভ সমাবেশে বলেন, আমরা ভেবেছিলাম ৫ আগস্টের পর যারা বেগম খালেদা জিয়াকে বাড়ি ছাড়া করেছিলেন। তাকে দীর্ঘদিন জেলে আটকে রেখে অসুস্থ করেছিলেন, তারা নিজ থেকে চলে যাবেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আপনারা যাননি। আপনাদের জন্য আবার আইনজীবী ফোরামকে রাস্তায় দাঁড়াতে হয়েছে। এখনো সময় আছে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নিজেরা পদত্যাগ করে

বিজ্ঞাপন

ফোরামের সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের আহ্বায়ক ব্যারিস্টার এম বদরুদ্দোজা বাদলের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব ও বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, আইন সমিতির আহ্বায়ক ও ফোরামের সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের সি: ভাইস প্রেসিডেন্ট মনির হোসেন এবং ফোরামের সদস্য সচিব এ্যাডভোকেট গাজী তৌহিদুল ইসলাম। 

সমাবেশে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব ও বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, পতিত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা একদিনে ফ্যাসিস্টে পরিণত হননি। রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গ তাকে ‘ফ্যাসিস্টে’ পরিণত করতে কাজ করেছে প্রত্যক্ষভাবে। সেসব প্রতিষ্ঠানের অন্যতম হল বিচার বিভাগ। অনেক বিচারপতি নির্লজ্জভাবে দলীয় মতাদর্শ ধারণ করে শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট রেজিমকে দীর্ঘায়িত করার জন্য স্বপ্রণোদিত হয়ে অনেক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায়, তাকে কারাগারে প্রেরণ সব কিছু ছিল শেখ হাসিনার নির্দেশে। ব্যারিস্টার কায়সার কামাল আরও বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে এই মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ থেকে একটি বেঞ্চ (বিচারপতি জেবিএম হাসানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ) বিএনপির অনেক এমপিকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করেছিল। বেগম খালেদা জিয়াসহ বিএনপির অনেক এমপি প্রার্থীকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করেছিল। কোনো আইনকে ফলো করে নাই। শুধুমাত্র শেখ হাসিনার নির্দেশকে বাস্তবায়ন কারা জন্য এবং সেই বিচারকদের দলীয় আদর্শকে ধারণ করে তাদের মতবাদকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য এরকম অন্যায় কাজ করা হয়েছিল। 

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব বলেন, আমরা আশা করি সেই সব বিচারপতিরা নিজেরাই বিবেকের তাড়নায় স্বেচ্ছায় এই পবিত্র বিচারাঙ্গন থেকে বিদায় নিয়ে বাড়ি চলে যাবেন। কিন্তু এখনো কিছু কিছু ফ্যাসিস্ট বিচারক আরও প্রমোশনের আশায় বহাল তবিয়তে রয়ে গেছেন। অনতিবিলম্বে তারা যেন চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন