বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে কুমিল্লায় ছাত্র-জনতার পক্ষে জীবনবাজি রেখে আন্দোলন করা এবং জনস্বার্থে স্থানীয় খাল দখলের প্রতিবাদ করায় কোতয়ালী থানার ওসির সহযোগিতায় মিথ্যা মামলায় বাড়ি ছাড়া প্রকৌশলী মনিরুল আলম। ভোক্তভোগীর অভিযোগ, কুমিল্লায় ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের এমপি বাহারের দোসর বরখাস্তকৃত চাঁদাবাজ কাউন্সিলর সরকার মাহমুদ জাভেদ ও তার লেলিয়ে দেয়া সন্ত্রাসীরা প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছে।
কুমিল্লা শহরের রেইসকোর্স এলাকার ১ নং খতিয়ানের ৫৭৮ দাগের সরকারি খালটি দখলমুক্ত করার আবেদনকে কেন্দ্র করে প্রথমে তিনি স্থানীয় আওয়ামী সন্ত্রাসীদের রোষানলে পড়েন। পরবর্তীতে জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণে নতুন করে আওয়ামী দোসরদের টার্গেটে পড়েন তরুণ এই প্রকৌশলী। প্রকৌশলী মনিরুল আলম আন্দোলনে একজন সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হওয়ার পরও কুমিল্লা কোতয়ালী থাকার ওসি মহিনুল ইসলাম ও সদর দক্ষিণ থানার ওসি রফিকুল ইসলাম অর্থের বিনিময়ে উল্টো তাকে বৈষম্যবিরোধী মামলাগুলোতে ফাঁসিয়ে দিয়ে গ্রেফতার করে।
সোমবার ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। কুমিল্লা শহরের রেইসকোর্স এলাকার বাসিন্দা প্রকৌশলী মনিরুল জানান, আমি দীর্ঘদিন লন্ডনে বসবাস করে বর্তমানে দেশে এসে আউটসোর্সিং বিজনেস করছি এবং আইন বিষয়ে পড়াশোনা করছি। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র-জনতার পক্ষে থেকে আন্দোলন করায় ২১ জুলাই ২০২৪ সালে আমার নামে দুইটি মামলা দেয়া হয়। মূলত কুমিল্লা সিটির রেইসকোর্সে অবস্থিত ১নং আরএস খতিয়ানের ৫৭৮ নং দাগের সরকারি খাল উদ্ধারের জন্য জনস্বার্থে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন দেয়ায় ও হাইকোর্টে রিট করায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্রদের উপর সশস্ত্র হামলাকারী কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক, কুমিল্লা সিটির ৩নং ওয়ার্ডের বরখাস্তকৃত কাউন্সিলর সরকার মাহমুদ জাভেদের দোসর কুমিল্লা কোতয়ালী থানার ওসি মহিনুল ইসলাম মোটা অঙ্কের অর্থের লেনদেন করে ছাত্রলীগের কর্মীদের লেলিয়ে দিয়ে ১০ অক্টোবর ২০২৪ সালে আমার বাড়িতে ডাকাতি করার পরবর্তীতে উল্টো আমার নামে ৮টি মিথ্যা মামলা দেয়। ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর কুমিল্লা কোতয়ালী থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলাম ও সরকারি খাল দখলদার বাবুল, টিটু, আবুল কাশেম, সরকার ফারুক, সৌরভ, প্রিন্স, হারুন, নাহিদ, কাইয়ুম, এনাম ও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের অংশীদার চাঁদাবাজি মামলায় বরখাস্তকৃত ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর চাঁদাবাজ সরকার মাহমুদ জাভেদ এর সাথে অনৈতিকভাবে মোটা অঙ্কের অর্থের লেনদেন করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে আমি আন্দোলন করার পরও আমার প্রকৃত ভূমিকা আড়াল করে ৮টি মিথ্যা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিপক্ষের মামলা দিয়ে আমাকে অন্যায়ভাবে জেল হাজতে প্রেরণ করে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কুমিল্লা সিটির চাঁদাবাজ জাভেদ ও রেইসকোর্সের সরকারি খাল দখলদাররা ভিন্ন ভিন্ন বাদী সাজিয়ে আমার বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করে। উক্ত মামলাগুলি আদালতে মিথ্যা বলিয়া প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত সকল মামলাগুলি খারিজ করে দেয়। আমি স্থানীয় পয়ঃনিষ্কাশন ও জলশ্রোতের ধারা অব্যাহত রাখতে কুমিল্লা সিটির রেইসকোর্সে অবস্থিত ১নং আরএস খতিয়ানের ৫৭৮ নং দাগের উক্ত খালটি অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে উদ্ধারের জন্য জনস্বার্থে মহামান্য হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশান দাখিল করি।
রিট পিটিশান এর শুনানিতে বিচারপতি ফাতেমা নাজিব ও বিচারপতি সিকদার মাহমুদুর রাজি কুমিল্লা জেলা প্রশাসককে ৩০ দিনের মধ্যে উক্ত খালটি অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে উদ্ধারের জন্য ১৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সালে আদেশ প্রদান করেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক অজানা কারণে খালটি উদ্ধারের জন্য এখনও কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। এদিকে আওয়ামী নেতা জাভেদ ও তাঁর দোসরদের সাথে যোগসাজশে কোতয়ালী থানার ওসি মহিনুল ইসলামকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে মিথ্যা মামলায় আমাকে গ্রেফতার করে থানার লকআপে ঢুকিয়ে ছাত্রলীগের ক্যাডারদের নির্দেশ দিয়ে ১০ই অক্টোবর ২০২৪ সালে আমার বাড়িতে ডাকাতি করে আমার প্রায় অর্ধ কোটি টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

