আইনজীবীদের আদালত বর্জনের ডাকে চতুর্থ দিনের মতো বন্ধ রয়েছে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ। এরই মাঝে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ছুটিতে গেছেন বিচারক নূরে আলম। এদিকে চলমান অচলাবস্থা মধ্যে এজলাস কক্ষে বিচারক ও আইনজীবীদের বাদানুবাদের সিসিটিভি ফুটেজ গণমাধ্যমে প্রচার হওয়া উচিত হয়নি বলে মন্তব্য করছে ঢাকা আইনজীবী সমিতি।
বুধবার সরেজমিনে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে গিয়ে দেখা যায়, এজলাস কক্ষে পেশকার-সহকারী সবাই আছেন। নেই কেবল আদালতের বিচারক নূরে আলম।
তবে এদিন যাদের মামলার ধার্য তারিখ ছিলো শুধু তাদেরই দুই একজনের আইনজীবী আদালতে এসেছেন। এসময় আইনজীবীরা অভিযোগ করে বলেন, ট্রাইব্যুনালের বিচারক নূরে আলম অনেক দিন ধরেই আইনজীবীদের সঙ্গে বিচারক সুলভ আচরণ করছেন না।
ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য ইমরান আহমেদ বলেন, বিচার চলাকালে একজন বিচারকের যে ব্যক্তিত্ব থাকা উচিত সেটি তার (নূরে আলম) মধ্যে নেই।
অপর এক আইনজীবী শাহাদত হোসাইন বলেন, উনি (নূরে আলম) একজন নারীকেও কটুক্তি করতে ছাড়ানে না।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আদালতের এক কর্মচারী বলেন, গত বৃহস্পতিবার এক আসামির জামিন না দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই বিবাদের সূত্রপাত। মূলত জামিন না দেওয়ায় বিচারকের ওপর ক্ষিপ্ত হন আইনজীবীরা।
তবে চলমান অচলাবস্থার মধ্যে এজলাস কক্ষে বিচারক ও আইনজীবীদের বাদানুবাদের সিসিটিভি ফুটেজ গণমাধ্যমে প্রচার হওয়াকে নেতিবাচক হিসেবে দেখছে ঢাকা আইনজীবী সমিতি। এ নিয়ে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি (এডহক কমিটি) খোরশেদ মিয়া আলম বলেন, আদালত বর্জনের মধ্যে এজলাস কক্ষের সিসিটিভি ফুটেজ গণমাধ্যমে আসা উচিত হয়নি। এটি বার ও বেঞ্চ এর মাঝে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি বিচারক নূরে আলম।
গত বৃহস্পতিবার এক আসামির জামিন নামঞ্জুর করায় উপস্থিত আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বিচারককে উদ্দেশ্য করে ক্ষোভ ঝাড়েন। এ সময় বিচারক এজলাস ত্যাগ করে খাস কামরায় চলে যান। এরপর ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক নূরে আলমকে প্রত্যাহারের দাবিতে গত রোববার থেকে আন্দোলন শুরু করেন আইনজীবীরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জরুরি সভায় আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয় ঢাকা আইনজীবী সমিতি। এতে বন্ধ হয়ে পড়ে ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

