আরশাদ হত্যা মামলা বিচারিক আদালতে নারাজি দাখিলের নির্দেশ

আরশাদ হত্যা মামলা বিচারিক আদালতে নারাজি দাখিলের নির্দেশ

ট্রান্সকম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা লতিফুর রহমানের ছেলে আরশাদ ওয়ালিউর রহমান হত্যা মামলায় পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. জাকির হোসেন গালিবের আদালত রিভিশন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশ অনুযায়ী মামলার বাদী শাযরেহ হক পিবিআই এর দেয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারজী দাখিল করতে পারবেন।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো. আজিজুল হক (দিদার) এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এ মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেন। একইসঙ্গে মামলায় দায় থেকে সিমিন রহমানসহ সব আসামিকে অব্যাহতি দেন। এই আদেশ চ্যালেঞ্জ করে মামলার বাদী ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন মামলা দায়ের করেন। এদিন শুনানি শেষে এ মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদীকে নারাজি দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত।

এর আগে ২০২৪ সালের ২০ ডিসেম্বর ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমানসহ ৫ জনকে অব্যাহতি দেয় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সানাউল্লাহ'র আদালত।

এ মামলায় ২০২৪ সালে ১০ নভেম্বর তদন্ত শেষে আসামিদের অব্যাহতি দিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন পিবিআই। প্রতিবেদনটি গ্রহণ করে আসামিদের অব্যাহতি ওই আদেশ দেয় আদালত।

২০২৪ সালের ২২ মার্চ আরশাদ ওয়ালিউর রহমানের মৃত্যুর ঘটনায় তার বড় বোন ও ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সিমিন রহমানসহ ১১ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন শাযরেহ হক।

ওই বছরের ৩ এপ্রিল ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আহম্মেদের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সিমিন রহমান, বর্তমান চেয়ারম্যান শাহনাজ রহমান এবং হেড অব ট্রান্সফরমেশন যারেফ আয়াত হোসেন।

এরপর ওই বছরের ৩ জুন এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপক ডা. মুরাদ এবং পরিচালক (বিপণন ও বিক্রয়) ডা. মো. মুজাহিদুল ইসলামসহ সাতজনকে জামিন দেয় আদালত।

জামিন পাওয়া অপর আসামিরা হলেন—ট্রান্সকম গ্রুপের কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন, করপোরেট অ্যাফেয়ার্স সেলিনা সুলতানা, ম্যানেজার (করপোরেট অ্যাফেয়ার্স) কে এইচ মো. শাহাদত হোসেন এবং কর্মচারী রফিক ও মিরাজুল।

মামলায় শাযরেহ হক অভিযোগ করেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজশে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি থেকে ওয়ারিশদের বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে আরশাদ ওয়ালিউর রহমানকে কৌশলে বিষপ্রয়োগ বা শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এরপর ২৪ মার্চ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রেজাউল করিম চৌধুরী আদালত আরশাদ ওয়ালিউর রহমানের লাশ কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্ত করতে ঢাকা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেন।

জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৬ জুন রাজধানীর গুলশানের বাসায় নিজের শোয়ার ঘরে মৃত অবস্থায় আরশাদ ওয়ালিউর রহমানকে পাওয়া যায়। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন