‘লাঞ্চ’ নামের বারুদ আনছেন বান্নাহ

‘লাঞ্চ’ নামের বারুদ আনছেন বান্নাহ

নির্মাতা মাবরুর রশিদ বান্নাহ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মুক্তি দিয়েছিলেন ‘নাস্তা’ নামের একটি ওয়েব ফিল্ম। নাস্তায় দেখা যায়, নিরীহ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সরকারের অন্যায়ের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করে ভয়ংকর জুলুমের শিকার হন। নাস্তার গল্প, নির্মাণ, অভিনয় ও স্বৈরশাসকের দমন-পীড়নের ভয়াবহতা দর্শককে কাঁদিয়েছে। নাস্তা মুক্তির সময়ই আমার দেশকে মাবরুর রশিদ বান্না জানিয়েছিলেন, খুব শিগগিরই আসছে লাঞ্চ। সেই সঙ্গে এও বলেছিলেন, লাঞ্চ স্বৈরাচারের রক্তবমি করিয়ে ছাড়বে।

বিজ্ঞাপন

তারই ইঙ্গিত মিলল গত শনিবার। বান্নাহ তার ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করলেন লঞ্চের ট্রেইলার। ৩ মিনিট ২১ সেকেন্ডের ট্রেইলারটি দর্শকের প্রশংসায় ভাসছে।

আব্দুল্লাহ আফজাল নামের এক দর্শক ট্রেইলারটি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘ট্রেইলারে যা দেখিয়েছেন, যদি কাটিং-ফাটিং, সেন্সরিংয়ের নাম করে গুরুত্বপূর্ণ এসব মেসেজগুলো সরিয়ে না ফেলা হয়, আপনি একখান মাস্টার পিস তৈরি করেছেন, সেই স্বীকৃতি নির্দ্বিধায় পেয়ে যাবেন।’

তিনি আরো লেখেন, ‘ইতিহাসকে নিয়ে ইতিহাস তৈরি করে, প্রদর্শন করতে যাচ্ছেন সাধারণ মানুষের কাছে। এর মাধ্যমে অনন্য উচ্চতায় চলে যাবে আপনার কাজ, বান্নাহ ভাই।’ কমেন্টে মিডিয়ার জগতের অসংখ্য হিপোক্রেটকে কথাও উল্লেখ করেন এই দর্শক যারা বিগত সরকারের নানাবিধ সুবিধা নিয়ে সরকারের প্রশংসামূলক সিনেমা বানিয়েছেন।

এক দর্শক লিখেছেন, ‘রাজাকার শব্দ শুনলেই আমাদের চোখে দাড়ি টুপি ভেসে ওঠে। কিন্তু বাস্তবে বেশির ভাগ রাজাকারের দাড়ি টুপি ছিল না বরং তারা ক্লিন শেভ ছিল। তাহলে এর কারণ কী? এর কারণ হচ্ছে প্রগতিশীল, শাহবাগিরা। এরা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যত নাটক, সিনেমা কিংবা বই লিখেছে সবখানে দাড়ি টুপিকে রাজাকারের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করেছে। ফলে আমরা তাতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি।’

তিনি আরো লেখেন, ‘এই কয়েক মাসে আমাদের উচিত ছিল জুলাই নিয়ে শতখানেক নাটক-সিনেমা বানানো। ফ্যাসিস্টের একেকটা পয়েন্ট ধরে ধরে এসব নাটক সিনেমা তৈরি করা উচিত ছিল। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সেটাই জানবে যেটা আমরা রেখে যাব। আগামী প্রজন্মকে জানাতে হবে স্বৈরাচারের সব প্রতিষ্ঠান মিলে আমাদের সঙ্গে কী কী করছে!’

এই দর্শক এমন পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বান্নাহকে ধন্যবাদ জানান। তার বিশ্বাস বান্নাহর দেখাদেখি আরো পরিচালক এগিয়ে আসবে এই ধরনের কাজে।

হামমাদ রাগিব নামের এক দর্শক লিখেছেন, ‘নাশতাও দেখেছি। গল্পের বুনন, সংলাপ, চিত্রায়ণ ওভার স্ট্রং মনে হইসে। কিন্তু নির্মাতার হিম্মত, সদিচ্ছা ও রক্তের দায়বদ্ধতাকে স্যালুট জানাতে হয়। ৫ আগস্টের পর কথা ছিল নির্মাতারা হরে দরে এ ধরনের নাটক-সিনেমা বানাবে। কিন্তু অধিকাংশই সেই আগের মতো যা তা বানানোতে ব্যস্ত আছে। দেশে এত বড় ঘটনা ঘটে গেল, খুনের বন্যা বইয়ে ১৬ বছরের লেডি ফেরাউন হাসিনা পালিয়ে গেল, নাটক-সিনেমায় এসবের ছিটেফোঁটাও হাজির নাই। এই প্রফেশনের প্রায় সবকয়টা আসলেই যে ফ্যাসিবাদের দাসানুদাস ছিল তার প্রমাণ রাখতেছে।’

হামদাদ রাগিব আরো লেখেন, ‘আরোশ খানকে দেখে মনে হইছে, ভালো নির্মাতা পাইলে সে আরো ভালো করতে পারবে। বান্নার এই চলা অব্যাহত থাকুক। বান্নার পথে যারাই আসবে আমরা সবাইকে স্যালটু জানাব।’

আরেক দর্শক লিখেছেন, ‘কখনো চিন্তা করিনি যে আমি কোনো বাংলা সিনেমা বা নাটকের ট্রেইলার শেয়ার দেব নিজের ওয়ালে। হ্যাঁ, আমি শেয়ার দিচ্ছি, বেশ গর্ব নিয়েই শেয়ার দিচ্ছি। সুযোগ থাকলে টাকা খরচ করে দেখবেন প্লিজ।’

আরেকজন লিখেছেন, ‘এই ভিডিওটা অতীতের স্বৈরাচারদের জন্য শিক্ষা, ভবিষ্যৎ শাসকদের জন্য সতর্কতা। যারাই জুলুম করবে তাদের পরিণতি ওই আপার মতোই হবে।’

মোহাম্মাদ নিজাম উদ্দিন চঞ্চল নির্মাতার উদ্দেশে তার ওয়ালে শেয়ার দিয়ে লিখেছেন, ‘শেষ অংশটুকু দেখে সত্যি সত্যি আমার চোখে পানি চলে এসেছিল। অতএব বোঝাই যায় এটি একটি অসাধারণ চিত্র তুলে ধরেছেন আমাদের মাঝে। ধন্যবাদ দিলেও অনেক কম হয়ে যাবে। আপনার জন্য আমি সৃষ্টিকর্তার কাছে আপনার জন্য দোয়া করি আপনাকে আল্লাহ পাক যেন সুস্থ রাখেন সুরক্ষিত রাখেন ইনশাআল্লাহ।’

তাপশী রাবেয়া রুমা লিখেছেন, ‘নাস্তা দেখে কেঁদেছিলাম। লাঞ্চ-এর ট্রেইলার দেখেই ভালো লেগে গেল। এত সুন্দর করে বাস্তব তুলে ধরা হয় নাটকগুলোয়, অসাধারণ। অন্তর ছুঁয়ে যায়। শুভকামনা অবিরাম!’

আবু হানিফ খান লিখেছেন, ‘এই বাংলার জমিনে আর কেউ যেন কখনো মজলুম না হয় তা আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে, এসব খাওয়া-দাওয়ার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। রাজনীতিকে পেশা বানানো যবে না। যেমনটা বেশির ভাগ রাজনীতি নামের ব্যবসায়ীরা এসে রাজনীতি শুরু করে নিজেদের লাভের উদ্দেশ্যে। তারা গরিব মানুষের জন্য তাদের জীবন-জীবিকা উন্নয়নের উদ্দেশ্য কাজ করে না। তাই আমাদের সচেতন হতে হবে। তা না হলে দেশে আবার গণঅভ্যুত্থান হবে।’

খান হোসাইন আহমেদ লিখেছেন, ‘চোখটা ভিজে উঠল ভাই। আর কিছু বললাম না। জুলাই যদি আরেকটা লাগে, আবু সাঈদ যদি আরেকটা লাগে, মুগ্ধর পানির বোতল যদি আবারও লাগে, লাগুক। এবার আবু সাঈদ আমিই হব, এবার মুগ্ধ আমিই হব। তবুও কারো হাতে এই নতুন বাংলাদেশের মানচিত্রটা খুবলে খুবলে খাওয়ার জন্য তুলে দেব না। ইনকিলাব জিন্দাবাদ।

মোহাম্মাদ সালাউদ্দিন নির্মাতাকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, ‘ভাই চলুক আপনার হাত ধরে, এভাবেই তুলে ধরুন, ২০ কোটি মানুষের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিন। প্রতিটা কাহিনি তুলে ধরুন। আল্লাহ আপনার সহায় হোক।’

মনির মির্জা লিখেছেন, ন্যাশনাল বায়োগ্রাফি মনে হচ্ছে তিন মিনিটের ট্রেইলার। না জানি পুরোটা কী হবে আপায় থাকলে নির্ঘাত আপনার ১০৯ বছরের জেল বান্না ভাই। নির্মাতা বান্নাহ আমার দেশকে জানান, ১১ এপ্রিল ইউটিউবে মুক্তি পাবে লাঞ্চ। এরপর আসবে ডিনার। তার এই সিনেমাগুলো বিগত স্বৈরশাসকের অপশাসনের চিত্র তুলে ধরবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন