ঘুম ভাঙানো পিউ কাহা

ঘুম ভাঙানো পিউ কাহা

আজ ভোরে ঘুম ভাঙেনি রাখির। মায়ের ডাকে ঘুম থেকে উঠল সে। চোখ কচলাতে কচলাতে পুবের জানালাটা খুলতেই একঝলক রোদ হুড়মুড় করে ঘরে এসে ঢুকল। মনটা খারাপ হয়ে গেল রাখির। আজ ভোরে পিউ কাহা ওকে গান শুনিয়ে কেন ঘুম ভাঙায়নি? কোথায় গেল পিউ কাহা? কেন আজ ভোরে ওকে ঘুম থেকে জাগায়নি?

এসব ভাবতে ভাবতে দরজা খুলে রাখি সোজা সিঁড়ি বেয়ে ছাদে উঠে গেল। ছাদের টবে লাগানো গোলাপ ও রজনীগন্ধা ফুল ফুটে আছে। একটা প্রজাপতিও এ ফুল থেকে ও ফুলে উড়ে উড়ে বেড়াচ্ছে। সকালের ঝিরিঝিরি বাতাসে ফুলগুলো দোল খাচ্ছে। দেখে রাখির খুব ভালো লাগল।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু পিউ কাহার কথা কিছুতেই মন থেকে যাচ্ছে না। মনটা অজানা এক ভয়ে শিউরে উঠছে। পিউ কাহা কোনো অসুখে পড়েনি তো? কিংবা সাপ বা অন্য কেউ ওকে ধরে নিয়ে যায়নি তো?

সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে পায়চারি করছে রাখি। মা নিচ থেকে ডাকলেন, ‘রাখি, তাড়াতাড়ি নিচে এসো। স্কুলে যেতে হবে। তৈরি হয়ে নাও।’

রাখি কেজি ওয়ানে পড়ে। পাড়ার বন্ধুদের সঙ্গে একসঙ্গে স্কুলে যায়।

মায়ের ডাক শুনে রাখি নিচে নামতে যায়। ঠিক সেই সময় পিউ কাহা উড়ে এসে ছাদের কার্নিশে বসে। রাখি অবাক হয়ে যায়। প্রশ্ন করে, ‘ভোরে ঘুম ভাঙাওনি কেন, বন্ধু?’

পিউ কাহা এবার কান্নাজড়িত গলায় বলল, ‘তোমাকে আজ গান শুনিয়ে ঘুম ভাঙাতে না পারার কষ্টটা কি আমিও পাইনি!’

পিউ কাহাকে দেখে ইতোমধ্যে ফুড়ুৎ করে উড়ে পালিয়ে গেল প্রজাপতিটি।

ওর কথায় অবাক হয়ে রাখি বলল, ‘কী হয়েছে, আমায় বলো। আমি না তোমার বন্ধু?’

পিউ কাহা গলা খাঁকারি দিয়ে বলল, ‘কাল তুমি যখন স্কুলে ছিলে, ঠিক সে সময় তোমার আব্বু দুজন লোক ডেকে নিয়ে এলেন। তোমাদের বাড়ির সামনের যে আমগাছটার ডালে বসে আমি গান শোনাই, সেই গাছে এখন আর বসার উপায় নেই।’

রাখি বলল, ‘কেন, কেন?’

ও বলল, ‘এখন বৈশাখ মাস। আমগাছের ডালগুলো ভরে গেছে গুটি গুটি আমে। আর এই আম পোকামাকড়ে নষ্ট করবে বলে লোক দুটো কড়া কীটনাশক ছড়িয়েছে। যার ঝাঁজালো, বিষাক্ত গন্ধে আমি আসতে পারিনি। ওই উত্তরের ঘন বাঁশঝাড়ের একটি কঞ্চিতে বসে রাত কাটিয়েছি। এজন্য ভোরে আমি কোনো গানও গাইনি। কেননা, যে গান তুমি শুনতে পাবে না, সে গান গেয়ে লাভ কী?’

এতক্ষণে রাখির কাছে ঘটনাটা পরিষ্কার হলো। রাখি এক রকম ছুটতে ছুটতে নিচে নেমে এসে ওর আব্বুকে বলল, ‘কীটপতঙ্গ, পশুপাখি—ওরাও আমাদের বন্ধু। কীটনাশক ছিটিয়ে তুমি পরিবেশকে দূষিত করেছ। কথা দিতে হবে, আর কখনো তুমি এমনটি করবে না, আব্বু।’

আব্বু রাখিকে বুকে টেনে নিয়ে বললেন, ‘তাই হবে, মা।’

আব্বুর কথা শুনে পিউ কাহা উড়ে এসে জানালার কাছে বসল। খুশিতে গান গেয়ে উঠল সে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন