বিশ্বের কিছু অংশে সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে বুধবার ১২ অগাস্ট। কিছু অঞ্চলে এটি হবে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ, আবার অন্য অঞ্চলে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে।
আপনি সরাসরি এটি দেখতে না পেলেও, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দৃষ্টিনন্দন ছবির জন্যও অপেক্ষা করতে পারেন।
সূর্যগ্রহণ কী?
এই জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা ঘটে যখন চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখান দিয়ে অতিক্রম করে এবং সূর্যের কিছু বা সব আলো আমাদের কাছে পৌঁছানো থেকে বাধা দেয়।
সূর্যগ্রহণের বিভিন্ন ধরন রয়েছে।
আপনি কোন ধরনের গ্রহণ দেখতে পাবেন, তা নির্ভর করে আপনি পৃথিবীর কোথায় অবস্থান করছেন এবং চাঁদ কত দূরে আছে, তার মতো কয়েকটি বিষয়ের ওপর।
পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ ঘটে যখন সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী একই সরলরেখায় নিখুঁতভাবে অবস্থান করে এবং চাঁদ সূর্যের চাকতিকে পুরোপুরি ঢেকে ফেলে। এর ফলে আকাশ ভোর বা গোধূলির মতো অন্ধকার হয়ে যায়।
আপনি চাঁদের ছায়ার মধ্যবর্তী অংশ, অর্থাৎ প্রচ্ছায়ার মধ্যে থাকলে এটি দেখতে পাবেন।
গ্রহণকালে কখনও কখনও সূর্যের চারপাশে একটি উজ্জ্বল বলয় দেখা যায়।
এটি সূর্যের একেবারে বাইরের বায়ুমণ্ডল, যাকে করোনা বলা হয়। সাধারণত সূর্যের পৃষ্ঠের তীব্র উজ্জ্বলতার কারণে এটি দেখা যায় না।
আপনি যদি চাঁদের বাইরের ছায়া, অর্থাৎ উপচ্ছায়ার মধ্যে থাকেন, তাহলে আংশিক গ্রহণ দেখতে পাবেন।
এ সময় চাঁদ সূর্যের কেবল একটি অংশ ঢেকে ফেলে এবং সূর্য অর্ধচন্দ্রাকৃতি ধারণ করে।
বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ ঘটে যখন চাঁদ সূর্যের সামনে আসে, কিন্তু পৃথিবী থেকে এত দূরে থাকে যে সূর্যকে পুরোপুরি ঢাকতে পারে না।
চাঁদের কক্ষপথ উপবৃত্তাকার, অর্থাৎ এটি পুরোপুরি বৃত্তাকার নয়। তাই চাঁদ যখন পৃথিবী থেকে তার সর্বাধিক দূরত্বে বা তার কাছাকাছি অবস্থানে থেকে সূর্যের সামনে দিয়ে যায়, তখন সেটিকে আমাদের কাছে তুলনামূলক ছোট দেখায়।
এ ধরনের গ্রহণে আপনি চাঁদের চারপাশে সূর্যের উজ্জ্বল চাকতি দেখতে পাবেন।
এই সব ধরনের সূর্যগ্রহণ চন্দ্রগ্রহণ থেকে ভিন্ন। চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে অবস্থান করে এবং তার ছায়া চাঁদের ওপর পড়ে।
পরবর্তী সূর্যগ্রহণ কবে এবং কোথায় হবে?
আসন্ন সূর্যগ্রহণ হবে বুধবার ১২ অগাস্ট। উত্তর রাশিয়া, গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, স্পেন এবং পর্তুগালের কিছু অংশে এটি পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ হবে।
নাসার তথ্য অনুযায়ী, সূর্য পুরোপুরি আচ্ছাদিত হওয়ার মুহূর্ত, অর্থাৎ টোটালিটি- এটা ঘটবে উত্তর রাশিয়ার একটি ছোট ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে এবং দুপুরের দিকে।
এরপর এটি পৃথিবীর ওপর দিয়ে পূর্ব দিকে অগ্রসর হবে এবং স্থানীয় সময় সন্ধ্যার শেষ ভাগে, সূর্যাস্তের ঠিক আগে, স্পেনে পৌঁছাবে।
এটি খুবই স্বল্পস্থায়ী হবে; পূর্ণগ্রাস অবস্থা স্থায়ী হবে আড়াই মিনিটেরও কম।
যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাংশ, কানাডা, উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকা এবং ইউরোপের কিছু অংশে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। কিছু স্থানে সূর্যের ৯০ শতাংশ বা তারও বেশি অংশ আড়াল হয়ে যাবে।
আফ্রিকার কিছু অংশ এবং মূল ভূখণ্ড ইউরোপে এটি আরও বিশেষ হবে, কারণ সেখানে সূর্যাস্তের সময় আংশিক গ্রহণ চলতে থাকবে, যা সূর্যাস্ত গ্রহণ নামে পরিচিত।
কীভাবে সূর্যগ্রহণ দেখতে হয়?
আপনি সানগ্লাস পরলেও কখনও সরাসরি সূর্যগ্রহণের দিকে তাকানোর চেষ্টা করবেন না, কারণ সানগ্লাস পর্যাপ্ত সুরক্ষা দেয় না। এভাবে তাকালে আপনার রেটিনার স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।
কেবল বিশেষ গ্রহণ-পর্যবেক্ষণ চশমা পরে সূর্যের দিকে তাকানো যায়। এসব চশমা সাধারণ সানগ্লাসের তুলনায় হাজার হাজার গুণ বেশি অন্ধকার।
ISO 12312-2 আন্তর্জাতিক মান পূরণ করে এমন চশমা ব্যবহার করতে হয়।
এছাড়া গ্রহণ-চশমা পরা অবস্থাতেও ক্যামেরার লেন্স, টেলিস্কোপ, দূরবীন বা অন্য কোনো অপটিক্যাল যন্ত্রের মাধ্যমে সূর্যের দিকে তাকানো ঠিক না।
নাসার ভাষ্য অনুযায়ী, এতে কেন্দ্রীভূত সূর্যরশ্মি ফিল্টার ভেদ করে আপনার চোখে আঘাত করতে পারে।
সূর্যের প্রতিচ্ছবি পরোক্ষভাবে দেখেও গ্রহণ পর্যবেক্ষণ করা যায়।
এজন্য আপনি একটি ছিদ্রযুক্ত ঝাঁঝরি বা ছোট ছিদ্র করা একটি কার্ড ব্যবহার করে পিনহোল প্রজেক্টর তৈরি করতে পারেন।
একটি উপায় হলো দুটি কার্ড ব্যবহার করা।
সূর্যের দিকে পিঠ দিয়ে দাঁড়িয়ে কার্ড দুটিকে কাঁধের ওপর সামনে ধরে রাখুন, একটি আরেকটির পেছনে, যাতে আপনার কাছের কার্ডটির ছায়া অন্য কার্ডটির ওপর পড়ে।
আপনার কাছের কার্ডটিতে একটি ছোট ছিদ্র করলে সূর্যের আলো সেটি দিয়ে প্রবেশ করে পেছনের কার্ডের ওপর একটি ছোট বৃত্তের মতো প্রতিচ্ছবি তৈরি করবে।
কাছের কার্ডটির পরিবর্তে এক বা একাধিক বিদ্যমান ছিদ্রযুক্ত কোনো বস্তু, যেমন একটি ঝাঁঝরি, ব্যবহার করতে পারেন।
তখন গ্রহণ চলার সময় চাঁদ কীভাবে ধীরে ধীরে আলোর বৃত্তটিকে আড়াল করছে, তা দেখতে পারবেন।
আর যদি অন্য কোনো উপায় কাজ না করে বা আবহাওয়া বাধা হয়ে দাঁড়ায়, অথবা আপনি এমন কোনো অঞ্চলে বসবাস করেন যেখানে সূর্যগ্রহণ দেখার উপায় নেই, তাহলে নাসার একটি সম্প্রচারসহ বেশ বিভিন্ন লাইভস্ট্রিম দেখতে পারেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

