বৃষ্টি নেই, বাড়ছে তাপপ্রবাহের তীব্রতা

স্টাফ রিপোর্টার

বৃষ্টি নেই, বাড়ছে তাপপ্রবাহের তীব্রতা
ছবি: সংগৃহীত

দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তাপপ্রবাহের তীব্রতা আরো বিস্তৃতির পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। আগের দিন ১৪ জেলার ওপর বয়ে গেলেও আজ আরো কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে এবং তা আগামী দুইদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিজ্ঞাপন

বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশের মধ্যে শুধু সিলেটে ৪৯ মিলিমিটার এবং মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া দেশের আর কোথাও বৃষ্টি হয়নি। এতে তাপমাত্রার পারদ আরো তীব্র হচ্ছে। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়ে দেশজুড়ে ভ্যাপসা গরমও বাড়ছে পাল্লা দিয়ে।

ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় আজ দিনভর আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। তবে বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এদিন সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, আজ ঢাকার আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এ সময় উত্তর অথবা উত্তর-পূর্ব দিক থেকে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে দিনের তাপমাত্রায় বড় ধরনের কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই এবং তা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

সকাল ৬টার তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৮৬ শতাংশ।

অধিদপ্তর আরো জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি। আজ সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ২২ মিনিটে এবং আগামীকাল বৃহস্পতিবার সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ৩১ মিনিটে।

দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বইলেও ধীরে ধীরে তা আরো তীব্র হচ্ছে। এতে সারা দেশে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়ে ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে। তাপপ্রবাহ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের লোডশেডিংও বেড়েছে। রাজধানীসহ শহরাঞ্চলে ঘণ্টায় ঘণ্টায় এবং গ্রামাঞ্চলে দিনের বেশির ভাগ সময় লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে সারা দেশে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আগের দিনের তুলনায় গতকাল মঙ্গলবার সারা দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বেড়েছে। রাজশাহীতে ৩৯ দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। এর আগের দিনও এ জেলায় তাপমাত্রা ছিল ৩৮ দশমিক শূন্য ডিগ্রি। তবে আগের দিনের তুলনায় মঙ্গলবার রাজধানীর তাপমাত্রা কিছুটা কমে ৩৫ দশমিক চার ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে; যা সোমবার ছিল ৩৬ দশমিক দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক আমার দেশকে বলেন, আগের দিনের চেয়ে তাপমাত্রা তীব্রতা ও বিস্তৃতি বেড়েছে। আগামী দুই-তিন এ ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। এতে চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ডও ছাড়িয়ে যেতে পারে। এর আগে গত ৩ এপ্রিল চলতি বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল চুয়াডাঙ্গায় ৩৯ দশমিক সাত ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তিনি আরো জানান, আগামী ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত এ অবস্থা চলার পর বৃষ্টিপাতের প্রবণতায় তাপমাত্রা কমতে পারে। মে মাসের প্রথমার্ধ পর্যন্ত কমবেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে।

আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবিরের তথ্যমতে, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তাপপ্রবাহ বুধবারও অব্যাহত থাকতে পারে। আগের দিন মঙ্গলবার রাজশাহী বিভাগের আট জেলা ছাড়াও টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, লক্ষীপুর, খুলনা, যশোর ও কুষ্টিয়া জেলাসহ ১৪ জেলার ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। আজ তা কিছুটা বাড়তে পারে।

চলতি মাসে একাধিক দফায় তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস দিয়েছিল আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটির দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২৫ ও ২৬ এপ্রিলের দিকে রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও ঢাকা বিভাগের বড় অংশে তাপপ্রবাহ মাঝারি থেকে তীব্র পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।

তবে আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক বলেন, এবার তাপপ্রবাহ বয়ে গেলেও বিগত ২০২৩ ও ২০২৪ সালের মতো তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা নেই। কেননা, এবার তাপপ্রবাহের পাশাপাশি মাঝে মধ্যে বৃষ্টি থাকবে। ২০২৪ সালে টানা ২৬ দিন এবং ২০২৩ সালে ২২ দিন দেশে তাপপ্রবাহ ছিল।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভাষায়, তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত থাকলে তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ বলা হয়। তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তা মাঝারি তাপপ্রবাহ। তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তীব্র তাপপ্রবাহ ধরা হয়। তাপমাত্রা ৪২-এর বেশি হলে তা অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বলে গণ্য হয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন