সাগরে লঘুচাপ, কয়েকদিন ধরে কাঁদবে আকাশ

সাগরে লঘুচাপ, কয়েকদিন ধরে কাঁদবে আকাশ

কয়েকদিনের টানা তাপপ্রবাহের পর ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। উত্তর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে বৃষ্টিপাতের এ ধরা আগামী ২৮ জুলাই পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে সংস্থাটি জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির স্বাক্ষরিত সতর্কবার্তায় সংস্থাটি জানায়, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে বৃহস্পতিবার বিকাল ৫ টা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

অতি ভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবন ও কক্সবাজার জেলাসমূহের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধ্বসের সম্ভাবনা রয়েছে। সেইসাথে ভারী বর্ষণ জনিত কারণে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম মহানগরীর কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে।

অপর সতর্কবার্তায় লঘুচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, দেশের উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্র বন্দরসমূহের উপর দিয়ে দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে তিন নম্বর পুনঃ তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

এছাড়া খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলসমূহের উপর দিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব কিংবা পূর্বদিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি কিংবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দর সমূহকে এক নম্বর পুনঃ এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এর আগে কয়েকদিনের মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহের প্রভাবে অসহনীয় ভ্যাপসা গরমে মানুষ যখন অতিষ্ঠ ঠিক সে মুহূর্তে দেশজুড়ে বৃষ্টির পরশ অন্যরকম প্রশান্তি এনে দিয়েছে। বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে আজ বৃহস্পতিবার সকাল নাগাদ সারাদেশেই কমবেশি বৃষ্টি হওয়ায় গত কয়েকদিন ধরে চলা দেশের বৈরী আবহাওয়ার অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। বিশেষ করে ভ্যাপসা গরমে খেটে খাওয়া মানুষের মাঝে ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা কিছুটা হলেও প্রশমিত হয়ে স্বস্তি ফিরেছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় আগের ২৪ ঘণ্টায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৫১টি সেন্টার এলাকায় তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের পরিমাণ রেকর্ড ও পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, দেশের বেশির ভাগ এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে। তবে চট্টগ্রাম, খুলনা বরিশাল ও ঢাকা বিভাগে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এরমধ্যে সর্বোচ্চ ফেনীতে ১৬৭, কুমিল্লায় ১১৪, ভোলায় ১০১, মানিকগঞ্জে ৮৮ ও বরিশালে ৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। তবে রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় সামান্য বৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার দেশের পঞ্চগড়ের তেতুলিয়ায় ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এছাড়া রংপুর বিভাগে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস কিংবা এর বেশি ছিল তাপমাত্রা। এর আগের কয়েকদিনেও মৃদু থেকে মাঝারি তাপমাত্রা অব্যাহত ছিল। তবে বৃহস্পতিবার বিকাল নাগাদ সারাদেশে ভ্যাপসা গরম থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকে আবহাওয়ার বেশ পরিবর্তন আসতে পারে।

আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক বলেন, গত কয়েকদিন ধরেই দেশের বেশ কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বইছে। বৃহস্পতিবার সকালের দিকেই সাগরে একটি লঘুচাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে শুক্রবার থেকে সারাদেশেই বৃষ্টি হবে, তবে উপকূলীয় এলাকায় বেশি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। টানা বৃষ্টি ২৮ জুলাই পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

এতে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহের প্রভাবে দেশজুড়ে চলমান ভ্যাপসা গরম কমে আসবে।

এদিকে বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি) জানিয়েছে, ধেঁয়ে আসছে প্রবল মৌসুমি বৃষ্টি বলয় ধারা। এরই মধ্যে বৃষ্টি বলয় ধারা দেশের মধ্য ও দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলে সক্রিয় হতে শুরু করেছে। এটি আগামী ২৪-৩৬ ঘণ্টার মধ্যে দেশের ৬০-৭০ শতাংশ এলাকায় প্রথম ধাপে সক্রিয় হতে পারে। এরপর ২৬ জুলাই দক্ষিণাঞ্চল ব্যতীত বাকি এলাকায় বৃষ্টি অনেকটা কম থাকতে পারে। এরপর ২৬ জুলাই রাত থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘন্টায় বৃষ্টি বলয় ধারা পর্যায়ক্রমে দেশব্যাপী সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।

এটি একটি পূর্ণাঙ্গ বৃষ্টি বলয়, মানে এই বৃষ্টি বলয়ে দেশের সকল এলাকায় যথেষ্ট বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। এবং এই বৃষ্টি বলয়টি দেশের ১০০ শতাংশ এলাকায় কমবেশি বৃষ্টি হতে পারে।

এটি চলতি বছরের ৯তম বৃষ্টি বলয় ও ৫ম মৌসূমী বৃষ্টি বলয়, যা আজ ২৪ শে জুলাই চট্টগ্রাম বিভাগ হয়ে দেশের প্রবেশ করেছে ও ২ রা অগাস্ট রংপুর হয়ে দেশ ত্যাগ করতে পারে।

প্রসঙ্গত, ২৪ ঘণ্টায় ১ থেকে ১০ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে তা হালকা, ১১ থেকে ২২ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে মাঝারি, ২৩ থেকে ৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে মাঝারি ধরনের ভারি, ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে তা ভারি এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি রেকর্ড হলে সেটিকে বলা হয়ে থাকে অতিভারি বৃষ্টিপাত।

অন্যদিকে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত থাকলে তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ বলা হয়। তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তা মাঝারি তাপপ্রবাহ। তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তীব্র তাপপ্রবাহ ধরা হয়। তাপমাত্রা ৪২-এর বেশি হলে তা অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বলে গণ্য হয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন