লিগ পর্বে দাপট দেখিয়ে ফাইনালে উঠেও শিরোপা ছুঁতে পারল না জাফনা কিংস। সাকিব আল হাসান ও তাওহীদ হৃদয়কে নিয়ে বাংলাদেশি সমর্থকদের বাড়তি আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা দলটিকে হারিয়ে লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের (এলপিএল) শিরোপা জিতে নিয়েছে গল গ্যালান্টস। এটি গলের ইতিহাসে প্রথম এলপিএল ট্রফি।
কলম্বোর আর. প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে লো-স্কোরিং ফাইনালে জাফনাকে ১২৩ রানে অলআউট করে দেয় গল। এরপর মাত্র ১৫.৫ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় তারা। জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১২৪ রান, শেষ পর্যন্ত ২৫ বল হাতে রেখেই ম্যাচ শেষ করে গল।
গলের শিরোপা জয়ে বড় অবদান রাখেন চারিথ আসালাঙ্কা ও এশান মালিঙ্গা। দুজন মিলে জাফনার ছয়টি উইকেট তুলে নেন। বিশেষ করে মালিঙ্গার বোলিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ দ্রুত চলে আসে গলের হাতে।
টুর্নামেন্টজুড়েও দুর্দান্ত ছিলেন মালিঙ্গা। ফাইনালে সাকিবসহ তিনটি উইকেট নিয়ে আসর শেষ করেন ১৭ উইকেট দিয়ে। ৯.৩২ ইকোনমি রেটে বোলিং করে তিনি উঠে যান টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির তালিকার শীর্ষে।
জাফনার ব্যাটিংয়ে একমাত্র উল্লেখযোগ্য ইনিংসটি আসে উইকেটকিপার-ওপেনার কামিল মিশারার ব্যাট থেকে। ৩২ বলে ৪১ রান করে ১৩তম ওভারে মালিঙ্গার বলে আউট হন তিনি। দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান করেন চামিন্দু বিক্রমেসিংহে, ১৬ বলে ২৫।
বাংলাদেশের দুই তারকা সাকিব ও হৃদয় ব্যাট হাতে হতাশ করেন। হৃদয় ১০ বলে ১০ রান করে ফেরেন। সাকিবের ব্যাট থেকে আসে ১৩ বলে মাত্র ৯ রান।
জাফনার ইনিংস গুটিয়ে দিতে মালিঙ্গার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন আসালাঙ্কা। দুই হাতে স্পিন করতে সক্ষম থারিন্ডু রত্নায়েকেও ১৪ রান দিয়ে ২ উইকেট শিকার করেন।
১২৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই স্যাম হার্পারকে হারায় গল। এরপর টম রজার্স ও দিনুরা কালুপাহানা দলকে ম্যাচে ফেরান। রজার্স ২৭ বলে ৩৪ এবং কালুপাহানা ১৯ বলে ৩১ রান করেন।
নবম ওভারে বল হাতে জোড়া উইকেট নেন সাকিব। একই ওভারে রজার্স ও কালুপাহানাকে ফিরিয়ে ম্যাচে জাফনার সম্ভাবনা জাগান তিনি। পরে চামিকা করুণারত্নেও আউট হন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দাসুন শানাকা ও সহান আরাচ্চিগে আর কোনো বিপদ হতে দেননি। ৫ উইকেটের জয়ে নিশ্চিত করেন শিরোপা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
জাফনা কিংস: ১২৩ অলআউট (১৯.৩ ওভার)
গল গ্যালান্টস: ১২৬/৫ (১৫.৫ ওভার)
ফল: গল গ্যালান্টস ৫ উইকেটে জয়ী
ম্যাচসেরা: চারিথ আসালাঙ্কা
সিরিজসেরা: কামিল মিশারা
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

