ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ঘিরে বিতর্ক এবার নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিশ্বফুটবলের তিন প্রভাবশালী কনফেডারেশন উয়েফা, এএফসি ও কনকাকাফ ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে স্বাধীনভাবে তদন্ত চায়। তারা যৌথভাবে ফিফার কাছে চিঠি দিয়ে ইনফান্তিনোর কর্মকাণ্ডের স্বাধীন তদন্ত দাবি করেছে। তাদের প্রস্তাব হলো, ফিফার অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে তৃতীয় কোনো নিরপেক্ষ পক্ষের মাধ্যমে তদন্ত পরিচালনা করা হোক।
তিন কনফেডারেশনের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বে অংশীদারত্ব বিক্রির একটি প্রস্তাব। তাদের দাবি, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে সদস্য ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যথাযথ আলোচনা না করেই প্রস্তাবটি দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। ফিফা পরে বিষয়টিকে ‘যোগাযোগের ভুল’ হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও উয়েফা, এএফসি ও কনকাকাফ সে ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয়। যৌথ চিঠিতে ঘটনাটিকে শুধু যোগাযোগের ঘাটতি হিসেবে দেখা হয়নি। তিন কনফেডারেশনের মতে এটি নেতৃত্বের ‘বিচারবোধের ব্যর্থতা’ এবং ফুটবল পরিবারের মধ্যে আস্থার সংকটের প্রতিফলন।
এর মধ্যেই নতুন করে আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছে মরক্কোয় অনুষ্ঠিত একটি বৈঠক। ফিফার ভাষ্য অনুযায়ী সেখানে নির্বাচিত কর্মকর্তাদের মধ্যে মাত্র একজন উপস্থিত ছিলেন। ফিফা কাউন্সিলের কোনো সদস্য বা সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। বৈঠকে ছিল ফিফার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত ব্যবস্থাপনা কমিটির একটি অংশ। এ কারণে ঘটনা আরো জট পাকিয়েছে।
এসব ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য স্বাধীন তৃতীয় পক্ষ নিয়োগের দাবি জানিয়েছে তিন কনফেডারেশন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সব নথি, যোগাযোগ ও রেকর্ড সংরক্ষণেরও আহ্বান জানিয়েছে তারা। তবে চিঠিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, বিরোধের মূল বিষয় অর্থ নয়। ফিফার বিপুল অর্থভাণ্ডার সদস্য দেশগুলোর ফুটবল উন্নয়নে আরো দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহারের পক্ষে তারা।
উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্দার চেফেরিন, এএফসি সভাপতি সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা ও কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্তালিয়ানির যৌথ অবস্থান তাই ফিফার নেতৃত্ব নিয়ে বড় প্রশ্নই তুলে দিয়েছে। তাদের বার্তাও স্পষ্ট, ফুটবলের নেতৃত্ব কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এটি পুরো বিশ্বের ফুটবলের অর্পিত দায়িত্ব।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

