কেরালায় ‘ইসলাম-বান্ধব’ জিম নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

কেরালায় ‘ইসলাম-বান্ধব’ জিম নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক
ছবি: ইন্ডিয়া টুডে

ভারতের কেরালার পালাক্কাদ জেলায় ‘ইসলাম-বান্ধব জিম’ চালু করেছেন নওয়াজ মুথু টি নামে এক ব্যক্তি। তবে এই ফিটনেস সেন্টারকে ‘ইসলাম-বান্ধব’ ঘোষণা করার পর তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

পুথুনগরমের জিমটির একটি প্রচারমূলক ভিডিও প্রকাশ করার পর এই বিতর্ক শুরু হয়। ভিডিওতে জিমের মালিক নওয়াজ মুথু টি বলেন, এটি উচ্চস্বরের গান বাজানো ছাড়াই পরিচালিত হবে এবং নারী ও পুরুষদের জন্য আলাদা ব্যায়ামের সময় ও স্থান থাকবে।

বিজ্ঞাপন

ভিডিওতে নওয়াজ বলেন, ‘আমরা একটি ইসলাম-বান্ধব জিম চালু করছি। আমি বিশ্বাস করি এই ধরনের জিম কেরালায় প্রথম। আগ্রহী হলে আমার সঙ্গে যোগাযোগ এবং কেন্দ্রটি পরিদর্শন করতে পারেন।’

তিনি আরো বলেন, জিমটি কোনো নতুন উদ্যোগ নয়। এই ফিটনেস সেন্টারটি ১৫ বছর ধরে পরিচালিত হচ্ছে এবং বর্তমানে এর সংস্কার কাজ চলছে।

তবে, ভিডিওটি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন যে এই উদ্যোগটি শুধু মুসলমানদের জন্য কিনা।

তীব্র সমালোচনার মুখে মূল প্রচারণামূলক ভিডিওটি সরিয়ে ফেলা হয় এবং একটি নতুন ক্লিপে নওয়াজ বলেন, এই প্রতিষ্ঠানটি সকল ধর্মের মানুষের জন্য উন্মুক্ত এবং এটি শুধুমাত্র মুসলিমদের জন্য তৈরি করা হয়নি।

প্রকল্পটির পেছনের ধারণা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নওয়াজ বলেন, ‘ইসলামিক-বান্ধব’ শব্দটি দিয়ে তিনি মূলত বোঝাতে চেয়েছেন, জিমটি কীভাবে পরিচালিত হবে সেই বিষয়টি।

তিনি বলেন, অনেকে নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা সময় ও আলাদা জায়গা চান। জিমে উচ্চস্বরের গান অনেকে পছন্দ করেন না।

নওয়াজ আরো বলেন, যারা এই নিয়মগুলো কঠোরভাবে মেনে চলেন, তাদের অনেকেই বর্তমানে জিম এড়িয়ে চলেন।

তিনি বলেন, ‘যারা ইসলামী নীতি অনুসারে জীবনযাপন করেন তাদের জন্য কোনো জিম নেই। আপনি যখন জিমে যান, তখন গান বন্ধ করা সম্ভব নয়। এমন অনেক নারী আছেন যারা মিশ্র স্থানে ব্যায়াম করতে অস্বস্তি বোধ করেন। এই ধরনের মানুষগুলো জিমে যেতে পারেন না।’ তিনি আরো বলেন, তার নিজের পরিবারের সদস্যরাও একই কারণে ফিটনেস সেন্টার থেকে দূরে থাকেন।

তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমি একজন মুসলিম, আমি এমন অনেককে চিনি। এমনকি আমার আত্মীয়দের মধ্যেও এমন ব্যক্তি আছেন যারা জিমে যান না। এই সুবিধাটি তাদের জন্য উপকারী হবে।’

জিমটি বৈষম্যমূলক—এমন অভিযোগের জবাবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ধর্মীয় কারণে সদস্যপদ সীমিত করা হবে না। এখানে সবাই আসতে পারেন। একমাত্র শর্ত হলো, এখানে খোলাখুলিভাবে গানবাজনা করা যাবে না। যারা গান শুনতে চান, তারা হেডফোনের মাধ্যমে শুনতে পারেন। এতে কোনো সমস্যা নেই।

মালিকের এই ব্যাখ্যার পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ নারী-পুরুষের আলাদা ব্যায়ামের জায়গা তৈরির এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

আরএ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন