ইন্দোনেশিয়ার দাবানলের ধোঁয়ায় মালয়েশিয়াতেও বায়ুদূষণ

ইন্দোনেশিয়ার দাবানলের ধোঁয়ায় মালয়েশিয়াতেও বায়ুদূষণ

ইন্দোনেশিয়াজুড়ে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত এক লাখ সাত হাজার হেক্টরের বেশি জমি আগুনে পুড়ে গেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। দাবানলের ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবেশী মালয়েশিয়াতেও, ফলে কয়েকটি এলাকায় বায়ুদূষণ অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইন্দোনেশিয়ার দাবানলের ধোঁয়া ইতোমধ্যে মালয়েশিয়াতেও পৌঁছেছে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষ ক্লাউড সিডিং বা কৃত্রিমভাবে বৃষ্টিপাত ঘটানোর জন্য বিশেষ বিমান ব্যবহার করছে। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি প্রদেশে স্কুল তিন দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার ছয়টি প্রদেশে আগুন নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এগুলো হলো জাম্বি, দক্ষিণ সুমাত্রা, পশ্চিম কালিমান্তান, মধ্য কালিমান্তান, দক্ষিণ কালিমান্তান ও রিয়াউ। এসব অঞ্চলে বিস্তীর্ণ পিটল্যান্ড বা জলাভূমি রয়েছে, যা শুষ্ক মৌসুমে সহজেই আগুনে পুড়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

মধ্য কালিমান্তানের রাজধানী পালাংকারায়ার বাসিন্দা ডারউইন রোমি জানিয়েছেন, এক মাসের বেশি সময় ধরে এলাকায় দাবানল চলছে। ধোঁয়া এখন অনেক ঘন হয়ে গেছে। বাইরে বের হলেই চোখ জ্বালা করে এবং বাতাসে ধোঁয়ার তীব্র গন্ধ পাওয়া যায়। আগুন অনেক জায়গায় আবাসিক এলাকার কাছাকাছি চলে এসেছে। তবে আগুন নেভানোর জন্য পর্যাপ্ত পানির সংকটও দেখা দিয়েছে।

পশ্চিম কালিমান্তানের পন্টিয়ানাক শহরও ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে। শহরের মেয়র এদি রুস্তি কামতোনো জানিয়েছেন, দাবানল চলতে থাকলে শিক্ষার্থীদের অনলাইনে ক্লাস করতে হবে। বিশেষ করে রাত ও ভোরের দিকে শহরে ধোঁয়ার ঘনত্ব বেড়ে যাচ্ছে।

এদিকে পূর্ব জাভার বিখ্যাত ব্রোমো টেঙ্গার সেমেরু জাতীয় উদ্যানেও প্রায় এক সপ্তাহ ধরে আগুন জ্বলেছে। এতে প্রায় ৫৫০ হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে। পরে সোমবার আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে ব্রোমো আগ্নেয়গিরির আশপাশে নতুন করে আগুনের আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সক্রিয় আগ্নেয়গিরি ও জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র হওয়ায় গত ৮ আগস্ট থেকে এলাকাটি পর্যটকদের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।

আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে স্থানীয় কর্মকর্তাদের ধারণা, মানুষের অসতর্কতার কারণে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। একজন ব্যক্তি আগুন জ্বালানোর পর সেটি পুরোপুরি নেভাতে না পারায় আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান গাতোত সোবরোতো।

মালয়েশিয়ার সারাওয়াক রাজ্যের ছোট শহর সেরিয়ানে বুধবার সকালে বায়ুদূষণ সূচক ১৯৫ রেকর্ড করা হয়েছে, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ের মধ্যে পড়ে। বায়ুদূষণ সূচকে ১০১ থেকে ২০০ পর্যন্ত মাত্রাকে অস্বাস্থ্যকর, ২০১ থেকে ৩০০ পর্যন্ত খুব অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১-এর বেশি হলে তা বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সারাওয়াকের অন্তত নয়টি এলাকায় বায়ুদূষণ অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইন্দোনেশিয়ার দাবানল এখন শুধু দেশটির পরিবেশ ও জনজীবনের জন্যই নয়, পুরো অঞ্চলের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে না এলে ধোঁয়া ও বায়ুদূষণের প্রভাব দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আরও বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বছর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে দীর্ঘ ও তীব্র গরম এবং শুষ্ক মৌসুম চলছে। শক্তিশালী এল নিনো জলবায়ু পরিস্থিতির কারণে এই অবস্থা তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। কেউ কেউ এবারের তীব্র এল নিনোকে ‘গডজিলা এল নিনো’ বলেও অভিহিত করছেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন