হোম > আমার দেশ স্পেশাল

নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র হলে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে

ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী ও দিনাজপুর প্রতিনিধি

নির্বাচনি জনসভায় অংশ নিতে গতকাল শনিবার দ্বিতীয়বারের মতো উত্তরাঞ্চল সফর করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এবারের সফরে ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী ও দিনাজপুরে জনসভা করেন তিনি।

এসব জনসভায় দেশ গঠনের বার্তা ও অঞ্চলভিত্তিক বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, আগামী দিনের রাজনীতি হবে দেশ পুনর্গঠনের। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে কোনো ষড়যন্ত্র হলে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি। পাশাপাশি বিএনপি ক্ষমতায় এলে তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণের কাজে হাত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি এবং ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, দিনাজপুর ও পঞ্চগড় অঞ্চলে শিল্পায়নের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

গতকাল দুপুর ১২টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষ ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখ ভোটের হারানো দিনের অধিকার ফিরে পেতে যাচ্ছে। হারিয়ে যাওয়া অধিকার প্রয়োগের সময় এসেছে। তিনি বলেন, এ নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচন নয়, দেশ পুনর্গঠনের নির্বাচন। বিগত তিনটি নির্বাচনে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তবে এবার সময় এসেছে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন আর দেশ পুনর্গঠনে হাত দেওয়ার।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, দেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড় তুলতে চাই। এজন্য ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে নারীরা স্বাবলম্বী হবেন। এছাড়া কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড দেওয়া হবে। এতে কৃষক সহজে ঋণ, সার ও ফসলের বীজ পাবেন। ১২ তারিখ ধানের শীষকে বিজয়ী করলে ১০ হাজার টাকার কৃষিঋণ মওকুফ করা হবে।

দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে চাই উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এ কাজ করতে হলে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। তাই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ধানের শীষে ভোট চাই।

অঞ্চলের উন্নয়নে নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, চিনিকলসহ এ অঞ্চলের শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালু করা হবে। ঠাকুরগাঁও ক্যাডেট কলেজ করার চেষ্টা করবে বিএনপি। এছাড়া হিমাগার তৈরি করা হবে, যেন কৃষক তাদের পণ্য সংরক্ষণ করতে পারেন। পাশাপাশি বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে আইটি হাব তৈরি করা হবে।

তিনি বলেন, মেডিকেল কলেজের দাবি বাস্তবায়ন করবে বিএনপি। এছাড়া পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপারেও ইতিবাচক প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। পাশাপাশি সরকার গঠন করলে যত দ্রুত সম্ভব এ এলাকার বিমানবন্দর চালু করা হবে বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।

সমাবেশ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে বাঁচাতে গোটা দেশ তারেক রহমানের দিকে তাকিয়ে। কঠিন সময়ে তারেক রহমান নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাকে শতভাগ সমর্থন দিতে হবে।

‘যত দ্রুত সম্ভব তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে’

ঠাকুরগাঁওয়ে জনসভা শেষে গতকাল নীলফামারী বড় মাঠে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় গত ১৬ বছরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারীদের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তারা ভোটাধিকার আদায়ের জন্য স্বৈরাচারের সময় জীবন দিয়েছেন। নীলফামারীর উন্নয়ন সম্পর্কে তিনি বলেন, এ এলাকার রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলকে (ইপিজেড) সম্প্রাসারণ করা হবে। নীলফামারীতে মেডিকেল কলেজ ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র করা হবে, যাতে এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।

তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে এ এলাকার প্রাণের দাবি উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, যত দ্রুত সম্ভব তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, একটি দল হেরে যাওয়ার ভয়ে নির্বাচন নিয়ে যড়যন্ত্র শুরু করছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র হলে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। আগামী দিনের রাজনীতি হবে দেশ পুনর্গঠনের।

তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে আমরা যেভাবে যুদ্ধে অংশ নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছি, ঠিক সেভাবেই ২০২৪ সালেও স্বৈরাচারী বিদায়ের যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম। সামনে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য একটাইÑবিএনপি সরকার গঠন করলে বাংলাদেশের সব ধর্মের মানুষের জন্য কাজ করবে।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুকের সভাপতিত্বে জেলার বিভন্ন আসনের প্রার্থীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

‘নানিবাড়ির মানুষদের কাছে আমি ভোট চাই’

শনিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে দিনাজপুরের বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠে বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারম্যান। দিনাজপুরে নিজের নানিবাড়ি এবং এ এলাকার মানুষের সঙ্গে তার আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, নানিবাড়ির মানুষদের কাছে আমি ভোট চাই। এ এলাকার মানুষ আমাকে আপনজন মনে করেন। আমি আশা করি তারা এবার আমাকে বিজয়ী করবেন।

দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী কৃষিপণ্য কাটারিভোগ চাল ও লিচুকে বিশ্ববাজারে পরিচিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, দিনাজপুর শুধু দেশের খাদ্যভান্ডার নয়, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের কৃষিশক্তির অন্যতম প্রতিনিধি হওয়ার পূর্ণ সক্ষমতা রাখে।

দিনাজপুরের কৃষিসম্পদের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, এখানকার মাটি অত্যন্ত উর্বর এবং মানুষ পরিশ্রমী। কাটারিভোগ চালের সুগন্ধ ও স্বাদ যেমন অতুলনীয়, তেমনি দিনাজপুরের লিচু দেশের অন্যতম সেরা ফল। সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ করা গেলে এসব পণ্য বিশ্ববাজারে রপ্তানি করে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, গত কয়েক বছরে কৃষি ও কৃষক অবহেলার শিকার হয়েছে। উৎপাদন খরচ বেড়েছে কিন্তু কৃষক তাদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য পায়নি। বিএনপি ক্ষমতায় এলে কৃষিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কৃষকের অধিকার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, দিনাজপুর অঞ্চলে আধুনিক কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র, সংরক্ষণাগার ও রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানা স্থাপন করা হবে। এর ফলে কৃষিপণ্যের অপচয় কমবে এবং আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী পণ্য রপ্তানি সহজ হবে। তিনি দিনাজপুরকে একটি আধুনিক কৃষিভিত্তিক শিল্পাঞ্চলে রূপান্তরের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।

এছাড়া তিস্তা মহাপরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের সুযোগ পেলে পানির সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা হবে এবং তিস্তা অববাহিকার মানুষকে মরূকরণের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা হবে। কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

জনসভায় জেলা বিএনপির সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন দুলাল সভাপতিত্ব করেন। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচি। পরে দিনাজপুর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে বিএনপির প্রার্থীদের হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দিয়ে বিজয়ী করতে জনতার প্রতি আহ্বান জানান তারেক রহমান।

এর আগে প্রথম দফায় ২২ জানুয়ারি সিলেটের আলিয়া মাদরাসা মাঠ থেকে শুরু করে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাক্ষণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জে জনসভার মাধ্যমে নির্বাচনি প্রচারাভিযান শুরু করেন তারেক রহমান। পরে ২৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড থেকে শুরু করে ফেনী, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ এবং ২৭ জানুয়ারি ময়মনসিংহ, গাজীপুর, ঢাকার উত্তরায় নির্বাচনি সমাবেশ করেন তিনি।

গত ২৯ জানুয়ারি সড়কপথে উত্তরাঞ্চলে যান তারেক রহমান। ২৯ জানুয়ারি রাজশাহী, নওগাঁ ও বগুড়া, ৩০ জানুয়ারি রংপুর, ৩১ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে নির্বাচনি জনসভা করেন তারেক রহমান। গত ২ ফেব্রুয়ারি বরিশাল ও ফরিদপুরে নির্বাচনি সমাবেশ করেন তিনি। গতকাল ঠাকুঁরগাঁও, নীলফামারী ও দিনাজপুর জনসভা করেন।

এ পর্যন্ত বিএনপি চেয়ারম্যান ঢাকার বাইরে সারা দেশে ২৭টি নির্বাচনি জনসভা করেছেন। এছাড়া নিজের নির্বাচনি আসন ঢাকা-১৭-এর কড়াইল ও বনানীতে দুটি নির্বাচনি সমাবেশ করেন।

এদিকে, সারা দেশে নির্বাচনি প্রচার শেষ করে ঢাকা মহানগরে ১৪টি নির্বাচনি জনসভা করবেন তারেক রহমান। গতকাল বিকালে গুলশানে বিএনপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন এ কথা জানান। তিনি বলেন, রোববার (আজ) তিনি ঢাকা মহানগর উত্তরের ছয়টি নির্বাচনি আসনে জনসভায় যোগ দেবেন। পরদিন সোমবার মোট আটটি নির্বাচনি জনসভায় অংশ নেবেন।

খোলা ড্রামের বিষাক্ত ভোজ্যতেলে হুমকিতে জনস্বাস্থ্য

দুর্নীতিমুক্ত, কল্যাণমূলক দেশ গড়তে চায় বিএনপি

গণভোট ইস্যুতে ইসির কাছে তিন বিষয়ে জানতে চেয়েছে সরকার

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ভবিষ্যৎ কোন পথে

নবনির্বাচিত এমপিদের এবার শপথ পড়াবেন সিইসি

নির্বাচনি বাজেটে সন্তুষ্ট নয় পুলিশ, ভাঙা গাড়ি নিয়ে শঙ্কা

দুর্নীতিমুক্ত, মানবিক দেশ গড়তে চায় জামায়াত

নির্বাচন বানচালে ভারতের নীলনকশা, বড় হামলার ছক

পোস্টাল ভোটে অনীহা সরকারি কর্মচারীদের

ভোটের প্রচারে ভারত নিয়ে নীরব বিএনপি-জামায়াত