হোম > আমার দেশ স্পেশাল > বিশেষ প্রতিবেদন

ঋণ ১১৩ বিলিয়ন ডলার অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে দেশ

কাওসার আলম

আমার দেশ গ্রাফিক্স

ঋণের ‘উচ্চঝুঁকি’র দিকে ধাবিত হচ্ছে বাংলাদেশ। বিপুল পরিমাণ অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধেই ব্যয় হচ্ছে সরকারের আয়ের বড় অংশ। অপচয়মূলক সরকারি ব্যয়, অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প এবং অপরিকল্পিত অর্থায়নের ফলে তৈরি হওয়া আর্থিক চাপ দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা অর্থনীতিবিদদের।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন আমার দেশকে বলেন, ঋণ শোধের জন্য প্রয়োজনীয় ডলার ও টাকা—উভয় মুদ্রারই ঘাটতি থাকায় বাংলাদেশ ঋণচক্রে আটকে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। রেমিট্যান্সে ভাটা, তৈরি পোশাকনির্ভর স্থবির রপ্তানি এবং দুই থেকে তিনগুণ দামে জ্বালানি আমদানির কারণে দেশের রিজার্ভের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে। রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য পূরণ না হলেও অর্থায়নের স্পষ্ট পরিকল্পনা ছাড়াই নতুন পে স্কেল ঘোষণাসহ সরকারের ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে ।

পাশাপাশি, পুরোনো প্রকল্পগুলোর গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়া এবং উচ্চ সুদের অভ্যন্তরীণ ঋণের কারণে ঋণ পরিশোধের বিশাল চাপ তৈরি হয়েছে । ঋণ পরিশোধের চাপ সামগ্রিকভাবে অর্থনীতির জন্য সংকট তৈরি করতে পারে।

সর্বশেষ হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ১১৩ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে সরকারের ঋণ ৯৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি এবং বেসরকারি খাতের ঋণ সাড়ে ২০ বিলিয়ন ডলার। ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে সরকারের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে পুঞ্জীভূত ঋণের পরিমাণ ছিল ১১ লাখ ৫৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে বিদেশি ঋণের পাহাড়

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার সময় দেশের মোট বৈদেশিক ঋণ ছিল প্রায় ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার মধ্যে সরকারের নিজস্ব ঋণ ছিল ২০ বিলিয়ন ডলার। তবে টানা দেড় দশকের শাসনামলে এই ঋণের পরিমাণ অস্বাভাবিক গতিতে বৃদ্ধি পেয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় ১০৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যার মধ্যে কেবল সরকারি ঋণই ছিল ৮৩-৮৪ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ ওই ১৫ বছরে সরকারি বৈদেশিক ঋণ চার গুণেরও বেশি বেড়েছে।

ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রোরেল, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ, কর্ণফুলী টানেল, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং গভীর সমুদ্রবন্দরের মতো অসংখ্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল মেগা প্রকল্প বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভর করে বাস্তবায়ন করা হয়। অধিকাংশ মেগা প্রকল্পে দীর্ঘসূত্রতা, দুর্বল সম্ভাব্যতা যাচাই এবং বারবার প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানোর ফলে সামগ্রিক ঋণের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, যার পেছনে অতিরিক্ত ব্যয় ও দুর্নীতির বড় ভূমিকা ছিল বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করেন।

প্রথাগতভাবে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংক বা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) মতো বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে কম সুদে দীর্ঘমেয়াদি সহজ শর্তের ঋণ গ্রহণ করত। কিন্তু হাসিনার আমলে তুলনামূলক কঠিন শর্তে, চড়া সুদে এবং স্বল্পমেয়াদি দ্বিপক্ষীয় ও বাণিজ্যিক উৎস থেকে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি পায়।

এর পাশাপাশি ঋণের একটি বড় অংশ অনিয়মের মাধ্যমে বিদেশে পাচারের মহোৎসব তৈরি হয়েছিল। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গঠিত শ্বেতপত্র কমিটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, হাসিনার শাসনামলে দেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার করা হয়েছে, যা জাতীয় অর্থনীতিকে গভীর বিপর্যয়ের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে এবং পুরো জাতিকে তার মাশুল গুনতে হচ্ছে।

ঋণে কেন উচ্চ ঝুঁকিতে

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থার মূল্যায়নেও বাংলাদেশের এই অর্থনৈতিক ঝুঁকির চিত্রটি সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের যৌথভাবে প্রস্তুত করা ‘ঋণ টেকসই বিশ্লেষণ’ (ডেট সাসটেইনেবিলিটি অ্যানালাইসিস) প্রতিবেদনে ২০২৪ সালে বাংলাদেশকে প্রথমবারের মতো ‘মাঝারি ঝুঁকি’র দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। মূলত কর-জিডিপি অনুপাত নিম্ন পর্যায়ে থাকা, রপ্তানি আয়ের তুলনায় উচ্চ বৈদেশিক ঋণের চাপ, রাজস্ব আয়ের বড় অংশ সুদ পরিশোধেই নিঃশেষ হয়ে যাওয়া এবং যেকোনো বাহ্যিক অর্থনৈতিক অভিঘাত মোকাবিলায় চরম দুর্বলতার কারণেই নিম্ন ঝুঁকির অবস্থান থেকে বাংলাদেশকে মাঝারি ঝুঁকিতে অবনমন করা হয়। ২০২৫ ও ২০২৬ সালের প্রতিবেদনেও এসব মৌলিক সূচকের কোনো গুণগত উন্নতি না হওয়ায় বাংলাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থান অপরিবর্তিত থেকে যায়। বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের ক্রমবর্ধমান বাধ্যবাধকতা সামষ্টিক অর্থনীতিকে কঠিন চাপের মধ্যে ফেলেছে।

পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, বাংলাদেশ বৈদেশিক ঋণের ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে কিছুটা ঝুঁকির মুখে রয়েছে। বর্তমানে যে পরিমাণ ঋণ রয়েছে তারপর যদি আরো বেশি ঋণ নেওয়া হয়, তাহলে সরকারের জন্য বড় ধরনের ঋণঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

সুদ পরিশোধের চাপ

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্য অনুযায়ী, বিগত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ বৈদেশিক ঋণের আসল ও সুদ বাবদ ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৪.৪৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকা) পরিশোধ করেছে। মোট পরিশোধিত এই অর্থের মধ্যে আসল ছিল প্রায় ২.৯৫ বিলিয়ন ডলার এবং সুদের পরিমাণ ছিল ১.৫৪ বিলিয়ন ডলার।

অতীতে উচ্চ সুদে নেওয়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ, কর্ণফুলী টানেল ও ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মতো বড় প্রকল্পগুলোর গ্রেস পিরিয়ড বা সুদের সময়সীমা শেষ হয়ে আসার কারণে আগামী কয়েক বছর ধরে ঋণ শোধের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকবে। ফলে বছরে গড়ে ৪.৫-৫.৫ বিলিয়ন ডলার বা তারও বেশি অর্থ কেবল বৈদেশিক দেনা মেটাতেই ব্যয় হবে। বৈদেশিক ঋণ শোধের জন্য প্রয়োজনীয় ডলার ও অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধে টাকা অর্থাৎ উভয় মুদ্রার মারাত্মক ঘাটতি থাকায় দেশ বিপজ্জনক ঋণচক্রে আটকা পড়ার উপক্রম হয়েছে।

ডলার সংকটে ঋণ শোধ করতে শেষ পর্যন্ত রিজার্ভের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে যা অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অথবা ঋণ শোধ করতে নতুন ঋণ নিতে হতে পারে, যা ঋণের ফাঁদ আরো বাড়াবে। ইতোমধ্যেই বিএনপি সরকার আইএমএফের কাছ থেকে নতুন করে ছয় থেকে সাড়ে ছয় বিলিয়ন ডলার ঋণ নেওয়ার জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তি বাড়িয়ে সাড়ে পাঁচ বিলিয়ন করা হলেও বাংলাদেশ মোট ৩.৬৪ বিলিয়ন ডলার পেয়েছিল এবং নতুন সরকার পূর্বের এই ঋণচুক্তির আওতা থেকে সরে এসেছে।

অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ঋণ শোধের জন্য প্রয়োজনীয় ডলার ও টাকা—উভয় মুদ্রারই ঘাটতি থাকায় বাংলাদেশ ঋণচক্রে আটকে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

রপ্তানি, রেমিট্যান্স ও জ্বালানি সংকট

বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের মূল দুটি উৎস—রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্সে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্প তীব্র জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি। অব্যাহত গ্যাস ও বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে কারখানাগুলোর উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, গ্যাস সংকটের কারণে প্রায় ৫৫ শতাংশ কারখানার রপ্তানি আদেশ কমে গেছে। গত ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের রপ্তানি আয় ৪৮ বিলিয়ন ডলারে স্থির থাকলেও ভবিষ্যতে এতে বড় ধরনের ধসের আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর প্রবাসীরা বৈধ চ্যানেলে রেকর্ড রেমিট্যান্স পাঠানোয় অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তা মাসে তিন বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয় এবং রিজার্ভ ২০.৫ বিলিয়ন থেকে বেড়ে ৩৬.৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল।

তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে শ্রমবাজার সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কায় বিগত চার মাস ধরে প্রবাসী আয় আবার তিন বিলিয়নের নিচে নেমে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে ওই অঞ্চলের অর্থনীতিতে মন্দা দেখা দেবে এবং প্রবাসী আয়ে বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে।

রপ্তানি ও রেমিট্যান্সের এই নাজুক পরিস্থিতির মধ্যেই জ্বালানি আমদানির চড়া ব্যয় রিজার্ভকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দর প্রতি মিলিয়ন বিটিইউ ১০-১২ ডলার থেকে বেড়ে ৩০ ডলারে পৌঁছেছে। করোনাকালের ২০ ডলারের অপরিশোধিত তেল বর্তমানে ১০৭-১০৮ ডলারে বিক্রি হচ্ছে, যা বার্ষিক জ্বালানি আমদানি ব্যয় প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বিনিয়োগ খরায় মূলধন যন্ত্রপাতি আমদানি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৩ শতাংশ কমলেও জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসেই (জুলাই) বাণিজ্য ঘাটতি ৩৮.৩৬ শতাংশ বেড়ে ২০৮ কোটি ৮০ লাখ ডলারে (২.০৮ বিলিয়ন ডলার) দাঁড়িয়েছে। মূলত উচ্চমূল্যে জ্বালানি কিনতে গিয়ে সরকার বড় ধরনের আর্থিক চাপের মুখে পড়ছে।

দুর্বল রাজস্ব আদায়

অভ্যন্তরীণ আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব সংগ্রহেও বড় ধরনের ব্যর্থতা রয়েছে। এনবিআর গত এক যুগের বেশি সময় ধরে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি। বিদায়ী অর্থবছরেও সাড়ে ৮৭ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি নিয়ে আদায় হয়েছে চার লাখ ১৫ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকা (লক্ষ্যমাত্রা ছিল পাঁচ লাখ তিন হাজার কোটি)। বিপুল ঘাটতি সত্ত্বেও চলতি অর্থবছরে ৪৫ শতাংশ বাড়িয়ে ছয় লাখ চার হাজার কোটি টাকা আদায়ের অবাস্তব লক্ষ্য ধরা হয়েছে, যাকে অর্থনীতিবিদরা অসম্ভব বলে অভিহিত করেছেন।

আয় না বাড়লেও নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে বেতন-ভাতায় অতিরিক্ত ৩৭ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা লাগবে, যার স্পষ্ট অর্থায়ন পরিকল্পনা নেই। ফলে সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এক লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা (যার মধ্যে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে এক লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা) ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করছেন, ‘কম আয়, বেশি ব্যয়’ নীতির কারণে সরকার ঋণের জালেই আটকে পড়ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ বলেন, আমরা ইতোমধ্যে ঋণের ফাঁদে আটকা পড়েছি। সরকারের ব্যয়ের একক খাত হিসাবে এখন শীর্ষে রয়েছে সুদ পরিশোধ। সরকারের উচিত ছিল ব্যয় সংকোচন নীতি অনুসরণ এবং আয় বুঝে ব্যয় করা। কিন্তু সরকার ব্যয় না কমিয়ে উল্টা পথে হাঁটছে। নতুন করে পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে।

সংকট উত্তরণে অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ

অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণে অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বর্তমান অর্থনৈতিক সূচকগুলোর আর অবনমন হতে না দেওয়া, দেশ থেকে অর্থপাচার রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া এবং সরকারি সেবা ও জ্বালানি খাতসহ সার্বিক প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংগঠনিক সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়নের পরামর্শ দিয়েছেন।

পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, নেহায়েত প্রয়োজন না হলে আগামী ৩-৫ বছর বিদেশি ঋণ না নেওয়াই ভালো। তারপরও যদি নিতেই হয়, তাহলে অর্থনীতি ও মানবসম্পদ বিনিয়োগে রিটার্নের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কম সুদে নিতে হবে। এছাড়া বিগত সময়ে উচ্চ সুদে এবং স্বল্প সময়ে পরিশোধে যেসব ঋণ নেওয়া হয়েছিল, সেগুলো পুনর্গঠন করা উচিত। এনবিআর সংস্কার করে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বৃদ্ধি না করলে ব্যাংকঋণ নির্ভরতায় বেসরকারি খাত বাধাগ্রস্ত হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ বলেন, সরকারের এত মন্ত্রণালয়, বিভাগের কোনো প্রয়োজন নেই। এগুলো কমিয়ে আনা উচিত। বন্ধ কলকারখানা বিক্রি করা এবং পদ্মা ও যমুনা সেতুর মতো বড় প্রকল্প সিকিউরিটাইজ করে অর্থ সংগ্রহ করা উচিত। একইসঙ্গে নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে সরকারি খাতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বেসরকারি খাতকে প্রধান অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

সঞ্চালন লাইনের অভাবে আনা যাচ্ছে না ভোলার গ্যাস

ডাম্পিংয়ে ৩৬ হাজার গাড়ি, বাড়ছে পুলিশের বোঝা

ডিআইজি মীজানের জমিতে ভেজাল সারের কারখানা

তৈরি পোশাকশিল্পে কৃত্রিম তন্তুর আধিপত্য বাড়ছে

প্রস্তুতি ছাড়াই ৯ বিশ্ববিদ্যালয়, এখন সচল করাই চ্যালেঞ্জ

আয়ের চেয়ে ব্যয় দ্বিগুণ, কোণঠাসা মধ্যবিত্ত

কারাগারে বন্দিমৃত্যু বাড়ছে চিকিৎসা সংকটে

নিত্যপণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের ছড়াছড়ি, ঝুঁকিতে খাদ্যনিরাপত্তা

গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা, সামনে বড় পরীক্ষা

হারিয়ে যাচ্ছে সরাইলের চৌকস গ্রেহাউন্ড ডগ