হোম > আমার দেশ স্পেশাল > বিশেষ প্রতিবেদন

জ্বালানির দ্বিগুণ আমদানিতেও সামাল দেওয়া যাচ্ছে না সংকট

জিয়াউল হক মিজান

জ্বালানি তেলের আমদানি গত অর্থবছরে তার আগের অর্থবছরের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। একই সময়ে আগের বছরের চেয়ে আমদানি বেড়েছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং বিদ্যুতেরও। তবুও সারা দেশে তেল-গ্যাস-বিদ্যুতের জন্য হাহাকার বেড়েছে। বাসাবাড়িতে চুলা জ্বলছে না। ফ্যান ঘুরছে না। গাড়ির চাকা ঘোরাতে মিলছে না প্রয়োজনীয় সিএনজি। বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে শিল্পের চাকা।

ফ্যাসিবাদী আমলের সৃষ্ট অনিয়ম-লুটপাটের প্রভাব চূড়ান্তভাবে আঘাত হেনেছে পলায়নের দুই বছরের মাথায় এসে। বিশেষ করে গত বুধবার বিকালে মহেশখালীর এক্সিলারেটের এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে সংকট আরো ঘনীভূত হয়। সন্ধ্যার পর থেকেই বেড়ে যায় লোডশেডিং। পাম্পগুলোয় কমে যায় গ্যাসের প্রেশার। দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হতে থাকে জ্বালানির জন্য অপেক্ষারতদের লাইন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সদ্যবিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জ্বালানি তেল, এলএনজি ও সরাসরি বিদ্যুৎ মিলিয়ে জ্বালানি খাতে মোট আমদানি ব্যয় হয়েছে দুই লাখ ৯ হাজার ৪৪ কোটি মার্কিন ডলার। অপরদিকে আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ খাতে ব্যয় হয়েছিল এক লাখ ৩৭ হাজার ৯৪ কোটি ডলার। অর্থাৎ জ্বালানি বাবদ এক বছরে আমদানি ব্যয় বেড়েছে ৬৫.৫৮ শতাংশ। যদিও বাড়তি আমদানির পরও জনগণের ভোগান্তি না কমে বরং বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অপরিশোধিত তেল, ডিজেল, গ্যাস অয়েল, জেট ফুয়েল, ফার্নেস অয়েল, পেট্রোল, অকটেন প্রভৃতি আমদানিতে সরকারের ব্যয় হয়েছে ১০.৬৩ বিলিয়ন ডলার তথা এক লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে (২০২৩-২৪) আমদানি ব্যয়ের এ পরিমাণ ছিল ৮২ হাজার ৮৫ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কেবল জ্বালানি তেল বাবদ রাষ্ট্রের খরচ বেড়েছে প্রায় ১০৭ শতাংশ। অপরদিকে বিদায়ী অর্থবছরে এলএনজি আমদানি বাবদ ব্যয় হয়েছে ৭৫ হাজার ৯২৯ কোটি টাকা। আর ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়েছে ২১ হাজার ১১৫ কোটি টাকার। আগের অর্থবছরে এলএনজি ও বিদ্যুতের আমদানি ব্যয় ছিল যথাক্রমে ৫৪ হাজার ৯৫৪ কোটি এবং ১৯ হাজার ২২৫ কোটি টাকা।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেবল অপরিশোধিত তেল আমদানিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১২০ কোটি মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরে এ ব্যয় ছিল মাত্র ৬২ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরে অপরিশোধিত তেল আমদানির ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৯২ শতাংশ। অপরদিকে পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম, তেল ও লুব্রিকেন্টস পণ্য আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ৯৪৪ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরে এ ব্যয় ছিল ৪৫১ কোটি ডলার। ফলে এ খাতে ব্যয় বেড়েছে ১০৯.১ শতাংশ। অর্থাৎ জ্বালানি আমদানির মোট ব্যয়ের সিংহভাগই এসেছে পরিশোধিত জ্বালানি থেকে। ডিজেল, গ্যাস অয়েল, জেট ফুয়েল, ফার্নেস অয়েল, পেট্রোল, অকটেনসহ বিভিন্ন পরিশোধিত পণ্যের দাম বাড়ায় বাংলাদেশের ওপর আমদানি ব্যয়ের চাপও দ্রুত বেড়েছে।

জ্বালানি আমদানির ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ অপরিশোধিত তেলের তুলনায় পরিশোধিত পণ্যের দাম বেশি হারে বেড়ে যাওয়া। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গ্যাস অয়েল, ডিজেল ও জেট ফুয়েলের মতো পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্যের গড় আন্তর্জাতিক দাম প্রায় ১৭ দশমিক ছয় শতাংশ বেড়ে টনপ্রতি ৮৩৫ ডলারে উঠেছে। অন্যদিকে, একই সময়ে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ১০.৪ শতাংশ। বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানির বড় অংশই যেহেতু পরিশোধিত পণ্য, তাই আন্তর্জাতিক বাজারে পরিশোধিত জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব বাংলাদেশের ওপর তুলনামূলকভাবে বেশি পড়ে। এছাড়া ভারত থেকে গত বছর সর্বোচ্চ দামে বিদ্যুৎ কিনেছে বাংলাদেশ। বিপিডিবির তথ্যানুযায়ী, গত অর্থবছরে আদানির প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম পড়েছে ১৪.৮৬ টাকা। আগের অর্থবছরে এ দাম ছিল ১৩ টাকার মতো।

সারা দেশে তীব্র লোডশেডিং

এদিকে এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে দেশজুড়ে লোডশেডিং তীব্র আকার ধারণ করেছে। মধ্যরাতের পরও দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে গৃহস্থালি কাজ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প উৎপাদন। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্যানুসারে, তালিকাভুক্ত ১৪৩টির মধ্যে অন্তত ৬২টি বিদ্যুৎকেন্দ্র জ্বালানি সংকটে রয়েছে। এর মধ্যে ২৬টি গ্যাসভিত্তিক, ৩৩টি তরল জ্বালানিভিত্তিক ও দুটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এর ফলে দৈনিক গড় বিদ্যুৎ উৎপাদন ঘাটতি দাঁড়ায় ১,৪৮২ মেগাওয়াট, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৩২০ মেগাওয়াট। দীর্ঘস্থায়ী এই ঘাটতির কারণে বিতরণ কোম্পানিগুলোকে বিভিন্ন এলাকায় পালাক্রমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং করতে হচ্ছে। গ্রীষ্মজুড়ে যে স্বল্প সময়ের লোডশেডিং ছিল, তার বদলে এখন দিনে-রাতে নির্দিষ্ট বিরতিতে গ্রাহকদের বারবার দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দুপুর ১২টায় জাতীয় গ্যাস সঞ্চালন লাইনে মোট সরবরাহ ছিল ২,২৮৯ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি)। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাওয়া যায় ১,৬২৮ মিলিয়ন ঘনফুট এবং এলএনজি থেকে ৬৬১ মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু সন্ধ্যা ছয়টার দিকে এলএনজি সরবরাহ কমে ৫৬২ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসে। দেশীয় উৎস থেকে তখন সরবরাহ ছিল প্রায় ১,৬২৭ মিলিয়ন ঘনফুট। এতে জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস প্রবাহ কমে দাঁড়ায় ২,১৮৯ মিলিয়ন ঘনফুটে। ফলস্বরূপ গতকাল বৃহস্পতিবার সারাদিনই বিদ্যুৎ সংকট ছিল চরমে।

জানা যায়, ১,৩২০ মেগাওয়াট সক্ষমতার কয়লাভিত্তিক পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র বর্তমানে প্রায় অর্ধেক সক্ষমতায় চলছে। এসএস পাওয়ার, রামপাল ও পটুয়াখালীসহ আরো কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র কয়লার সংকট বা রক্ষণাবেক্ষণজনিত কারণে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। সরবরাহ কমে যাওয়ায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ৫,২০০ মেগাওয়াট থেকে কমে প্রায় ৩,৫০০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে। গ্যাস সংকটে বিদ্যুতের এই ঘাটতি পূরণে পিডিবি এখন ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রায় ৩,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের চেষ্টা করছে বলেও জানান তিনি। পরিস্থিতি এতটাই সংকটাপন্ন, চাহিদার সর্বোচ্চ সময়ে (পিক আওয়ার) পিডিবিকে ডিজেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রও চালাতে হচ্ছে।

পিজিসিবি জানায়, দেশের আটটি বিভাগেই বর্তমানে লোডশেডিং চলছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি ঢাকা বিভাগে। সাভার, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল উল্লেখযোগ্য বিদ্যুৎ সংকটে পড়েছে। বেশি ঘাটতির তালিকায় রয়েছে ময়মনসিংহ, খুলনা, রাজশাহী ও রংপুর। পিডিবির উৎপাদনবিষয়ক সদস্য জহুরুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে আগে ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি গ্যাস সরবরাহ হতো, বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে। বিদ্যুতের ঘাটতি কমাতে ব্যয়বহুল উৎসের দিকে যেতে হচ্ছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (পিডিবি)।

গ্যাস সংকট আরো তীব্র হয়েছে

এক্সিলারেটের এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাজধানীর সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাস সংকট আরো তীব্র হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে মিলছে সামান্য গ্যাস, কোথাও আবার স্বল্পচাপের কারণে বন্ধ রাখতে হচ্ছে স্টেশন। এতে বিপাকে পড়েছে চালক ও পরিবহন খাত সংশ্লিষ্টরা। এ কারণে ‎সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে গ্যাস সংকটে নগরবাসীর ভোগান্তি বেড়েছে। ভোর রাত থেকে রাজধানীর সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যাস পাচ্ছেন না চালকরা। আবার গ্যাসের চাপ না থাকা এবং সরবরাহ বন্ধ থাকায় রাজধানীজুড়ে বন্ধ রয়েছে বেশ কিছু ফিলিং স্টেশন। সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রাইড-শেয়ারিং সেবার সঙ্গে যুক্ত অনেক চালক বলছেন, সময়মতো গ্যাস না পাওয়ায় তারা যাত্রী পরিবহন করতে পারছেন না। এতে দৈনিক আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। আর গৃহস্থালি গ্যাসের চুলায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আগুন জ্বলছে না। ফলে লাকড়ি কিংবা ইলেক্ট্রিক চুলায় রান্না করে খেতে হচ্ছে নগরবাসীকে।

ক্ষুদ্র কারখানায় অলস সময়

ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন সারা দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রায় এক কোটি ২০ লাখ কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের কারখানা। এসব প্রতিষ্ঠান দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ৩০ শতাংশের বেশি অবদান রাখে। এসব প্রতিষ্ঠানে তিনি কোটি মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। এসব কারখানার শ্রমিকদের দিনের অধিকাংশ সময় অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে কখন বিদ্যুৎ আসবে। কোনো কোনো এলাকায় এখন দিনের প্রায় অর্ধেক সময় লোডশেডিং থাকছে। বিদ্যুতের কারণে উৎপাদন বন্ধ থাকায় এসব কারখানায় উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। সময়মতো অর্ডার সরবরাহ করতে ব্যর্থ হওয়ায় ছুটে যাচ্ছে গ্রাহক।

সংকটের মুখে চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা গ্যাস সংকট আরো তীব্র হচ্ছে। পুরোপুরি এলএনজিনির্ভর হওয়ায় ভোগান্তি বেড়েছে চট্টগ্রামের বাসাবাড়ি, সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও শিল্প-কারখানায়। নগরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনের সামনে গ্যাসচালিত যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। অধিকাংশ গণপরিবহন রাস্তায় নামতে না পারায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। ব্যস্ত সড়কগুলোতে বাসের অপেক্ষায় দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এ সুযোগে কোনো কোনো চালক বাড়তি ভাড়া দাবি করছেন বলেও অভিযোগ যাত্রীদের।

গতকাল দুপুরে ষোলোশহরের ফসিল ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের জন্য লাইনে দাঁড়ান শামসুল আলম নামের এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক। কিন্তু পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তিনি গ্যাস পাননি। তিনি জানান, ১৫-২০ দিন ধরে হচ্ছে গ্যাসের সমস্যা। আমাদের গাড়ি চালাতে হয় গ্যাস দিয়ে, গ্যাস না পেলে আমরা কীভাবে সংসার চালাব। সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো ধরনের সমাধানের কথা শুনছি না। এখন আমাদের অন্য পেশার দিকে চলে যেতে হবে।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) উপ-মহাব্যবস্থাপক (বিতরণ) রফিক খান জানান, চট্টগ্রামে ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুটের স্বাভাবিক চাহিদার বিপরীতে বুধবার সকাল ১১টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সরবরাহ করতে পেরেছে ১৮৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) একজন কর্মকর্তা বলেন, বুধবার দুপুরে এক্সিলারেটের টার্মিনালে সরবরাহযোগ্য এলএনজির মজুত শেষ হয়ে যায়। এরপর জাতীয় গ্রিডে গ্যাস দেওয়া বন্ধ হয়। তবে সামিটের টার্মিনাল সচল রয়েছে। সেখান থেকে দৈনিক প্রায় ৫৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩,৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বুধবার রাত ৮টায় সরবরাহ হয়েছে ২,১৮৫ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ চাহিদার মাত্র ৫৭.৫ শতাংশ সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে। ঘাটতি ছিল প্রায় ১,৬১৫ মিলিয়ন ঘনফুট।

ভালুকায় ২০ শিল্পকারখানা প্রায় বন্ধ

ময়মনসিংহের ভালুকায় গ্যাস সংকটে ২০টি শিল্পকারখানা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। কাজ করতে না পারায় কর্তৃপক্ষ ধাপে ধাপে শ্রমিকদের ছুটি দিয়ে দিচ্ছে। গ্যাসের চাপ না বাড়লে কয়েক দিনের মধ্যে আরো কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শিল্প পুলিশ-৫ (ময়মনসিংহ ইউনিট)-এর হিসাব অনুযায়ী, এ অঞ্চলের ২৯৩টি শিল্পকারখানার মধ্যে ৯৯টি গ্যাসচালিত। বর্তমানে এসব কারখানা গ্যাস সংকটে ভুগছে। মালিকপক্ষ জেনারেটর ও বিদ্যুৎ ব্যবহার করে আংশিক উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা করছে। তারপরও অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

গ্যাস সরবরাহের বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ময়মনসিংহের ভালুকা আঞ্চলিক কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (সিস্টেম অপারেশন) শামীম হোসেন বলেন, ভালুকা এলাকার জন্য ১৪০ ও ১৫০ পিএসআইয়ের দুটি পৃথক লাইনে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। কিন্তু বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে ৩০ থেকে ৫০ পিএসআই গ্যাস। সরবরাহ কম পাওয়ায় গ্যাসের চাপ কমে গেছে।

[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন চট্টগ্রাম ব্যুরো ও ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি]

মর্নিং নিউজ: ইসরাইলকে তুরস্কের কঠোর হুঁশিয়ারি

মিলাদুন্নবী ও উম্মতের করণীয়

গ্যাস সংকটে তলানিতে সারের মজুত

দারিদ্র্য জয় করে সুমাইয়ার জিপিএ অর্জন, স্বপ্ন এখন উচ্চশিক্ষার

চট্টগ্রাম নগরীর আয়তন বাড়ানোর পরিকল্পনা

সিরাতচর্চায় পরিশীলিত জীবন

আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মাহমুদুল

সেই কনিকার বাড়িতে গেলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

গ্রেনেড হামলা মামলায় তদন্তের ত্রুটি ও আইনি অবসান

কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ইরানে সরকার পতনের হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের