হোম > আমার দেশ স্পেশাল > বিশেষ প্রতিবেদন

গঠিত হচ্ছে সড়ক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ ও দুর্ঘটনার কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ

মাহফুজ সাদি

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে উন্নত বিশ্বের ‘সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ মডেলে বাংলাদেশে নেওয়া সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পের আওতায় প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ এবং জাতীয় ক্র্যাশ ডেটাবেজ প্রস্তুতকরণ ও প্রয়োগ।

বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় পরিচালিত এ পাইলট প্রকল্পে দুই মহাসড়কের ১৪০ কিলোমিটার নিরাপত্তা করিডোরে উন্নীত করা, প্রায় ৫০০ কিলোমিটার মহাসড়কে আন্তর্জাতিক মানের সড়ক নিরাপত্তা ফিচার্স স্থাপন, ৬০ হাজার চালককে নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ দেওয়া, সড়ক নিরাপত্তায় জনসচেতনতা ক্যাম্পেইন, হাইওয়ে পুলিশের জন্য ৮০টি প্যাট্রোল মোটরসাইকেল কেনা, ৬০টি বেসিক লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স কেনা, ঢাকার জন্য ৪০টি মোটরসাইকেল অ্যাম্বুলেন্স কেনা, সমন্বিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, দুর্ঘটনা শনাক্তকরণ ব্যবস্থা, দুর্ঘটনা-পরবর্তী জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন উদ্যোগ ও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সড়ক নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশ রোড সেফটি প্রজেক্টটি চারটি সংস্থার মাধ্যমে সমন্বিতভাবে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির মূল বাজেট চার হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা ধরা হলেও বিশ্বব্যাংকের ঋণ কমে যাওয়ায় দুই হাজার ৮০০ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। সে হিসাবে প্রকল্পটির প্রকিউরমেন্টের ৯০ শতাংশ এবং আর্থিক ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে ভৌত কার্যক্রম দৃশ্যমান হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ২০২৩ সালের মে থেকে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত চলমান এ প্রকল্পের বিভিন্ন কাজের প্রক্রিয়াগত অগ্রগতি হয়েছে। কিছু কাজ এখনো প্রক্রিয়াধীন থাকলেও আগামী দুই মাসের মধ্যে দৃশ্যমান কাজে নামতে চান তারা। এ প্রকল্পে যুক্ত রয়েছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ), বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ), বাংলাদেশ পুলিশ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। প্রধান সংস্থা হিসেবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নেতৃত্বে এসব সংস্থার মাঝে সমন্বয়ের মাধ্যমে যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মডেলটি ফলপ্রসূ প্রমাণিত হলে পরে সারা দেশের সব মহাসড়কে তা অনুকরণ করা হবে।

উপপ্রকল্প পরিচালক আবুল বরকত মো. খুরশীদ আলম জানান, এ প্রকল্পের সবচেয়ে জটিল হিসেবে দেখা হয় যে প্রকিউরমেন্টে, তার ৯০ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে। আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এখন ফিজিক্যাল ওয়ার্ক চলতে থাকবে।

প্রকল্পের অগ্রগতির বিষয়ে কর্মকর্তারা জানান, সওজের দুই মহাসড়কের ১৪০ কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে ৭০ কিলোমিটার জয়দেবপুর-এলেঙ্গা এবং ৭০ কিলোমিটার নাটোর-গোদাগাড়ী মহাসড়ক। এক্ষেত্রে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। উভয় সড়কে নির্ধারিত অংশ সিসি ক্যামেরার আওতায় এনে কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটর করা হবে। পুরো বিষয়টি Integrated Traffic Management and Incident Detection System (ITMIDS)-এর অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

এছাড়া প্রায় ৫০০ কিলোমিটার মহাসড়কের প্রযোজ্য অংশে আন্তর্জাতিক মানের সড়ক নিরাপত্তা ফিচার্স স্থাপনের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং দুটি চুক্তি অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন। এর মধ্যে রয়েছেÑজয়দেবপুর থেকে রাজশাহী (২২৭ কিমি), জয়দেবপুর থেকে ময়মনসিংহ (১০০ কিমি), হাটিকুমরুল থেকে রংপুর (১৭০ কিমি) এবং ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকা। ফলে দুর্ঘটনা-পরবর্তী স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আসবে ৬৪০ কিলোমিটার এলাকা। হাইওয়ে জিওমেট্রিক ডিজাইন ম্যানুয়াল যুগোপযোগী করে হালনাগাদের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। সওজ কর্মচারীদের সড়ক নিরাপত্তাসংক্রান্ত প্রশিক্ষণের ব্যাপারে দরপত্র আহ্বানের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

এদিকে, বিআরটিএর মাধ্যমে ৬০ হাজার গাড়িচালককে নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম মে মাস থেকে শুরু হয়েছে। সড়ক নিরাপত্তাসংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনের চুক্তি সম্পাদন কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন কনটেন্ট প্রস্তুতকরণ এবং প্রচার গত ঈদের সময় থেকে শুরু হয়েছে। বিআরটিএ সিস্টেমগুলো কার্যকরভাবে একীভূতকরণের দরপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়াধীন। বিআরটিএ ম্যানুয়ালগুলো হালনাগাদকরণের দরপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়াধীন। জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা অথরিটি গঠনের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমের দরপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়াধীন।

হাইওয়ে পুলিশের জন্য ৮০টি প্যাট্রল মোটরসাইকেল সরবরাহ করা হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশের জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের ডিজাইন সম্পন্ন হয়েছে। পূর্তকাজের দরপত্র আহ্বান প্রক্রিয়াধীন। এরই মধ্যে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। পাইলট করিডোরে আইটিএমআইডিএস স্থাপনের চুক্তি সম্পাদন প্রক্রিয়াধীন এবং জাতীয় ক্র্যাশ ডেটাবেজ প্রস্তুতকরণ ও প্রয়োগের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাইলট করিডোর ও তৎসংলগ্ন মহাসড়কে দ্রুত দুর্ঘটনাত্তোর সেবা দিতে অ্যাম্বুলেন্স ফ্লিট ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। ৬০টি বেসিক লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করা হচ্ছে চলতি সপ্তাহে। ৪০টি মোটরসাইকেল অ্যাম্বুলেন্স কেনার চুক্তি অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন। ইমার্জেন্সি মেডিকেল সার্ভিস প্রোটোকল ও ট্রমা রেজিস্ট্রি প্রস্তুতকরণের দরপত্র মূল্যায়ন এবং ডাক্তার ও নার্সদের বেসিক ও অ্যাডভান্সড ট্রমা লাইফ সাপোর্ট প্রশিক্ষণের দরপত্র আহ্বান প্রক্রিয়াধীন। সক্ষমতা বৃদ্ধি প্যাকেজের আওতায় মুগদা জেনারেল হাসপাতাল, টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল ও রাজশাহী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগগুলোকে আধুনিকীকরণ করা হচ্ছে।

প্রকল্পের পরিচালক এবং সওজের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাব্বির হাসান খান বলেন, সড়ক নিরাপত্তার জন্য কেবল নিরাপদ রাস্তা হলেই হবে না, এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মাঝে সমন্বয় প্রয়োজন। এ প্রকল্পের মাধ্যমে এ কাজগুলোই করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সমন্বয় করে কাজ এগোচ্ছে।

বাংলাদেশ রোড সেফটি প্রজেক্টের মূল বাজেট চার হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা ধরা হলেও বিশ্বব্যাংকের ঋণ কমে যাওয়ায় সে আকার দুই হাজার ৮০০ কোটি টাকায় নামিয়ে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংকের ঋণের প্রায় দুই হাজার ১০০ কোটি টাকা, বাকিটা বাংলাদেশ সরকারের। শুরুতে এ প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের তিন হাজার ৭৫৯ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার কথা ছিল। পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে সরে যাওয়ার পর এ খাতে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে এই একটিমাত্র প্রকল্পে অর্থায়ন করে বিশ্বব্যাংক।

প্রকল্প সূত্র জানায়, প্রকল্পটি দুই হাজার ৮০০ কোটি টাকায় নেমে আসায় অবজেক্ট ঠিক রেখে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাটছাঁট করা হয়েছে। প্রকল্পটির আওতায় আসার কথা ছিল এক হাজার কিলোমিটার, যা কমিয়ে ৬৪০ কিলোমিটার এলাকা করা হয়েছে। এছাড়া পূর্ত ও ভৌতসেবার সময়, পরামর্শক নিয়োগ, চালকদের ট্রেনিংয়ের সময়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে খরচ কমানো হয়েছে।

অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ শাহীন সরকার আমার দেশকে বলেন, এ প্রকল্পের প্রক্রিয়াগত কাজের অনেকগুলোই প্রায় শেষপর্যায়ে রয়েছে। শিগগির ফিজিক্যাল ওয়ার্ক সড়কে দেখতে পাব।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদন বলছে, গত বছর ছয় হাজার ৭২৯ সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ১১১ জন নিহত এবং ১৪ হাজার ৮১২ জন আহত হন। স্বেচ্ছাসেবী আরেক সংগঠন রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান সাত হাজার ৩৫৯ জন এবং আহত হন ১৬ হাজার ৪৭৬ জন। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএর তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় দেশে পাঁচ হাজার ৪৯০ জনের মৃত্যু হয়।

কেন্দ্রীয় কোনো ডেটাবেজ না থাকায় বছরে দুর্ঘটনা ও হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা মেলে না। বেসরকারি সংগঠনগুলোও বলছে, তাদের প্রতিবেদনের চেয়ে এ সংখ্যা আরো বেশি। তবে বিআরটিএর হিসাবেই দেশের সড়কে সর্বোচ্চ মৃত্যু হয় গত বছর। বেসরকারি সংগঠনগুলোও বলছে, দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে হতাহত বেড়েছে। একই ভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় সড়ক দুর্ঘটনা ও তাতে হতাহতের হার ক্রমবর্ধমানভাবে ঊর্ধ্বমুখী।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান আমার দেশকে বলেন, বিপুল ব্যয়ে কিছু অবকাঠামোগত উন্নয়ন করলেই সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় না। দুর্ঘটনা-পরবর্তী পদক্ষেপের পাশাপাশি দুর্ঘটনা কমানোর ব্যবস্থাপনা নিয়েও কাজ করতে হবে। সড়কগুলোর উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে ফিটনেসবিহীন গাড়িসহ যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, দক্ষ চালক তৈরি করতে হবে। তা না হলে এ প্রকল্পের কারণে কিছুটা দুর্ঘটনা হয়তো কমবে কিন্তু দুর্ঘটনার কারণগুলো নিয়ে কাজ করা বেশি জরুরি। সেজন্য পুলিশ, বিআরটিএ, সওজ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরÑসবপক্ষকে সড়ক আইন বাস্তবায়নে আরো সক্রিয় ও সমন্বিত উপায়ে কাজ করতে হবে।

একাধিক বিশেষজ্ঞ বলেছেন, পুলিশের পক্ষ থেকে আগেই একটি ডেটাবেজ করা হয়েছিল। পরে ২০১৮ সালে ‘অ্যাক্সিডেন্টইনফো’ নামে একটি অনলাইন দুর্ঘটনা তথ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেম চালু করেছিল পুলিশ। এর মাধ্যমে সব থানায় নির্ধারিত ফরমে দুর্ঘটনার তথ্য পুলিশ সদর দপ্তরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা শাখায় পাঠানোর কথা। কিন্তু সেগুলো মুখথুবড়ে পড়েছে। এখন সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পে নতুন সিস্টেমে না গিয়ে আগেরগুলো আরো কার্যকর করতে পারে।

অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান বলেন, ডেটাবেজটা বিজ্ঞানভিত্তিক হতে হবে। শুধু দুর্ঘটনা আর হতাহতের পরিসংখ্যান দিলে হবে না। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণসহ বিভিন্ন তথ্য থাকতে হবে। উন্নত দেশের এমন ডেটাবেজের ফরমে অনেকগুলো ঘর থাকে, প্রতিটি দুর্ঘটনার বিপরীতে ওই ঘরগুলো পূরণ করতে হয়।

জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তিনি বলেন, ন্যাশনাল রোড সেফটি কাউন্সিল আছে। তারা কাজ করছে এবং অনেক সুপারিশ আসছে। বিআরটিএ আছে। নতুন নতুন অথরিটি করে লাভ নেই, তাদের শক্তিশালী করার কাজটা করতে হবে।

মাত্র ছয় কার্যদিবসে রামিসা হত্যার রায়

অনিয়ম ঢাকতে সার্ভারে ত্রুটির দোহাই লেবার কাউন্সেলরের

নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকায় বারবার আগুন, বাড়ছে উদ্বেগ

ক্রসফায়ার-গুমের আড়ালে খুনিরা কি বেঁচে যাচ্ছে

অনিয়মে জড়িত বিটিআরসির এক ডজন কর্মকর্তা

প্রাথমিকেই নিভে যায় বস্তিবাসী শিশুদের শিক্ষার আলো

বাংলাদেশেও রাজনৈতিক হত্যায় ভারতের সম্পৃক্ততা

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগকে অর্থদাতা ১৫ ব্যবসায়ী নজরদারিতে

পুষ্টিহীনতায় বিভিন্ন রোগের ঝুঁকিতে বস্তিবাসী শিশুরা

মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস