হোম > আমার দেশ স্পেশাল > বিশেষ প্রতিবেদন

ভারত থেকে ঢুকছে মাদক-অস্ত্র

আবু সুফিয়ান

আমার দেশ গ্রাফিক্স

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সীমান্তঘেঁষা গ্রামীণ সড়ক দিয়ে যাওয়ার পথে রাস্তার পাশের বড় বড় গাছ আর বিদ্যুতের খুঁটিগুলোতে একটি অদ্ভুত দৃশ্য চোখে পড়ে। সেখানে স্পষ্ট অক্ষরে রঙ দিয়ে লেখা, ‘মাদককে না বলুন—এমপি বাবুল’।

তবে এ আহ্বানের ঠিক বিপরীত চিত্র মিলেছে গত ১৪ এপ্রিল। ওইদিন র‍্যাবের হাতে ধরা পড়েন লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী-কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুলের ভাতিজা ইলিয়াছ হোসেন ওরফে লিটন। তার নিজ বাড়ির গোয়ালঘর থেকে উদ্ধার করা হয় ভারত থেকে আসা কোডিনযুক্ত নিষিদ্ধ সিরাপ ‘এসকাফ’-এর একটি চালান।

এ বিষয়ে এমপি বাবুল ১৯ আগস্ট আমার দেশকে টেলিফোনে বলেন, ‘প্রতিপক্ষরা ষড়যন্ত্র করে আমার ভাতিজাকে মাদকে ফাঁসিয়েছিল। পরে র‌্যাব বিষয়টি জানতে পেরে আর বাড়াবাড়ি করেনি। একটি বিশেষ মহল আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। আপনারা চাইলে সরেজমিন বিষয়টি যাচাই করে দেখতে পারেন।’

লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা—ভারত সীমান্তঘেঁষা এ চার জেলা ঘুরে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও সীমান্তপথে মাদকের কারবার এতটুকু কমেনি। বদলেছে কেবল নিয়ন্ত্রণের হাত। যেসব কারবারি একসময় আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের ছত্রছায়ায় ব্যবসা চালাতেন, তাদের অনেকে এখন সক্রিয় নতুন ক্ষমতাবলয়ের প্রভাবশালীদের আশ্রয়ে।

সিসি ক্যামেরায় উল্টো পুলিশের ওপর নজরদারি, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবহার, নারী ও শিশুকে বাহক বানানোর মাধ্যমে সীমান্ত পেরিয়ে মাদক ঢোকার কৌশল ক্রমেই জটিল হচ্ছে। আর হুন্ডি ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এই কারবারের লেনদেন চলছে প্রায় নির্বিঘ্নে।

গত ১২ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত টানা কয়েকদিন সীমান্তের প্রায় ১৫টি পয়েন্ট অনুসন্ধান করেছেন আমার দেশের প্রতিনিধিরা। রংপুর ব্যুরোপ্রধান বাদশা ওসমানি, কুড়িগ্রামের আব্দুল্লাহ আল মুজাহিদ, লালমনিরহাটের হাসান উল আজিজ, কুমিল্লার এম হাসান ও শাহ আলম শফি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মফিজুর রহমান লিমন সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে ভারত থেকে আসা মাদক ও অস্ত্রের অনুসন্ধান করেন। তারা দুজন সংসদ সদস্য, বিজিবি ও পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা, সাংবাদিক, আইনজীবী, স্থানীয় লোকজন এবং সাবেক প্রায় ১০ জন মাদক কারবারির সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় নানা মামলার নথি থেকে মাদক জব্দ, কারবারিদের আটক ও পরে জামিনে বেরিয়ে একই কাজে যুক্ত হওয়ার প্রমাণ মিলেছে।

বালারহাটে সুপারি বাগানে মাদকের ডেরায়

কুড়িগ্রামে মাদক বিক্রির কয়েকটি স্পট ঘুরে সীমান্তঘেঁষা একটি বাড়ির খবর পাওয়া যায়। ১৭ আগস্ট সন্ধ্যায় ফুলবাড়ী উপজেলার বালারহাট পূর্ব ফুলমতি গ্রামে গেলে দেখা যায়, রাস্তাঘাট সুনসান। অপরিচিত মানুষ দেখলেই স্থানীয়রা সতর্ক হয়ে ওঠেন। তাই স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর সহায়তায় সেখানে যাওয়া হয় সার ব্যবসায়ীর পরিচয়ে।

সেখানে সুপারি বাগান পেরিয়ে দেখা মেলে একটি আধপাকা বাড়ির। বাইরে থেকে ভেতরের কিছু বোঝার উপায় নেই। তবে কিছুক্ষণ পরপরই চোখে পড়ে মোটরসাইকেলের আনাগোনা আর কান পাতলে শোনা যায় চাপা গুঞ্জন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভারত থেকে আসা সবচেয়ে বড় চালানগুলো সরাসরি ঢোকে এ বাড়িতে আর এ কারবারের নিয়ন্ত্রণে আছেন বাড়ির মালিক সাজু মিয়া।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সাজু মিয়ার উত্থান হয়েছিল ফুলবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম রাব্বানীর হাত ধরে। প্রায় ১৭ বছর ধরে এ সীমান্ত এলাকার মাদক কারবারের নিয়ন্ত্রণ ছিল তা হাতে। জুলাই বিপ্লবের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

কিন্তু তাই বলে কারবার থামেনি। সাজু মিয়ার বাড়িটি আগেও মাদকের ঠিকানা ছিল, এখনো তা-ই। সাজু মিয়া কারবার চালাচ্ছেন নতুন এক পৃষ্ঠপোষকের ছত্রছায়ায়। এখন তাকে শেল্টার দিচ্ছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী, যিনি ভোল পাল্টে এখন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলে ভিড়েছেন।

গভীর রাত পর্যন্ত ওই বাড়িতে চলে বেচাকেনা। সকাল থেকেই শুরু হয় আরেক দৃশ্য—উপজেলা ও জেলা শহর থেকে মোটরসাইকেল এসে জড়ো হয় চালান নিতে। প্রাইভেট কারেও অনেককে আসতে দেখা যায়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এ পয়েন্ট দিয়ে প্রতিদিন ভারত থেকে ঢুকছে ২০ পেটি গাঁজা। প্রতি পেটিতে ১৩ কেজি হিসেবে এর যার পরিমাণ দৈনিক ২৬০ কেজি। সঙ্গে আসছে ইয়াবা, ফেনসিডিল ও মদের চালান। স্থানীয়রা বলছেন, এ কারবারে যুক্ত সিন্ডিকেট সদস্যদের অনেকেই এখন তিনতলা বাড়ি, তেলের পাম্প ও মার্কেটের মালিক।

পুরোনো রুট, নতুন হাত

বালারহাটে যাওয়ার আগে এ প্রতিবেদক ঘুরেছেন লালমনিরহাটের বিভিন্ন স্পটে। ভারতের সঙ্গে এ জেলার প্রায় ২৪৮ কিলোমিটার সীমান্ত সুরক্ষার দায়িত্বে রয়েছে বিজিবি। এর মধ্যেও বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে দেদার আসছে ফেনসিডিল, গাঁজা, মদ ও ইয়াবা। বিশেষ করে কালীগঞ্জ উপজেলার গোড়ল ও চন্দ্রপুর ইউনিয়নের পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ।

পতিত আওয়ামী লীগের সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কাশীরাম ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য জিয়াউর রহমান জিয়ার ভাই জাকিরুল ইসলাম ওরফে জাকের কালীগঞ্জ মুন্সির বাজার রোডের অন্যতম মাদক কারবারি। এছাড়া এক সময়ের মেমোরি কার্ড, লোড ব্যবসায়ীও মাদকের পাইকারি কারবার করে বিশাল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

কুড়িগ্রাম জেলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) ও বিজিবির তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) বিভিন্ন অভিযানে উদ্ধার হওয়া মাদকের আনুমানিক মূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। এ সময় জেলাজুড়ে ১২১ কেজি গাঁজা, ৬,৮১১ পিস ইয়াবা, ১,০০৬ বোতল ফেনসিডিল, ২২০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট এবং ১৪ গ্রাম হেরোইন জব্দ করা হয়। এসব মাদক চোরাচালানের ঘটনায় দায়ের হওয়া ১৭৮টি মামলায় ১৩৭ জন কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অন্যদিকে লালমনিরহাটে চলতি বছরের বিভিন্ন অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে মাদকের একাধিক বড় চালান। গত ১৫ আগস্ট বিজিবি-১৫ ব্যাটালিয়নের অভিযানে ২১ লাখ টাকা মূল্যের ৭,০০০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।

রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম জানান, পুলিশের পাশাপাশি মাদক নির্মূলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকেও জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা চেকপোস্ট পেরিয়ে রাজধানীর পথে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা, আখাউড়া ও বিজয়নগর উপজেলার প্রায় ৭৩ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় বিজিবির নজরদারি থাকলেও মাদকের চোরাচালান থামছে না। মহাসড়কের চেকপোস্টে কিছু চালান ধরা পড়লেও প্রধান চালানগুলো নির্বিঘ্নেই ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে।

সরাইল ব্যাটালিয়নের (২৫ বিজিবি) ২০২৫ সালের ১ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৭ আগস্ট পর্যন্ত মাসভিত্তিক জব্দের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, উল্লিখিত সময়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ হয়। এ কার্যক্রমে সর্বমোট মাদকদ্রব্যের মূল্য ছয় কোটি ২৬ লাখ টাকার বেশি। সর্বোচ্চ এক কোটি ৯ লাখ টাকার মাদক জব্দ করা হয় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, অপরাধীরা বেশ শক্তিশালী হওয়ায় পুলিশের পক্ষে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। ৫ আগস্টের পর পুলিশের যানবাহন সংকট ও মনোবল হ্রাসের বিষয়টি মাথায় রেখে বিজয়নগর এলাকায় আরো দুটি পুলিশ ফাঁড়ি ও সদস্য বাড়ানোর বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ আব্দুর রউফ একটি চমকপ্রদ তথ্য দেন। তিনি জানান, মাদক কারবারিদের বড় চক্র এখন সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে উল্টো পুলিশের ওপরই নজরদারি করে। তবে ইতোমধ্যে সিসি ক্যামেরাসহ তাদের নজরদারি যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয়।

জেলা জজ আদালতের পিপি ফখর উদ্দিন আহম্মদ খান বলেন, ছোট মাদক কারবারিদের স্থানীয় আদালত থেকে সহজে জামিন দেওয়া না হলেও বড় আসামিরা হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে আসেন। ধরা পড়াদের অধিকাংশই ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকার বিনিময়ে পেটের দায়ে বহনকারী হিসেবে কাজ করেন। মূল কারবারিরা সাধারণত চালানের সঙ্গে থাকেন না।

অন্যদিকে কুমিল্লার ১০৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত এলাকার বিবিরবাজার, গোলাবাড়ী, শশীদলসহ প্রায় ৪৭টি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট দিয়ে মাদক প্রবেশ করছে।

বিজিবির রিজিওন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইফুল ইসলাম চৌধুরী জানান, গত তিন বছরে কুমিল্লায় বিজিবি ২০ হাজার ২০০ অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ৫২ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য জব্দ করে। এ সময়ে হাতেনাতে আটক হন ৫২৬ জন এবং পলাতক রয়েছে আড়াই শতাধিক আসামি ।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় কুমিল্লায় মাদক সহজলভ্য। পুলিশ দিনরাত মাদক উদ্ধার ও সেবনকারীদের গ্রেপ্তারে কাজ করে যাচ্ছে। এর মধ্যে ১৭ আগস্ট তিন লাখ পিস ইয়াবাসহ দুই কারবারিকে আটক করা পুলিশের একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য।

সাবেক কাউন্সিলর কাজী গোলাম কিবরিয়ার মতে, প্রশাসন ও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় কুমিল্লায় মাদক কারবার বেড়েছে। ক্ষমতার পালাবদলের পর নতুন চক্র এখন এ কারবারের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে এ অবৈধ কার্যক্রম চলছে।

কোন পথে ঢুকছে মাদক

জানা গেছে, ভারত থেকে মাদক পাচারের ক্ষেত্রে মূলত দুর্গম সীমান্ত, নদীপথ ও কাঁটাতারের বেড়ার ফাঁকফোকর ব্যবহার করা হচ্ছে।

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার জাওরানী ও লোহাখচি-চন্দ্রপুর সীমান্ত থেকে তিনটি প্রধান রুটে মাদক ছড়িয়ে পড়ে—চন্দ্রপুর থেকে চাপারহাট, কাকিনা ও মহিপুর হয়ে রংপুর; চাপারহাট থেকে শিয়ালখোওয়া, শান্তিগঞ্জ ও নামুড়ী হয়ে লালমনিরহাট ও ঢাকা এবং বড়দিঘীর পাড় হয়ে নদীপথে বড়াইবাড়ী ও গঙ্গাচড়া পার হয়ে রংপুর। এছাড়া বুড়িমারী স্থলবন্দরের বালু, পাথর ও খাদ্যবোঝাই ট্রাক বা বাসের লাগেজে করেও মাদক পাচার হয়।

কুড়িগ্রামের নাওডাঙ্গার গোরকমন্ডল, বালাতাড়ি, কুটিচন্দ্রখানা, শিমুলবাড়ি (নন্দিরকুটি ও মিয়াপাড়া), অনন্তপুর, গঙ্গারহাট, কাশিপুর (গিজালদার ও ধর্মপুর), বালারহাট ও কুরুশা-ফেরুশা সীমান্ত মাদকের ট্রানজিট। রৌমারী ও রাজীবপুরের প্রায় ৩০ কিলোমিটার সীমান্ত (আলগারচর, বড়াইবাড়ি, বকবান্দা, ফলুয়ারচর নৌকাঘাট ইত্যাদি) দিয়ে মাদক ঢুকে সড়ক ও জলপথে জামালপুর, ময়মনসিংহ, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় যাচ্ছে। আসাম সীমান্ত দিয়ে ১৪টি পয়েন্ট হয়েও মাদক আসছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার বায়েক ও কায়ুমপুর সীমান্ত (মাদলা, খাদলা, চকবস্থা ইত্যাদি) দিয়ে পাহাড়ি টিলাভূমি ও কাঁটাতারের নিচ দিয়ে মাদক এনে পরিত্যক্ত বাড়িতে জড়ো করা হয় এবং ট্রেন, ইজিবাইক বা সিএনজির মাধ্যমে পাচার করা হয়। আখাউড়ার রাজাপুর, আজমপুর, হীরাপুর, মোগড়া ও মনিয়ন্দ এবং বিজয়নগর এলাকার (কাশিনগর, নলগড়িয়া, সিংগারবিল) ৬২টি হটস্পট থেকে ঢাকা-সিলেট ও সিলেট-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ব্যবহার করে মাদকের চালান রাজধানীতে যায়।

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া, বুড়িচং, আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ ও চৌদ্দগ্রামের ৪৭টি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট দিয়ে মাদক প্রবেশ করে। নদীপথে বস্তা ভাসিয়ে, রেলপথে এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের টেকনিক্যাল মোড়, পদুয়ারবাজার, নিমসার ও কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক হয়ে বিভিন্ন যানবাহন ও অ্যাম্বুলেন্সে করে মাদক ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে পৌঁছাচ্ছে।

চোখ ফাঁকি দেওয়ার কৌশল

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে কারবারিরা অত্যন্ত অভিনব ও বহুমুখী কৌশল অবলম্বন করে। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া কেটে অথবা পাহাড়ি টিলাভূমি দিয়ে মাদক আনা হয়। নদীপথে পলিথিনে মুড়ে বা বালু-পাথর দিয়ে মাদক পানিতে ডুবিয়ে রাখা হয়। নদীপথে ভারত থেকে বিভিন্ন চিহ্নযুক্ত বস্তা বা পলিথিনের সঙ্গে খালি পানির বোতল, মবিলের বোতল বা কলাগাছ বেঁধে পানিতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। ভাটির দিকে থাকা কারবারিরা নির্দিষ্ট চিহ্ন দেখে তা সংগ্রহ করে।

ফেনসিডিল ও ইয়াবা ছোট বল বা পুঁটলির মধ্যে ভরে ওপার থেকে এপারে ঢিল ছুড়ে ফেলা হয় এবং পরে বিজিবি-বিএসএফের গতিবিধি বুঝে তা তুলে নেওয়া হয়।

মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার, বাস, ট্রাক, অটোরিকশা এবং মোটরসাইকেলের ট্যাংকি, টিউব, গ্যাস সিলিন্ডার, শ্যালো ইঞ্জিনের ভেতর এবং খিলি পানের ভেতর ইয়াবা ভরে পাচার করা হয়। এছাড়া পাথরবাহী ট্রাক, মাছের পোনাবাহী ড্রাম, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স ও ইজিবাইকের সিটের তলার খুপড়িতে লুকিয়ে মাদক পাচার করা হয়।

এর পাশাপাশি মেয়েদের শরীরে মাদক বেঁধে বোরকা পরে এবং ভিআইপি পরিচয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর বা সচিবালয়ের গাড়ির স্টিকার ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়ানো হয়।

মাদক সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রধানত শিশু-কিশোর ও নারীদের বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে তারা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাদক পৌঁছে দেয়।

হাতবদল হওয়া সিন্ডিকেট ও অধরা গডফাদার

রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটলেও থামেনি এ অবৈধ কারবার; বরং আগের চেয়ে এর পরিধি আরো বিস্তৃত হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা মিলেমিশে গড়ে তুলেছে এ সিন্ডিকেট।

মাদকের এ বিশাল কারবারের বাণিজ্যের লেনদেন টিকিয়ে রাখতে ব্যবহার করা হচ্ছে হুন্ডি নেটওয়ার্ক। এর পাশাপাশি বেনামি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, বিকাশ, নগদ, রকেট এবং ভারতীয় জি-পে ও পেটিএমের মতো অনলাইন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার লেনদেন চলছে।

স্থানীয় রাজনীতি এবং মাদক সিন্ডিকেট চক্র যেন মিলেমিশে একাকার। পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একশ্রেণির নেতাকর্মী মিলেমিশে এ ব্যবসা চালাচ্ছে। নতুন রাজনৈতিক বলয়ের নেতারা এখন এর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন এবং উপজেলা পর্যায়ের নেতারা এর ভাগ পাচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্যের নিয়মিত মাসোহারার কারণে মূল গডফাদার ও অর্থদাতারা সব সময় ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছেন।

মিলাদুন্নবী ও উম্মতের করণীয়

গ্যাস সংকটে তলানিতে সারের মজুত

দারিদ্র্য জয় করে সুমাইয়ার জিপিএ অর্জন, স্বপ্ন এখন উচ্চশিক্ষার

চট্টগ্রাম নগরীর আয়তন বাড়ানোর পরিকল্পনা

সিরাতচর্চায় পরিশীলিত জীবন

আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মাহমুদুল

সেই কনিকার বাড়িতে গেলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

গ্রেনেড হামলা মামলায় তদন্তের ত্রুটি ও আইনি অবসান

কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ইরানে সরকার পতনের হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের

দেহে কৃত্রিম পরিবর্তন নিষিদ্ধ